somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বান্ধবী দিতি

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





আজ অনেক দিন পর লিখতে ইচ্ছা করছে তাই লিখতে বসলাম। হঠাৎ করে সেদিন আমার এক স্কুল এর বান্ধবীর সাথে রাস্তায় দেখা হল। ওর নাম দিতি। আমরা এক সাথে প্রাইমারী এবং হাই স্কুল এ পড়েছি। আমরা যখন ক্লাস সিক্স এ তখন আমার ভাইয়া একদিন তার বেস্ট ফ্রেন্ড রায়হান ভাইয়াকে নিয়ে আমাদের বাসায় এলো এবং আমার সাথে তারা বেশ মিষ্টি সুরে কথা বলতে লাগলো। এক সময় রায়হান ভাইয়া আমাকে বলল সে নাকি দিতি কে খুব ভালবাসে। আমি কথাটা শুনে খুব ই অবাক হলাম কারন দিতি রায়হান ভাইয়াদের পাশের বাসায় থাকতো, আর তারা চাইলেই নিজেদের ছাদেই তাদের প্রেম-ভালবাসা চালিয়ে যেতে পারে তা এখানে আমার কাজ টা কি আমি বুঝতে পারলাম না। যেহেতু সেটা ছিল ২০০১ এর দিকে তো সেই সময় মোবাইল সবার হাতে হাতে ছিল না তখন এক মাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি, তাও খুব কাছের মানুষ ছাড়া, এ কাজে কাউকে বিশ্বাস করা খুব কঠিন ছিল। যাই হোক আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই দিতি কে কথাটা জানালাম আর নিজেও জানতে পারলাম যে তারা আরও আগে থেকেই এই সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আশেপাশের লোকজন ইদানিং তাদের কিছুটা সন্ধেও করায় তারা আর আগের মতো রোজ দেখা আর কথা বলতে পারে না। যেহেতু আমার বান্ধবী আর ভাইয়ার বন্ধু দুজনেই দুজনকে ভালবাসে সেহেতু আমার ক্ষুদ্র মন তাদের সাহায্য করতে সায় দিল। আমি তাদের ডাক পিওন হয়ে গেলাম, দুজনের বার্তা দুজনের কাছে পৌঁছে দেয়ায় ছিল আমার কাজ। এভাবে তাদের প্রেম চলতে থাকে। কিন্তু তাদের মধ্যে আমি ছাড়াও যে যোগাযোগ হতো তা আমি জানতাম না। আর দিতি যে সবাইকে তার প্রেম কাহিনী বলে বেড়াতো এটাও আমি জানতাম না। দিতি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল না। আমি শুধু আমার ভাইয়ার কথা রাখতে ওর বন্ধু কে সাহায্য করতে রাজি হয়েছিলাম। আর এই প্রেম কাহিনীর কথা আমি আর কাউকে জানাই নি। এক দিন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড লিজা আমাকে চুপিচুপি বলে জানিস দিতি না প্রেম করে। আমি তো শুনে হা। আমি ওকে বলি কে বলছে তোকে এটা, লিজা বলে সারা স্কুল জানে আর তুই জানিস না? আমি ওকে কিছু বলি না, কারন এখন যদি আমি ওকে বলি এই সম্পর্কের কথা আমি আরও আগে থেকে জানি তো লিজা খুব কষ্ট পাবে কারন আমি ওকে জানাই নি। তাই আমি কোন কথা না বলে ওর কাছে সব শুনলাম। দিতি সবার সাথে বেশ রসালো ভাবে তার প্রেমের গল্প বানিয়ে বলেছে, কিন্তু সে কোথাও আমার কথা বলে নি, এটা একটা আমার জন্য ভাল খবর ছিল। কিন্তু কাহিনী সেটা না, আসলে কাহিনী শুরু হল ক্লাস সেভেন এ উঠার পর। দিতি এমনিতে তেমন ভাল ছাত্রী ছিল না কিন্তু পরীক্ষায় এর ওর দেখে বেশ ভাল রেজাল্ট করে ফেলত। দুঃখ হল এবার তার রেজাল্ট ভাল হল না, কারন পরীক্ষার আগের রাতে তার বাবা তাকে পড়াতে গিয়ে তার বইয়ের ভিতরে রায়হান ভাইয়ার লেখা চিঠি পেল এর সেই চিঠিতে আমার নাম টাও উল্লেখ ছিল। পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়ার পরের দিন দিতি আমাদের বাসায় এলো আর আমাকে সাথে করে ওর বাসায় নিয়ে গেল আমি কিছু বোঝার আগেই। দিতির বাবা আমার খুব করে ক্লাস নিল আর গলা ফাটিয়ে বলল আমি যদি কোন ভাবে দিতিকে আর এই কাজে সাহায্য করি তাহলে তিনি আমার বাবা