somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারকাদের ধর্ম ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব কার?

০১ লা অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাধারণ মানুষ ও তারকাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বা অপ্রিয়তা ছাড়াও একটা বিস্তর ফারাক আছে। আমি একজন সাধারণ মানুষ আজকে যেকোনো কিছু নিয়ে লিখতে পারি, বলতে পারি বা যেকোনো ধরনের পোশাক পরিধান করতে পারি। সে বিষয়ে খুব বেশি লোক মাথা ঘামাবে না, কেউ আমাকে ধর্ম বা নৈতিকতার শিক্ষা দিতে আসবে না, কারণ আমি সাধারণ মানুষ। আমার বখে যাওয়াতে তাদের কিছুই যায় আসে না। কিন্তু একজন তারকা কি বলবে, কি লিখবে বা কি পরিধান করবে তা নির্ধারণ করে দিবে “তাদের” মত সাধারণ মানুষ।
দুটি প্রশ্ন। প্রথম প্রশ্ন- এই “তারা” বা “তাদের মত সাধারণ মানুষ” কারা? দ্বিতীয় প্রশ্ন- “তারা” কেন নির্ধারণ করে দিবে?

-প্রথমত- এই তারা হচ্ছে তারাই- যারা মনে করে তারা সবাইকে ধর্ম ও নৈতিকতার পাঠ শেখাবে। এই তারা হচ্ছে তারাই – যারা মনে করে তারাই নির্ধারণ করে দিবে কারা কি লিখবে, দেখবে, বলবে কিংবা কি পরিধান করবে।
দ্বিতীয়ত- তারা নির্ধারণ করে দিবেন কারণ “তারা” মনে করেন তারাই সঠিক ধর্ম ও নৈতিকতা জানেন। তাই এটা তাদেরই দায়িত্ব যে তারা সবাইকে ধর্ম ও নৈতিকতার শিক্ষা দিবেন।

-স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা- আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা ছিল। যে জায়গায় নির্বোধ সাধারণ মানুষের অবাধ বিচরণ সে জায়গায় এখন আর ভাল কিছু আশা করা যায় না। সংস্কৃতি কি হবে, সাহিত্য কেমন হবে, চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু কি হবে সে বিষয়ে সবার বক্তব্য নেয়া যাবে না। যে সাধারণ মানুষের সাহিত্যের ‘স’ নিয়ে কোন ধারণা নেই, সে মানুষের বক্তব্য অনুযায়ী সাহিত্য রচনা করলে তো সাহিত্যের সর্বনাশ হয়ে যাবে। একজন ধর্মীয় বোদ্ধার পরামর্শ অনুযায়ী সাহিত্য রচনা করলে, সে সাহিত্যে যে ধর্ম ছাড়া আর কিছু থাকবে না, তা চোখ বুজেই বলে দেয়া যায়। তেমনি একজন খেলোয়াড়ের পরামর্শে চলচ্চিত্র তৈরি করলে তার পুরোটা জুড়ে শুধু খেলাই থাকবে, রাজনীতিবিদদের পরামর্শে চলচ্চিত্র তৈরি করলে সেটা তাদের বা সংশ্লিষ্ট কারো বায়োপিকই হবে।

- তারকাদের ধর্ম ও নৈতিকতার পাঠ দেয়াটা আমাদের সমাজে এখন খুব সাধারণ একটি বিষয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য একটি ফরজ কাজ। এই পাঠ দেয়ার প্রধান পাঠশালাটি হচ্ছে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম, খুব নির্দিষ্ট করে বললে ফেসবুক।
আমরা সবাই ফেসবুক ব্যবহার করতে পারি। ফেসবুক আমাদের মতামত প্রকাশের জায়গাটা অনেক সহজ করে দিয়েছে। যেহেতু কারো মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোন মন্তব্য করতে হচ্ছে না, তাই সরাসরি কারো রোষানলে পড়ারও সুযোগ খুব কম। আমরা অনেকেই মনের কথা বলতে পারি না, কিন্তু লিখতে পারি। ফেসবুক বা অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের মনের কথা লিখার সুযোগ করে দিয়েছে।

