somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা পিশাচের গল্প।।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনাটা বরিশালের বাউফল থানার মুলাদি গ্রামের। ঘটনাটা ৪০ বছর আগের। আমার এক নিকট আত্বীয়ের ঘটনা ও
তার কাছ থেকে শোনা। তার ভাষায় বলছি। আমার বয়স তখন ২২ বছর। আমার বাবার খুবই ডায়রিয়া হয়েছিল। গ্রামের এক কবিরাজকে দেখিয়েছি এবং সে বলে যত তারাতারি সম্ভব শহরে নিয়ে ভাল ডাক্তার দেখাতে। কারন তখনকার দিনে গ্রামের দিকে কোন ডাক্তার ছিল না। আর শহর ছিল ২৫কিঃ মিঃ দূরে। ভাল রাস্তা তখন ছিল না। যোগাযোগের একমাত্র উপায় ছিল নদীপথ। শহরে যেতে হবে নৌকায় করে। বাবাকে নিয়ে যখন রওয়ানা করি তখন বেলা ১২ বাজে। প্রথমে আঁকাবাঁকা ছোট খাল পেরিয়ে বড় নদী ও তার ঐ পাড়ে শহর। শহর পৌঁছাইতে আরো ঘন্টা আড়াই লেগেছে। বিকাল ৫টার দিকে বাবা মারা যায়। বাবার লাশটা নিয়ে আমি আবার বাড়ির
দিকে রওয়ানা দেই। বড় নদীটা যখন পার করে খালের দিকে নৌকা ঢুকাই তখন দেখতে পাই নৌকা আর চলছে না, কাঁদায় আটকে গিয়েছে। তখন ভাটা চলছে। জোয়ার আসবে রাত ১২টার দিকে। তখন সময়টা আনুমানিক সন্ধ্যা সাডে ৬ টা হবে। শীতের কাল থাকায় ঐ সময়ে অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল চারপাশ। আকাশের জোছনার আলো ছিল খুব। জনমানব শূন্য একটি স্থানে এসে নৌকাটা আর চলছে না। খালটার বাম পাশে একটু দূরে একটি পরিত্যক্ত শ্বশান আর ডান পাশে গভীর জঙ্গল। জঙ্গলের বটগাছগুলো দানবের মত দাঁড়িয়ে আছে, বটগাছের ডালে কিছু বাদুর ঝুলে আছে। এতটাই নির্জন জায়গায় যে কোন শব্দ হলেই বুকের ভিতরে কেমন যেন করে ওঠে। ভয়ে
বাবার লাশটা স্পর্শ করে বাবার পাশে বসে থাকি। শুধু অপেহ্মা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। একটা চাদর দিয়ে বাবার লাশটা ঢেকে দিয়েছি। রাত যত বাডতে থাকে ভয় ততটাই তীব্র হতে থাকে। মনে হয় জঙ্গল থেকে কিছু একটা বেড়িয়ে এসে আমাকে ধরবে। হঠাত
নৌকাটা কেমন যেন একটু দুলে উঠলে মনে হল আমার মৃত বাবা নডে উঠছে। বাবার ঠান্ডা শরীর থেকে হাতটা সরিয়ে নেই। দোয়া যতটুকু পাড়ি সবই পড়তে চেষ্টা করছি কিন্তু ভয়ে কিছুই মনে আসছিল না। ইচ্ছা করছিল চিত্কার করে বাচাঁও বাচাঁও বলি। কিন্তু আমি জানি আমার এই চিত্কার কারো কানে পৌছাবেনা। না পারছি এখান থেকে যেতে, না পারছি থাকতে। নিজের মৃত বাবাকেও ভয় করছে।
আনুমানিক রাত ১১টার দিকে একটা ছায়া দেখতে পেলাম বট গাছের অড়াল থেকে বেডিয়ে আমাদের নৌকার কাছে আসলো ও আমাকে জিজ্ঞাসা করলো "তুমি কি ঐদিকে যাবা?" লোকটি একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে আছে ও তার মুখটা চাদরে ডাকা ছিল। লোকটি ইশারায়
যে দিকে দেখালো ঐ দিকেই আমরা যাচ্ছি। লোকটিকে বললাম জোয়ার আসলে যাব। লোকটি নৌকায় উঠলো ও বাবার কাছে বসলো কিন্তু বাবার সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞাসা করলো না। একদৃষ্টিতে বাবার লাশটার দিকে চেয়ে ছিল। লোকটার মুখটা আমি তখনো দেখতে পাই নি। এই গহীন জঙ্গলে এতরাতে তার আগমনের কারনটা পর্যন্ত জানতে ইচ্ছা করছে না বরং তার আগমনে একটু সস্তি পেলাম। রাত ১২টার দিকে জোয়ার আসলে আমি নৌকাটা চালাতে শুরু করি। নৌকা যত সামনের দিকে যাচ্ছে ততই একটা গন্ধ নাকে লাগছে। ধীরে ধীরে গন্ধের তীব্রতা বাড়তে থাকে। কিছু কচুরিপনা, কলাগাছ ও মরা একটা গরুর ফুলে থাকা দেহ একসাথে জটলা করে এমনভাবে নৌকার সাথে আটকে আছে যে আমি অনেক চেষ্টা করে ও নৌকাটাকে কিছুতেই সামনের দিকে নিতে পারছিনা। বাধ্য হয়ে আমি নৌকা থেকে পানিতে নেমে নৌকা রশি ধরে টানতে থাকলাম। প্রায় ৫ মিনিট টানার পর আমি নৌকার কাছে আসি। তখন যা দেখলাম বুকের ভিতর কেমন যেন করে উঠলো। দেখি লোকটা বাবার বুকের কাছে বসে বারার বুকের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে কলজেটা বের করে নিয়ে এসেছে। তখন আমি কোন উপায় না দেখে বৈঠাটা হাতে নিয়ে লোকটার মাথায় আঘাত করি একাধিক বার। লোকটা আমার দিকে যখন ঘুরে তখন ঠিক গলার মাঝখানে বৈঠাটা ঢুকিয়ে দেই। এতে লোকটা পানিতে পড়ে যায়। আমি পানিতে খুব জোরে জোরে বৈঠা দিয়ে আঘাত করি ও চিত্কার করি সাহস থাকলে সামনে আয়। চাঁদের আলোতে লোকটার রক্তমাখা লোমশ হাতটা দেখেছিলাম। বড়বড় নখ ও
কোঠরে ঢোকানো চোখের নীল আভা মনে পড়লে বুকটা শুকিয়ে যায়। দাঁতগুলো লালত, খুব ছোট ছোট, তীক্ষ্ণ আর ধারালো। আমার চিত্কার শুনে টর্চলাইট নিয়ে কয়েকজন লোক ছুটে আসে তাদের সব কিছু খুলে বলি। সব কিছু শুনে তারা বাবার লাশটা দেখে। তখনও বাবার বুকের ছোপ ছোপ রক্তগুলো শুকায়নি। ঐ রাতটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাত। যে রাতের কথা আমি কখনো ভুলতে পারবো না। ঐটা ছিল একটা পিশাচ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×