আল্লাহ যখন কোন জাতির কাছে নবী বা রাসুল প্রেরণ করেন এবং সে জাতি তাদের কথা অমান্য করে, তখন আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষা করেন। প্রথম পরীক্ষা নেয়া হয় অবাধ্য লোকদেরকে অর্থনৈতিক ও শারীরিক ক্ষতি ও রোগ ব্যাধির সম্মুখীন করে, যাতে তারা পরিণতির দিকে লক্ষ্য করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। যখন তারা সংশোধন হয় না তখন দ্বিতীয় পরীক্ষাটি নেয়া হয় ধন-সম্পদের প্রবৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দানের মাধ্যমে। তাতে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করে যেন আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। যারা ফিরে আসে না তারা বলতে শুরু করে -এটা কোন নতুন বিষয় নয়। সৎ বা অসৎ কর্মের পরিণতিও নয়। বরং এটা প্রকৃতির নিয়ম। কখনও সুখ কখনও দুঃখ, কখনও দারিদ্র কখনও সচ্ছলতা এমনই হয়ে থাকে। আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও এমন অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে।-
অতপর আল্লাহর শাস্তি যখন অকস্মাৎ আসে তখন তাদের হায়-হুতাশ করা ছাড়া আর পথ থাকে না।
অতীতের অবাধ্য জাতিদের পরিণতিও এমন হয়েছে। তারা বলতো -কোথায় তোমার খোদা, কোন শাস্তি আসছে না কেন- আরো বলতো- তোমরা হলে আমাদের সমাজের নীচ শ্রেণি। অথবা নবীকে বলতো তোমার অনুসারী হলো কিছু পাগল ও আমাদের গোলামরা। আমরা কীভাবে তোমাকে নেতা মানব-
এভাবে অবাধ্য অন্যায়কারীদের কথা যৌক্তিক শোনাত। এসব কথা এখনও শোনা যায়। এখনও ইসলাম বিরোধীরা মুমিন-মুসলিমদেরকে সেকেলে, গোড়া, প্রগতি ও উন্নতির পথে অন্তরায় কিছু ছোটলোক হিসেবে উপস্থাপন করে।
অতীতের জাতিসমূহের জীবনকাল আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তাই এটা ভাবার অবকাশ নেই যে আমাদের মতো অল্প সময়ের মধ্যে তারা শাস্তির শিকার হয়েছে। বহু বছর দাওয়াত ও সুযোগ পাওয়ার পর তারা ব্যর্থ হয়েছে। পবিত্র কুরআনে যেসব জাতি গোষ্ঠীর ধ্বংসের কথা আছে তারা দীর্ঘদেহী এবং দীর্ঘজীবী ছিল।
আমাদের প্রিয় নবী সঃ দোয়া করেছেন যেন তার উম্মতের কোন জাতিকে হঠাৎ আযাব দিয়ে ধ্বংস করা না হয়। আমাদের উপর আযাব বড় আকারে আসবে না। তবে আমাদের মৃত্যু হঠাৎ আসে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