- তারকা বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকেন। তিনি হতে পারেন একজন ক্রিকেটার, অভিনেতা, লেখক, রাজনীতিবিদ কিংবা পরিচালক। ফেসবুক যখন এত সহজলভ্য ছিল না তখন আমরা অভিনেতাদের অভিনয় দেখার পর আমাদের মনের কথা বলতে পারতাম না। কিন্তু এখন ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের বদৌলতে আমরা আমাদের মনের কথা লিখতে পারছি, তাদের ধর্ম কিংবা নৈতিকতার শিক্ষা দেয়ার নামে আমাদের মতামত তাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছি।

-আমাদের প্রত্যেকের জীবন আলাদা, চিন্তা ভাবনা আলাদা, দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। আমাদের নিজেদের জীবনে কার কি করা উচিত এবং কি উচিত নয় সেটি আমরা নিজেরাই ঠিক করব, সেটি আর কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।
কারণ আমি যা বিশ্বাস করি, সেটি আরেকজন বিশ্বাস নাও করতে পারেন। বিশ্বাস কোন ধ্রুব বিষয় নয়। মানুষ ভেদে তার পরিবর্তন হয়। আমি আমার আপজনকে বিশ্বাস করব, সে তার আপনজনকে বিশ্বাস করবে, এটাই স্বাভাবিক । আমি কোনভাবেই তাকে আমার আপনজনের উপর বিশ্বাস করার মতামত চাপিয়ে দিতে পারি না। সমাজ, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ধ্রুব নয়, পরিবর্তনশীল। একই ধরনের বিশ্বাস , একই ধরনের সংস্কৃতি, একই ধরনের সাহিত্য কিংবা একই ধরনের সমাজ সবসময় চলতে পারে না।

-আমরা আমাদের ধর্ম বা নৈতিকতা অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চাই। একজন তারকা কি ধরনের পোশাক পড়বে সেটার সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার একমাত্র সেই তারকার, আমরা কোনভাবেই সেটা নির্ধারণ করতে পারি না, সে অধিকারও আমাদের কেউ দেয় নি।
কোন চলচ্চিত্র বা স্থির চিত্রে যৌনতা থাকবে কি না সেটা নির্ধারণ করার অধিকার আমাদের নেই, অধিকার আছে শুধুমাত্র সে নির্মাতার। আমরা চাইলে সেটি বর্জন করতে পারি, এর বিরুদ্ধে যুক্তি দিতে পারি কিন্তু সেটি বন্ধ করার সুপারিশ করতে পারি না।
একজন ক্রিকেটারের ভাল খেলা বা খারাপ খেলা তার ধর্মের উপর নির্ভর করে না। তাই খারাপ খেলার জন্য আমরা তাকে মালাউন বলে গালিগালাজ করতে পারি না। একজন সাবালক ক্রিকেটার কখন বাবা হবেন তা নিয়ে কোন ধরনের কুৎসিত আলোচনা আমরা করতে পারি না।

-কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনো যুক্তিতর্ক হতে পারে না। কোন কিছু তখনই করা যাবে না যখন তা অপরাধ। আর কোন কিছু অপরাধ কি না তা নির্ধারণ করবে আইন। আমরা নিজেরা কোন আইন প্রণয়ন করতে পারি না। কোন আইন কতটুকু যৌক্তিক বা সে আইন বহাল থাকা উচিত কি না সে বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, তারপর সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু তাই বলে আমরা কাউকে স্ব-আইন লঙ্ঘনকারী অপরাধী বানাতে পারি না।

-তারকাদের ধর্ম ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব কারোর না। ধর্ম ও নৈতিকতা ধারণ করার বিষয়, প্রত্যেকের কাছে তার ভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে।




সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১২
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়াঘর: কেস ফাইল #১৯৯৬ (দ্য লাস্ট রিল)

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার । গল্পে উল্লেখিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

×