প্রিয়.কমের সামনে দাঁড়ায়ে বল্লাম
- আমি প্রিয়'র বাবা।
জাকারিয়া স্বপন ভই হলেন প্রিয়.কমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। তিনি ভ্রু কুঁচকাইলেন। অবশ্য মাত্র এক সেকেন্ডের এক হাজার ভাগের এক ভাগের জন্য। এর পর শিশুদের মত নিষ্পাপ, সুন্দর একটা হাসি দিলেন। কড়া করে হাত ঝাকায়ে আমার সাথে হেন্ডশেক করলেন। বল্লেন
- প্রিয় কেমন আছে?
তার মানে উনি প্রিয়কে এত দ্রুত মনে করতে পারলেন! এর পর নিজেই হাসি দিয়ে বল্লেন
- ও তো দেখি শুধু চশমা ভাঙ্গে! গত দিনেরটা মিলায়ে মোট কয়টা জানি হইলো? সাতটা, তাই না?
আমি বল্লাম, হুম সাতটা।
কে বলে মানুষের বত্রিশটা দাঁত? যে কেউ আমাকে তখন দেখলেই বুঝতেন মানুষের দাঁত আসলে নিদেনপক্ষে চৌষট্টি টা।
জাকারিয়া স্বপন ভাইয়ের সাথে দেখা হইলো ইন্টারনেট সপ্তাহের অনুষ্ঠানে, বনানীতে। তিনি ষ্টলের একটা ছেলেকে বল্লেন
- এই, একটা টি শার্ট নিয়া আসো।
ছেলেটা একটা প্রিয়.কমের টি শার্ট নিয়ে আসলো। জাকারিয়া ভাই ছেলেটাকে বল্লেন
- কেন উনাকে টি শার্টটা দিলাম, জানো?
ছেলেটার জানার কোন আগ্রহ দেখা গেলো না। তবু তিনি বল্লেন
- উনার ছেলের নাম প্রিয়।
আমার দিকে তাকায়ে বল্লেন
- আপনি না বল্লে কিন্তু আমি বুঝতাম না আপনি যে প্রিয়'র বাবা।
অবশ্য তিনি না বল্লেও বিষয়টা আমি জানি। আমার ছবির সাথে বাস্তবের চেহারার কোন মিল নাই। এর প্রমানও পাইলাম কয় দিন আগে। বিল্ডিং এর সব ভাবীরা আমাদের বাসায় আসলেন। কফি খাইতে খাইতে চার তলার ভাবী দেওয়ালে আমার ছবি দেখে বল্লেন
- ও তিনি আপনার সাহেব? দেখতেতো স্মর্ট আছে!
আমি পাশের রুমেই ছিলাম। কেউ তা খেয়াল করেন নাই। এই সুযোগে তিন তলার ভাবী তখন বল্লেন
- ভাই সামনা সামনি অত সুন্দর না। ছবিতেই সুন্দর আসে।
আহরে, তিন তলার ভাবী একটু আগে আমাকে বনানী মাঠে দেখলেন না। দেখলে, অবশ্যই বলতেন
- নাহ ভাইয়ের চেহারা অত খারাপ না।
কারন প্রিয়কে জাকারিয়া স্বপন ভাই চট করেই চিনে ফেল্লেন। এই গর্বে আমি পুলকিত।
সন্তানের কারনে পিতা যখন গর্বিত হন, তখন নিশ্চয়ই সেই চেহারা দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর চেহারা।
থ্যাংকিও জাকারিয়া স্বপন ভাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


