somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিঠি

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রেজা,
শুধু নামটাই লিখলাম। এর আগে আর বিশেষণ লেখার প্রয়োজন মনে করছি না। কারন, যে শব্দটি রীতিগতভাবে এখানে লেখা উচিত ছিল বলে মনে করা হয় তা তুমি আমার কাছে সব-সময়ের জন্যই ছিলে । তাই লিখলেই কি বা না লিখলেই কি। বরং এখন তা উহ্য রাখাই শ্রেয়।

কাল একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম তোমাকে নিয়ে। খুবই অদ্ভুত একটা স্বপ্ন। তুমি আর আমি একইসাথে থাকছি। যেটা বাস্তবে কখনোই হবার নয়। কারন, প্রথমত , আমাদের এই একসাথে থাকাটা কোনো সমাজস্বীকৃত প্রথা অবলম্বন অথবা বলতে পারো সংসার করা- ব্যাপারটা এমন ছিল না। বাস্তবজীবনে তুমি কখনো এই স্বীকৃতি পেতে চাওনি কিংবা পাওয়ার চেষ্টাও করোনি। তুমি চাওনি কোন বন্ধনে বাঁধা পড়তে। শৃংখলহীন জীবনই ছিল তোমার সবসময়ের কামনা। দ্বিতীয় কারনটা হচ্ছে, এখন আর এরকমটা হবার কোনোরকম সম্ভাবনাও নেই। সেই সুযোগটা তুমিই দূরে ঠেলে দিয়েছো। সময় থাকতে আমাকে কোনও বাঁধনে বেঁধে রাখোনি। আজ তাই অন্য কেউ এসেছে আমাকে তার সাথে বেঁধে নিতে।
স্বপ্নে আরো অদ্ভুত লাগলো তোমার একটা প্রশ্ন শুনে। তুমি আমার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে আগ্রহ দেখিয়েছিলে, যা বাস্তবে তুমি কখনোই করতে না। বরং সবসময় তুমি তোমার পছন্দ-অপছন্দটাকেই প্রাধান্য দিতে। তোমার আগ্রহ ছিল শুধু আমার সান্নিধ্য পাবার। আমাকে তোমার লেখা-লেখির একটা ইন্সপিরিশন হিসাবে তুমি দেখতে সব-সময়। আমাদের কথোপকথন থেকে তুমি তোমার লেখার বিষয়-বস্তু খুঁজে নিতে। সেই কথোপকথনে পার্থিব সব বিষয়ের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।
কিন্তু শুধু গল্প-কবিতা লিখে বা পড়ে জীবনটা কাটিয়ে দেয়া যায় না। অন্তত আমার মত খুব সাধারনভাবে বাঁচতে চাওয়া কোন মানুষের পক্ষে তো নয়ই। তুমি সমাজকে উপেক্ষা করে বাঁচতে পারো, সামাজিক প্রথাগুলোকে অবজ্ঞা করতে পারো; কিন্তু আমার পক্ষে এগুলো উপেক্ষা করে বাঁচা সম্ভব না। তাই হয়ত আমরা একসাথে পথচলার প্রতিজ্ঞা করতে পারিনি কখনো।
আমার পাশে আজকে যে দাঁড়িয়ে আছে, সে হয়ত তোমার মত করে কবিতা, গান লিখতে পারে না, হয়ত দৈনন্দিন জীবনের কিছু বাঁধাধরা হিসেব আর রুটিনমাফিক জীবন যাপন ছাড়া সে আর কিছুই পারে না ; কিন্তু সে যা পারে তা তুমি কখনোই পারতে না বা তোমার সেই ইচ্ছাও ছিল না। তা হলো, সে অন্তত আমার চাওয়া-পাওয়াগুলোর মূল্য দিতে পারে। একতরফাভাবে সে শুধু নিজের সুখটা খোঁজে না , আমি কিসে খুশি হবো অর্থাৎ আমার ছোট ছোট চাওয়াগুলো আর কাছে অবহেলিত নয় কখনো।

তোমার কাছে সবসময়ের জন্যই একথাগুলো ছিল একঘেঁয়ে। তাই আর কথা বাড়িয়ে তোমাকে বিরক্ত করতে চাই না।
জানি, তোমাকে তোমার মত করে থাকতে দিলেই তুমি ভালো থাকবে। তাই তুমি তোমার মত করেই থেকো, সব-সময়ের জন্যই ভালো থেকো।

তনুজা

১৫টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×