কাক একটা ঝাড়ু'র শলাকা টানাটানি করতেছে। আমি মনে মনে ভাবতেছি, কাক এত বুদ্ধিমান প্রাণী! অথচ এতক্ষণ ধরে এর টানাটানি করা লাগে? দূরের ছাদে, তাই ভালোমত দেখতে পাচ্ছিলাম না। যখন উড়ে কাছে আসলো, তখন দেখি ঠোঁটে আট, দশটা শলাকা! তারমানে একটা একটা করে না নিয়ে সে অনেকগুলা করে নিয়ে যাচ্ছে। পাশের গাছে উড়ে গিয়ে বসলো। সেখানে বাসা বানাচ্ছে।
কোকিলের এমনি কণ্ঠ বড়ই কর্কশ। বসন্তে যখন প্রেমিকাকে কাছে টানতে ডাকাডাকি করে, তখন কণ্ঠে আহ্লাদের কুও কুও ডাক বের হয়। সাথে সাথেই মনে হইলো, আরে! কোকিলতো কিছু দিন পর ডিম দিবে! আর বুদ্ধিমান কাকের বাসা থেকে একটা ডিম ফেলে দিয়ে নিজে সেখানে সুযোগ বুঝে ডিম দিয়ে আসবে।
বিষয়টা হইতে পারে, কাক এই ক্ষেত্রে বুঝেই না যে ডিমটা কোকিলের। একটা কথা আছে-
কাকের বাসায় কোকিলের ছা
জাত-আনমান করে রা।
মানে, ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার পরেও কাক আর কোকিল দেখতে একই রকম। কাক বেচারাই এরে খাওয়ায় নিজের বাচ্চা মনে করে। কিন্তু যখন বড় হয়, তখন কা কা না ডেকে তখন কোকিলের মত করে ডেকে উঠে। এদ্দিনে বাচ্চাটা বড় হয়ে যায়। সে এখন স্বয়ংসম্পূর্নভাবে বাঁচতে প্রস্তুত।
অবশ্য এমনও হইতে পারে, কাক বুদ্ধিমান বলেই জেনেশুনে এই সেক্রিফাইটা করে। সে জানে কোকিল অলস, সে বাসা বাঁধবে না। তাই অন্যের ডিম জেনেও সে ডিমে তা দেয়, বাচ্চা ফুটায়। আর এখানেই চালাক আর বুদ্ধিমানের পার্থক্য। চালাক, নিজের লাভ ছাড়া কিছু বুঝে না। এতে অন্যের ক্ষতি হলেও তার কিছু যায় আসে না। আর বুদ্ধিমান আগে অন্যের লাভ দেখবে, পরে অন্যের ক্ষতি না হলে নিজের সুবিধার কথা ভাববে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



