ট্রেনে বাড়ী যাচ্ছি, দেখি রিক্সা'র টায়ার ফাঁটার মত টাস, টুস শব্দ। ঘাড় উঁচায়ে দেখি রেলওয়ে পুলিশ এক তরুনরে চড় মারতেছে। পুলিশের বয়স তিরিশ এর মত, লাম্বা, সুদর্শণ, স্মার্ট, শার্টের উপরের বোতাম খোলা। আর যাকে চড় মারছে, তার বয়স পনেরো কি ষোলো, টোকাই টোকাই চেহারা।
ট্রেনের দুই বগি'র মাঝের জায়গায় ঘটনা ঘটছে। ঘাড় বাঁকা করে সবাই দেখছে। কিন্তু কারো মুখে কোন প্রতিবাদ নাই। "ও আচ্ছা আমার ঘাড়েতো পড়ে নাই" ভাব। আমি উঠলাম। প্রিয়'র মা বাধা দিলেন না। শুধু বললেন
- বাড়াবাড়ি কিছু কইরো না।
দূর থেকে পুলিশ লোকটাকে সুন্দর মনে হচ্ছিলো। কাছে গিয়ে দেখি একেবারে সিনেমার নায়কদের মত সুন্দর। আগেও দেখেছি, বেশীরভাগ সুন্দর ছেলেদের মধ্যে একটা অহংবোধ থাকে। লোকটার মধ্যে এই বোধ একটু বেশীই বেশী। ভ্রু কুঁচকে সামনে গিয়ে দাঁড়াইলাম। বললাম
- ভাই, কী সমস্যা এইখানে?
আমি ভাবছিলাম, আমাকে পাত্তা না দিয়ে, দূর্ব্যবহার করবে। প্ল্যান এ, প্ল্যান বি, প্ল্যান সি সবি চিন্তা করে ফেলেছি এরই মধ্যে। কিন্তু না! একটু নরম হয়েই বললো
- বিনা টিকিটে উঠছে।
বললাম
- বিনা টিকিটে উঠলে, আপনি এরেষ্ট করেন। গায়ে হাত তুললেন কেন?
এবারও ভাবছিলাম, উত্তেজিত হবে। কিন্তু না! মিনমিন করে বললো
- দূর্ব্যবহার করছে।
বললাম
- ওরে আদব কায়দা শিখানের আপনিতো কেউ না! দূর্ব্যবহার করার জন্য গায়ে হাত তুলার অধিকার আপনারে কে দিলো!
চড় খেয়ে ছেলেটা থতমত। আমার কথা শুনে কাঁনতেছে। পুলিশ সাহেব চুপ। বললাম
- ছেলেটা টিকিট না কেটে আইন ভাঙ্গছে, আপনি ওর গায়ে হাত তুলে আইন ভাঙ্গছেন। এবার দেখেন সহজ কোন সমাধানে যাওয়া যায় কি না। ছেলেটারে নেক্সট স্টেশনে ছেড়ে দিবেন কি না, তা বলছি না। দেখেন যা ভালো মনে করেন।
প্ল্যান বি, সি কোন কিছুই আর ব্যবহার করা লাগলো না। সিটে এসে বসলাম। সামনের সিটের ভদ্রলোক বললেন
- আমি এমন একটা পেশায় আছি, পাবলিকলি প্রতিবাদও করতে পারি না।
বাংলাদেশের সবাই পেশাদার। কেউ কেউ অন্তত প্রতিবাদী হোক।
আমি অপেক্ষা করে আছি, পরের স্টেশনে ছেলেটাকে নেমে যেতে দেখি কি না...
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



