somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হারুণ (ভিক্ষুক)

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাস খানেক আগের কথা -
সকালে হাটতে বের হয়েছি, পকেটে টাকা নিয়ে বের হইনি। হারুণের সাথে দেখা। সেই একই ভঙ্গিতে মাটিতে যুবুথুবু হয়ে বসা। গায়ের টি-শার্টটা দিয়ে হাটু দুইটা ঢাকা। জিজ্ঞাসা করলাম
- হারুণ আছো কেমন?
হারুণ মেজাজ গরম করে জবাব দিলো
- টেকা দেওনা, পইশা দেওনা। ভালা থাকি কেমনে?

আমি একটু অবাকই হলাম। হারুণকে আমি প্রত্যেকদিন না দিলেও কয়দিন পরপর টুকটাক টাকা দেই। প্রতিদিনই সে আমাকে বিজ্ঞের মত বলে
- টেকা কিছু না। হারুন টেকার জন্য মরে না।
কিন্তু আজ হারুণের হলোটা কী? পকেটে টাকা নিয়ে বের হইনি। তাই কী আর বলবো, হাটা ধরলাম। হারুন বিরক্ত হয়েই বল্লো
- তুমি খালি কথা কও, টেকা দেও না।

হাটছি আর ভাবছি - সকাল বেলা আমরা তিন জন সাধারণত এক সাথে হাটি। আমি, ইসহাক ভাই আর আলম ভাই। ইসহাক ভাই প্রচন্ড মজার মানুষ। কোন্ এক অদ্ভত কারনে তিনি হারুণকে পছন্দ করেন না। আমাকে প্রায়ই বলেন
- মিয়া আপনে সরল মানুস তাই বুঝতেছেন না, বেটা কিন্তু চরম ধান্দাবাজ। একটু ডিফরেন্ট ভেক ধরছে অন্যদের চাইতে বেশী কামানোর জন্য।

যাই হোক, আমি নেগেটিভলি ভাবছিলাম না। আমি উত্তরায় নিয়মিত থাকছি না। প্রিয়'র জন্য তার নানা-বাড়ীতেই বেশী থাকা হচ্ছে। মনে পড়লো, হরুণের সাথে শেষ দেখা হয়েছিলো দু্ই মাস আগে। তখন দেখেছিলাম তাকে মশায় কামড়াচ্ছে। বলেছিলাম, হারুণ তোমারে তো মশায় কামড়াচ্ছে। তখন হারুন খুব বিরক্ত হয়ে বলেছিলো - কামড়াউক, খাইয়া বাইচ্চা থাক। ৫০০ টেকার ঔষধ খাইয়া আমি বাইচ্চা আছি; এরা আমারে মাগনা খাইয়া বাইচ্চা থাকুক।
-০-
আজ সকাল বেলা চিন্তা করলাম হারুণকে টাকা দিবো কিন্তু কথা বলবো না। অন্যদের মত টাকা দিয়ে চলে যাবো। দেখি কী করে। করলামও তাই।
টাকা দিয়ে হনহন করে হাটা ধরলাম। হারুণ ডাক দিলো
- খারাও
আমি কাছে গেলাম না, দাড়ালাম।
-বলো হারুণ
- তুমি টেকা দিসো কেন? হারুণ কি টেকার জন্য মরে?
আমি কিছু বল্লাম না। হারুণ আবার বলা শুরু করলো
- তুমি আসো না। আমি খালি এই দিক তাকাই (বলে ঘার ঘুরালো) আবার ঐদিক তাকাই (অন্য দিকে এবার ঘার ঘুরালো) তোমারে পাইনা। প্রত্যেকদিন তোমারে খুঁজি, পাইনা। হারুণ তোমার কাছে টেকা চায়?
-০-
হঠাৎ করেই মনে হলো। ভিক্ষুক হলেওতো তার টাকার প্রয়োজন আছে। একটু পাগলও সে, তাই টাকা কামানোর রেগুলার রাস্তায় সে যাবে না। টাকার প্রয়োজন যে তার শেষ কয়টা দিন ছিলো তা টের পেলাম। হারুণের ভালোবাসাকে কি আজ টাকাটা এমন করে দিয়ে অপমান করলাম?

আমি ছাপোষা মানুষ। নিজের পরিবারের সবার চাহিদাই ঠিকমত পূরণ করতে পারিনা। হারুণের মত মানুষজনদের আমি কিভাবে পুনর্বাশণ করবো?
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×