মাকে বলে দিবে। কিন্তু আমার বাবা মাকে বলে দিবে কথাটা শুনে আমি যতো না কষ্ট পেলাম এর চেয়ে বেশী কষ্ট পেলাম যখন আঙ্কেল বলল দিতি কে নাকি আমি রায়হান ভাইয়ার সাথে প্রেম করতে বাধ্য করেছি। আমি আর কোন কথা বলতে পারি নি কাঁদতে কাঁদতে বাসায় আসলাম আর ভাইয়াকে জড়িয়ে কান্না শুরু করলাম। আমি ভাইয়াকে বললাম আর কখনো আমি দিতির সাথে কথা বলব না। ভাইয়া আমাকে বুঝাল আর বলল এই বেপারটা ভুলে যেতে। তার এস এস সি পরীক্ষা শুরু হবে তাই সে খুব ব্যাস্ত, রায়হান ভাইয়াও আসতো বাসায় কিন্তু এটা নিয়ে তেমন কথা বলতো না। ওদের পরীক্ষা শেষ হল। একদিন রায়হান ভাইয়া আমাদের বাসায় এলো তার মুখচোখ খুব কালো হয়ে আছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে। সে আমাকে বলল তার নাকি সর্বনাশ হয়ে গেছে। অবশেষে জানতে পারলাম দিতির নাকি তার ফুফাতো ভাইয়ের সাথে সেই ছোট বেলা থেকে বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। কিন্তু সে সব জানা শর্তেও রায়হান ভাইয়ার সাথে সম্পর্ক করেছে। রায়হান ভাইয়া আমাকে খুব করে রিকোয়েস্ট করলো আমি যেন আর একবার তার হেল্প করি। আমি দিতির সাথে ওই ঘটনার পর আর কথা বলতাম না কিন্তু রায়হান ভাইয়ার জন্য আমি আবারো ওর সাথে কথা বললাম। দিতি আমার কাছে মাফ চাইলো আর বলল ওই দিন সে খুব ভয় পেয়ে গেয়েছিল তাই ওর বাবার কাছে মিত্থা বলেছে। আমি রায়হান ভাইয়ার কথা ওকে বললাম ও আমাকে খুব ভাল করে বুঝিয়ে বলল সে মরে গেলেও ওর ফুফাতো ভাইকে বিয়ে করবে না দরকার হলে ও রায়হান ভাইয়ার সাথে পালিয়ে যাবে। আমি এই কথা রায়হান ভাইয়াকে বললাম। কিন্তু কিভাবে যেন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড লিজা এটা জানতে পারলো আমি দিতিকে হেল্প করি প্রেম করতে সে যথারীতি আমাকে ভুল বুঝল আর আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিল। আমি অনেক চেষ্টা করে ওকে বুঝালাম তারপর আমরা দুজনে দিতিকে সাহায্য করতে লাগলাম। আমাদের এস এস সি পরীক্ষা শেষ হল, রেজাল্টও হল । কিন্তু আমি এক কলেজে ভর্তি হলাম দিতি আর লিজা অন্য কলেজে। আমাদের দেখা হওয়া কমে গেল। হঠাৎ একদিন জানতে পারলাম দিতির বিয়ে হয়ে গেছে। লিজার বাসায় গেলাম আর জানলাম সত্যি ঘটনা। আমরা দুজনে দিতিদের বাসায় গেলাম কিন্তু দিতির আম্মু আমাদের দিতির সাথে দেখা করতে দিল না। রায়হান ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম রায়হান ভাইয়া বলল দিতি নাকি তাকে জানাইছে কিন্তু রায়হান ভাইয়া দিতির সাথে যোগাযোগ করার আগেই তার বাবা তাকে মেরে ওর ফুফাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছে। দিতির বয়স তখনো ১৮ হয় নি তাই লোক জানাজানি না হওয়ার ভয়ে দিতিকে কারো সাথে দেখা করতে দিত না। ২০০৬ এ দিতির সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল ওর বিয়ের ৬ মাস পরে, তখন ও খুব চুপচাপ আর এক দম অচেনা একটা মেয়ে মনে হয়েছিলো। আমার সাথে তো কোন কথা বলে নি শুধু লিজার দুই একটা কথার উত্তর দিয়েছিল। আজ ৬ বছর পরে ওর সাথে দেখা হল। অনেক পুরানো কথা মনে পরছিল। কিন্তু ওর পাশে ওর ৩ বছরের মেয়ে ওর হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। মেয়েটাকে দেখে আর কিছু বলতে ইচ্ছা হয় নি কারন কেন জানি মনে হল ও আজ সব মেনে নিয়ে তার ছোট্ট সংসারে ভালই আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৭
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×