somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বীরপ্রতীক উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড

২৭ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ১৯১৭ সালের ডিসেম্বরে নেদ্যারল্যান্ডের আমস্টারডামে। তিনি জড়িয়ে আছেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সাথে। এই মহান মানুষ কর্ম জীবন শুরু করেছিলেন বাটা জুতা কোম্পানিতে। নাত্সি আক্রমন প্রাক্কালে ১৯৪০ সালে ডাচ রয়েল সিগন্যালসের আমন্ত্রনে সার্জেন্ট হিসাবে কাজ করেছিলেন। তিনি নাৎসি বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছিলেন কিন্তু POW ক্যাম্প থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। সেখান থেকে বের হয়ে তিনি আরও ভালভাবে জড়িয়ে পড়েন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। তিনি অনর্গল জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারতেন যা তার জন্য সুবিধাজনক ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে তিনি আবার বাটা কোম্পানিতে ফিরে এসেছিলেন।
তিনি ঢাকা এসেছিলেন ১৯৭০ সালে বাটা কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসাবে। ১৯৭১ সালের শুরুতে সিইও হন। ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাত্রি তিনি দেখেছিলেন। নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের উপর পাকিস্তানিদের পশুসুলভ আক্রমন তাঁকে বিচলিত করে এবং তিনি মুক্তিবাহিনীকে নৈতিক সমর্থন দেন। আমাদের দুর্ভাগ্য একজন বিদেশী মুক্তিবাহিনীদের সমর্থন দিয়েছিলেন কিন্তু কিছু স্বদেশী তখনও রাজাকার ছিল এখনও রাজাকার আছে। তিনি নিজের তোলা ২৫ মার্চ কালরাত্রির ছবি আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
বহুজাতিক কোম্পানির সিইও হিসাবে জেনেরাল টিক্কা খান ও নিয়াজির সাথে উনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং এই যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি অনেক তথ্য মুক্তিবাহিনীকে পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি গোপনে টঙ্গি আশপাশের এলাকায় যুবকদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দিতেন। তিনি তার পরিবারকে সরিয়ে দিয়েছিলেন যাতে তার বাসভবন মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্রের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়।
আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদানের জন্য তিনি বীরপ্রতীক উপাধি পেয়েছেন। তিনি ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ছিলেন, এরপর অস্ট্রেলিয়ায় স্থানান্তর হন এবং সেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ার একটি হসপিটালে মারা যান।
আমি এই তথ্য গুলো তাদেরকে জানাচ্ছি যারা প্রকাশ্যে অথবা গোপনে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলে এবং রাজাকারদের সমর্থন করে। তাদের কথা মনে হলে আমার ঘৃণার উদ্রেক হয়।
সূত্রঃ ইন্টারনেট।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১২ ভোর ৬:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন সাইলেন্ট নাইট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:০১



কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স কমান্ড সেন্টার। চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক থাকতে হয় এই আধুনিক কন্ট্রোল রুমে। রাত তখন ২টা ৪৭ মিনিট।

হঠাৎ করেই দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে সেন্টমার্টিনের আকাশসীমায় এমার্জেন্সি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ দাগের খিদা

লিখেছেন রাজসোহান, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৫৭



আমার দাদা মাটিতে টানা দাগ পার হতে পারতেন না।

কথাটা যত সহজে লিখে ফেললাম, ব্যাপারটা তত সহজ না। দড়ি পার হতেন। বাঁশ পার হতেন। ক্ষেতের আইল, হালের ফালে ওল্টানো মাটি, সাঁকো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মর্যাদা কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মাপা যায় না...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬



একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মর্যাদা কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মাপা যায় না...

বিউটি রাণী পালঃ ২০২৬ সালে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। একটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকান জীবন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৪

গত সপ্তাহে এক আত্মীয়র বিয়েতে গিয়েছিলাম। কনে বাংলাদেশী বাবা মার আমেরিকায় জন্ম নেয়া বাঙালি, বর সাদা আমেরিকান। সমবয়সী, দুজনের বয়সই বাইশ বছরের মত। বর ইসলাম গ্রহণ করেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×