somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্যালেনটাইন ডে...

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বন্ধু-বান্ধব এইটা কোন কাজ করলো :( !
ভালোবাসা দিবসের অর্ধেকটা দিন চলে গেলো, কেউ একজন বল্লো না
- অরুণ ভাই, বিশেষ এই দিনে আপনার লেখা কই?

অন্তত একজনও যদি এই কথা বলতেন তখন একটা ভাব নিতে পারতাম। এমন একটা সুখ সুখ ভাব যে
- নাহ ভক্ত পাঠকদের অত্যাতারে দেখি এখন থেকে দিন ফিন ও মনে রাখতে হবে। আর পারি না...

বন্ধুরা এই সুখ সুখ অত্যাচারটা করলো না। তাই কি আর করা, যা লেখবো ভেবেছিলাম তা আর লেখা'র মুখ থাকলো না। অন্য কিছু লেখি -
-০-
ভালোবাসা'র সাথে আমার একটা সম্পর্ক আছে। বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলতে গেলে বলতে হবে, বিকর্ষণ-ধর্মী সম্পর্ক। ঘটনা বুঝায়ে বলি -

দুই জন মিলে যে পুতুপুতু টাইপ একটা সম্পর্ক হয় তা আমার হয়নি। কিন্তু প্রাকৃতিক কারণেই তার প্রতি একটা মোহ তো ছিলই। তবে ভালোবাসা না হওয়ার পিছনে যে কারণগুলো আমি দাঁড় করিয়েছি তা হলো

- সহপাঠীরা কেন জানি আমাকে ভাই, আপনি, নেন, দেন টাইপ কথা বলতো। আমার জীবনে তুমি, তুই বলা বন্ধুর সংখা খুবই কম। এই ভাগ্য নিয়ে আমি জন্মাইনি।

- বন্ধুদের বোনদেরকে আমার নিজের বোন মনে হতো। কেবল মনে হতো আমি তো আমার বন্ধুরই ফটোকপি। অতএব বর্তমানে, অবর্তমানে আমিও তার ভাই। ভাই মানে, ভাই। একেবারে আপন ভাই।

- বাসে লং জার্ণি করার সময় মনে মনে একটা সুখ সুখ কাজ করতো। বাসা থেকে যখন বের হতাম তখনই ভাবতাম, আহা পাশে একজন সুন্দরী...। বিধি ডান কখনোই হয়নি, বিধি সব সময় বাম হতো। পাশে বাজখাই ধরনের ভ্রু বাঁকা লোকজনই জুটতো আমার পাশে। তবে এতেও একটা এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ পেতাম। বাস থেকে যখন আমরা নেমে যেতাম তখন ঐ মানুষটা বন্ধু হয়ে যেতো। বিদায় দেওযার সময় এমন ভাবে তাকিয়ে থাকতো যেন আহারে লোকটা চলে যাচ্ছে! আমি নিশ্চিৎ থাকতাম, আমার চলে যাওযা পিঠের উপর দুইটা চোখের মায়া ভরা দৃষ্টি বার বার আছড়ে পরছে।
-০-

বিয়ে হলো, গিন্নি যে আমাকে ভালো বাসে না তা না। তবে তার ভালোবাসার ধরণটা একটু ভিন্ন। যার হাতে পেইন্ট করার ব্রাশ আছে সে রং মাখাবে। যার হাতে ছুড়ি আছে সে ছুড়ি দিয়ে খোঁচা দিবে। এইটাই স্বাভাবিক। আমার গিন্নি মুখে ছুড়ি নিয়ে জন্মেছেন। উদাহরণ দেই -

- আমি নাক ডাকি। ভাগ্নি যখন বল্লো, মামা আপনার নাক ডাকায় তো আমি পর্যন্ত ঘুমাইতে পারি না! তখন ভাবলাম বউয়ের না জানি কত কষ্ট হয়। মহিলাদের নাকের নথের মত দেখতে একটা যন্ত্র কিনে বাসায় গেলাম। বউরে দেখায়ে বল্লাম
- বউ নাক ডাকার পার্মানেন্ট সলোশান করে ফেল্লাম। এই দেখো কী আনছি।
বউ কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে যন্ত্রটা দেখলেন। এর পর মুখের ছুড়িতে মধু মাখায়ে বল্লেন
- আর কোন ফাইজলামি পাও না? ফালাও এই ফালতু জিনিস।
তিনি কিন্তু আলটিমেটলি বুঝায়ে দিলেন, আমার নাক ডাকাটাও তার পছন্দ :)। কিন্তু মুখে বল্লেন না।
-০-
সব নদি সাগরে মিশে, যদি সে সোভাগ্যবান হয়। মাঝে যদি কোথাও শুকিয়ে না যায়। সব ভালোবাসাই (ভ্যালেনটাইন বলতে যে ভালোবাসা বুঝায়) কাছে টানে। কাছে যাবার পর টুপ করে মাঝে একটা গিফ্ট চলে আছে স্বর্গ থেকে। এই গিফ্টটাই হলো জীবন-নদীর সাগর। দ্যা আলটিমেট টার্গেট। আমাদের এই স্বর্গীয় গিফ্ট এর নাম প্রিয়। এখন কোনটা ভ্যালেনটাইন, কোনটা লাভ, কোনটা এফেয়ার, কোনটা কী তা আলাদা করে বুঝি না। সব কিছুই এখন গিয়ে প্রিয়'তে ঠেকে।

প্রিয় যেদিন বড় হবে। তার ভাগ্য তার বাবার মত প্রেমের অভিজ্ঞতাহীন কাটে কি না কে জানে। তবে হ্যাঁ যদি সুস্থভাবে বেঁচে থাকি তবে এমন ভ্যালেনটাইন দিন গুলাতে বাপ-বেটা বের হবো। আর যদি বাপের খড়া কাটায়ে উঠে ছেলেটা প্রেম টেম করতে পারে তাহলে দূর থেকে দেখবো ছেলেটা বাপের মত রোমান্টিক হয়েছে কি না। ঐদিনের আশায় এডভান্স ভ্যালেনটাইন ডে প্রিয়।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×