আজ মণিং ওয়াকে মানিব্যাগ নিয়ে বের হইনি।
লেকের পাড় হারুণকে যখন ক্রস করছি তখন ভাবছি - চট করে চলে যাই, ব্যাটা হয়ত খেয়াল করবে না। হারুণকে ক্রস করার পরই দেখি ডাক দিলো
- শোনো...
ডাকের মধ্যেই কেমন যেন একটা দাবি। একটু সামনে চলে গিয়েছিলাম। দুই কদম পিছনে আসলাম
- বলো হারুণ, আছো কেমন?
- তুমি খালি চইলা যাও!
বল্লাম, হারুণ আজতো মানিব্যাগ নিয়া বের হই নাই।
- তোমার কাছে হারুণ ট্যাকা চাইছে? হারুণের তোমার লগে ট্যাকার সম্পর্ক!
এইযে আমি হারুণকে নিয়ে আমি লেখি। এবং সকাল বেলা হাটতে বের হলেই মনে হয় ওর সাথে দেখা হবে। এর একটাই কারণ, লোকটা মজা করে কথা বলে। আবার মাঝে মাঝেই মনে হয়, এত মজা করে কথা বলে, এত কিছু বুঝে এর পরেও ভিক্ষা কেন করে লোকটা!
যাই হোক, কী বলবো খোঁজে পাচ্ছি না। হারুণ বল্লো
- তোমার লগে তো আমারও মিল আছে
- কোন দিক দিয়া মিল হারুণ?
- তোমারও মা নাই, আমারও মা নাই।
উত্তরা পাঁচ নম্বর সেক্টরের লেকের পাড়ের এই ভিক্ষুক হারুণকে তো আমি পাগল মনে করতাম। তার স্মৃতিতে সে আমাকে এমন করে ধরে রেখেছে তা আন্দাজ করিনি।
হারুণ বল্লো
- তুমি আসলে আমার সাথে কথা না কইয়া যাইবা না।
মায়া'র সম্পর্কেও কিন্তু এক্সপেক্টেশান থাক। তবে তার ধরণটা একটু আলাদা হয় এই যা। আমার মা ও বলতেন
- বাবু ব্যস্ত থাকলে, ফোন কইরা মা কইয়া ডাক দিয়া রাইখা দিও। ফোন না দিয়া থাইকো না।
কিন্তু মায়ার গভীরতা যত বেশী হয়, আমরা অবহেলা তারে তত বেশী করি। মনে করি, আছেই তো। কিন্তু সারা জীবন এই আছেইতো বলে ফেলে রাখা মানুষগুলো থাকেনা। আর চলে যাওয়ার পর এই শূন্যতা পূরণও হয় না। কেবল এই বিশাল মায়ার স্মৃতিজুড়ে থাকে বিশাল একটা হাহাকার...।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



