ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় না-কি ২য় বার ভর্তী পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে। সিদ্ধান্তটা মোটেও যুক্তিযুক্ত বলে মনে হচ্ছে না।
১) উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগের মাপকাঠি হওয়া উচিৎ যোগ্যতা - শিক্ষা বিরতি নয়। কেউ ১/২ বছর শিক্ষা বিরতি বা অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণে ব্যস্ত থাকলে আর তার যদি যোগ্যতা থাকে তাহলে এসব ফালতু নিয়ম করে তার উচ্চ শিক্ষার পথ বন্ধ করার কোন যৌক্তিকতা নাই। সাধারণত ১ম বার কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলে পরের বছর আরো পড়ালেখা করে অর্থাৎ আরো জ্ঞান অর্জন করে আবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার ফলে কিন্তু বলা যায় না যে, স্নাতক স্তরে কম মেধাবীরা সুযোগ পাচ্ছে। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পথ সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকা উচিৎ, উন্নত দেশগুলোতে উপরের সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে এই ধরনের ফালতু নিয়ম নাই।
২) ১ম বারের পরে পুনরায় ভর্তির সুযোগ চাইলে তাকে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া যেতে পারে। যেমন - GRE অথবা Advance English জাতীয় কোন কোর্স সম্পন্ন করা ইত্যাদি। কিন্তু উচ্চ শিক্ষার পথ বন্ধ করা উচিৎ নয়।
৩) অনেকে বলেন যে, সবার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের কোন দরকার নাই। কারিগরী বা টেকনিক্যাল শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা উচিৎ। সহমত প্রকাশ করা যায়। কিন্তু কয়েকটা স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীর সুযোগ না পেলেও তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কলেজে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবেই। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের যোগ্যতা থাকলে তাকে জোর করে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তীর সুযোগ বন্ধ করা অনুচিত।
৪) কেউ কেউ চাকরীর বাজারে প্রবেশের সময় কম পাওয়ার কথা বলেন। অর্থাৎ শিক্ষায় বিরতি থাকলে সে চাকরীর বাজারে প্রবেশে অনেক দেরী করে ফেলে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তীর যোগ্যতা নিরুপণে এই মাপকাঠিটা মোটেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় চাকরীর বাজারের চাকর তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠিত নয়, এর লক্ষও তা হতে পারে না। কোন সাধারণ শিক্ষার লক্ষ্যও তা হওয়া উচিৎ নয়।
# # বরং উচিৎ হচ্ছে যোগ্যতার মাপকাঠিগুলোকে আরো ঝালাই করে যুগোপযোগী করার প্রয়াস নেয়া, মেধা যাচাইকরণের উন্নত পদ্ধতি প্রয়োগ করা, বয়স বা শিক্ষা বিরতিকে মাপকাঠি হিসেবে না নেয়া ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


