এই কাহিনী তিথি আর অপুর। তিথি তার মামা-মামীর সাথে মিরপুর থাকে। তার বাবা কানাডায় থাকে, গত ছয় মাস আগে তার মাকেও নিয়ে গিয়েছে। যেহেতু তিথির ভিসা তখন আসে নি তাই সে যেতে পারে নি। তিথি ক্লাস নাইনে পড়ে। তার মামা মামীর সাথে এক বিয়ে খেতে গিয়ে তার অপুর সাথে পরিচয় হয়। অপু এক টিভি চ্যানেলে জব করে। তিথির অপুকে দেখে খুব ভালো লেগে গেলো। তাই তিথি তার মামাতো ভাইকে দিয়ে অপুর নাম্বার টা জেনে নিল। তিথি প্রথম অপুকে কল করার পর অপু খুব স্বাভাবিক ভাবে ওর সাথে কথা বলল। অপু আবার তার মায়ের খুব আদরের ছোট ছেলে। অপুরা তিন ভাই ২ বোন। অপু বাদে সবার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অপু ওর মা-বাবা কে নিয়ে এক ফ্ল্যাট এ থাকে, আর তার এক ভাই তাদের পাশের ফ্ল্যাট এ থাকে। অপুকে ওর মা নিজের হাতে না খাওয়ালে অপুর পেট ভরে না, অপু ওর মাকে খুব বেশী ভালবাসত তেমনি ওর মাও ওকে নিজের কাছে সব সময় আগলে রাখতো। অপুর এর আগেও অনেক মেয়েকে ভালো লেগেছে, ফোনে কথাও বলেছে কিন্তু খুব সিরিয়াসলি অপু কখনোয় কোন সিদ্ধান্ত নেয় নি। তাই প্রেম-ভালবাসা সম্পর্কে সে খুব বেশী সচেতন না। তাই অপু তিথিকে তেমন একটা কল করতো না, কিন্তু তিথি অপুর সাথে কথা না বললে তার দিন কাটাতে পারত না। অপু তিথিকে অন্য ভাবে কখনোয় দেখে নি, কিন্তু যখন তিথি অপুর ব্যাপারে হঠাৎ করেই যখন খুব জানতে চাওয়া শুরু করলো অপু তখন বুঝতে পারলো তিথি ওকে পছন্দ করে। অপু তিথিকে প্রথমে বুঝাল তিথি এখন খুব ছোট কিন্তু তিথি কিছুই বুঝলনা। আসলে অপুর সমস্যা তিথির ছোট হওয়া ছিল না। অপু নিজেই জানত না আসলে সে তিথিকে পছন্দ করে কি করে না। কিন্তু তাদের নিয়মিত কথা হতো। এমনকি মাঝে মাঝে তারা দেখাও করতো, তিথির স্কুল ছুটির পর। কিন্তু তাদের এই কথা বলা আর দেখা করা হঠাৎ করে থেমে গেলো কারণ তিথির ভিসা চলে আসলো। তিথি তার মাকে অনেক বুঝাল তার পড়ালেখার ক্ষতি হবে সে এস এস সির পরে যেতে চায় কিন্তু কোন লাভ হল না। অন্য দিকে তিথির মামী জানতে পারলো অপু আর তিথির মেলামেশার কথা। মামী বুঝতে বাঁকি রাখল না তিথি কেন যেতে চায় না। মামী তিথিকে বুঝাল যে তিথির জীবন আরও অনেক সুন্দর হবে তার জন্য আরও ভালো কেউ অপেক্ষা করে আছে, কিন্তু তিথি বুঝল না। মামী এটাও ওকে বুঝাতে চাইলো যে অপুর পরিবার তাদের থেকে অনেক আলাদা তিথি ওখানে কখনোয় নিজেকে মানাতে পারবে না। কিন্তু কোন লাভ হল না অবশেষে মামাকে মামী সব বলে দিল, মামা প্রথমে খুব রেগে গেলো, কিন্তু পরে তিথির মাকে সব খুলে বলল, তিথির মা এসব শোনার পর তিথিকে আর এক মুহূর্তও বাংলাদেশ এ রাখতে রাজি হল না। তিথি অপুকে যখন সব খুলে বলল তখন অপু কিছুই বলল না। তিথি সব শেষে অপুকে বলল অপু চাইলে তিথি এখুনি ওর কাছে চলে আসবে কিন্তু অপু তিথির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলল তোমার ফ্লাইট কখন, তিথি বুঝতে পারলো অপু ওকে ভালবাসে না তাই তিথি ফোন রেখে দিল আর নিজের মনে পাথর চেপে চলে গেলো কানাডা। ২ মাস পর সে ওখানের একটা স্কুল এ ভর্তি হল, বাসা থেকে ও একা স্কুল এ যেত, তাই মা ওকে মোবাইল কিনে দিল, হাতে মোবাইল পেয়ে তার অপুর কথা মনে পড়লো, সে সব ভুলে গিয়ে আবার অপুকে কল করলো। অপু এবার খুব খুশী হল আর বুঝতে পারলো তিথি সত্যি ওকে খুব ভালবাসে, এমনকি তিথি চলে যাওয়ার পর অপুও নিজেকে খুব একা অনুভব করেছে, অপুর সন্ধ্যের পর বাসায় এসে আর সময় কাটত না রাতেও খুব তিথির সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করতো কিন্তু যেহেতু তিথির কোন নাম্বার ছিল না তাই সে তিথির সাথে যোগাযোগ করতে পারে নি। কিন্তু তিথি কল করার পর অপু আর নিজেকে আড়াল করতে পারলো না। অপু তিথিকে বলল ও তিথিকে ভালবাসে। আর তিথিও তার ভোলা মনে সব বিশ্বাস করলো। কিন্তু অপু এটা ভাবল না যে ক্ষণিকের ভালো লাগা আর মিস করা ভালবাসা না। কারণ যখন তিথি তার কাছে ছিল তখনো সে এটা অনুভব করে নি যে সে তিথিকে ভালবাসে আজ তিথি তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সে মনে করছে সে তিথিকে ভালবাসে। যাই হোক তিথি এটা শুনে খুব খুশী হল আর অপুকে আগের চেয়েও বেশী ভালবাসা শুরু করলো। কিন্তু তিথির বাসায় ওর বিয়ে নিয়ে কথা বলা শুরু হল, এমনকি ছেলেও ঠিক করে ফেলল কিন্তু তিথি এটা মেনে নিতে পারলো না, তিথি বাসায় সরাসরি বলে দিল সে অপুকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না। বাসার সবাই ওকে বুঝাল কিন্তু ও কারো কাথা শুনল না। বাসায় যখন ওর বিয়ে ঠিক তার আগে ও বাসা থেকে তার পাসপোর্ট, ভিসা আর বেশ কিছু টাকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো। এয়ারপোর্ট এ ওর বাবার এক ফ্রেন্ড ওকে দেখে বাসায় খবর দিল আর তিনি নিজে ওকে আটকাতে গেলো কিন্তু তিথি পুলিশের সামনে বলল যে সে ওই লোক কে চিনে না। তিথি এয়ারপোর্ট এ আরও বহু ঝামেলা করে দেশে আসলো কিন্তু অপু ওকে ৮ ঘণ্টা পরে নিতে গেলো। যাই হোক অপু তিথিকে নিয়ে এক ফ্রেন্ড এর বাসায় উঠলো, কিন্তু অপু বুঝতে পারছিল না ও কি করবে। অপু ওর ভাইকে কল করে সব বলল কিন্তু ওর ভাই অপুকে বিয়ে করতে নিষেধ করলো। কিন্তু তিথির কি হবে এটা ভেবে অপু তিথিকে বিয়ে করে ফেলল। তিথিকে বাসায় নিয়ে গেলো, অপুর মা এটা মেনে নিতে পারলো না। অপুর মা তিথিকে সম্পূর্ণ দোষ দিল আর তিথির মামা অপুকে কল করে বলল তিথি যেন ভুলে যায় তার বাবা মা কে ছিল। শুরু হল তিথির জীবন যুদ্ধ। অপু তিথিকে খুব বেশী সাপোর্ট কখনোয় করতে পারতো না কারণ মা তাহলে কষ্ট পাবে, আর তিথি কখনোয় তার শাশুড়ির মনের মতো হতে পারতো না কারণ সে কোনদিনও বাসায় কোন কাজ শিখে নি। যাই হোক এভাবেই দিন কাটতে লাগলো। তিথি ৬ মাস পর কনসিভ করলো কিন্তু এসব বিষয়ে তাকে বুঝানোর মতো কেউ না থাকায় তার বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গেলো। আরও ৬ মাস সে তার জীবন দিয়ে তার সংসার গোছানোর চেষ্টা করলো কিন্তু হল না। সে অপু আর শাশুড়ি দুজনেরই কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠল। অপুর সাথে ওর সম্পর্ক অনেক বেশী খারাপ হয়ে গেলো আর দুরুত্ত এতটায় বেড়ে গেলো যে, অপু আর তিথিকে সহ্য করতে পারতো না। ২ মাস পর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলো। এখন অপু এটাও জানে না তিথি কোথায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


