আমাকে ফিরিয়ে দাও- দীঘির পাড়ের ঝির ঝির মৃদুমন্দ হাওয়া, ঘুড়ি ওড়ানো বিকেল বেলা, গোধূলি সন্ধ্যা, সাদাকালো রঙে বিটিভির ধারাবাহিক, চাকরিজীবী মায়ের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকা ছোট্ট কচি মন, গাঁয়ের বাড়ির দ্বিপ্রহর রাতে বাবার ফিরে আসায় ঘুম চোখে জেগে ওঠা, ধোঁয়া ওঠা শীতের সকালের গ্রাম্য খালার বানানো ভাপা পিঠার স্বাদ, শামছুল চাচার ধারালো চাকুতে কাটা আঙ্গিনায় বেড়ে ওঠা খেঁজুরের তাজা রস, আলী হুজুরের কাছে খালাত ভাই রিপন সহ ভোরে ওঠে সিপারা শেখা, বাবা আর আজম মামার সাথে বসে হারমোনিয়ামে ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি, কত রাত আমার’ গানগুলো বার বার গাওয়া, এই সময়গুলো। তারপর অনেকগুলো বছর কেটেছে যেন শব্দহীন অথবা সযন্ত্রীয়।
একবার ফুটফুটে এক বাচ্চা কোলে তামান্নার আগমন। বলল- তোমার কোন আফসোস্? বললাম- কেন? প্রশ্নটা আমার কাছে বজ্রপাতের মতো মনে হলো। ও, এখন আর ভেবে কি হবে- এমন ভাব করে হেসে বাচ্চাটাকে আদর করতে থাকলো। তখন বিয়ে বা সংসার বা সন্তান এমন চিন্তার ধারে কাছেও নিজেকে ভাবতে পারিনি। কিন্তু কেউ হয়তো বেশি কিছু ভেবে বসে থাকে কখনো কখনো।
গানের আসর। জমজমাট শীতের মধ্যরাত। হারমোনিয়ামের মহোনীয় সুর যেন সারাগ্রামকে মাতিয়ে ছাপিয়ে বার বার প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। রাতে হারমোনিয়াম বাজালে মনে হয় এমনই শোনায়? তাই তো হঠাৎ-ই প্রিয়ার চুপিসারে কাছে এসে বসা। চাঁদ লুকিয়ে পড়া ঘুটঘুটে অন্ধকারে পাড়া গাঁয়ের এক সরল কামিনীর ত্রস্ত পায়ে সুরের টানে ছুটে আসা।
একবার এক প্রীতি ভোজের আয়োজন করলাম। গ্রামের সব বন্ধু-বান্ধব-বান্ধবীরা মিলে টাকা পয়সা জোগাড় করে খোলা মাঠে রান্নার ব্যবস্থা করা হলো। মাইকও আনা হলো। সেই মাইকে ‘বনমালী গো তুমি’, ‘আইলো দারুণ ফাগুণ রে’, ‘মনটা যদি খোলা যেতো’ কতো কতো প্রাণ উদাস করা গান বাজতে থাকলো। গ্রামোফোনের গানের পর সবাই মিলে সবার লাইভ গান। সে কি হুলুস্থুল অবস্থা! প্রীতিভোজে যেন আনন্দ আর ধরে না। বাঁশের চাটি আর ধাড়াই বিছিয়ে শীতের চাঁদনী রাতে চলল নিজেদের পরিবেশনা। তবলা, খঞ্জরী, মন্দিরা, দোতরা, একতারা, পাখোয়াজ, ঝাঝর, বাঁশী, তুম্বা, ঢোল কি না ছিল সেই গানের আয়োজনে? একেক জনের কাছে একেক রকমের সঙ্গীত যন্ত্র। একসাথে এমন অনুরণন তুললাম যে পাগল হয়ে উঠলো সারা গাঁ। হঠাৎ ধাড়াইয়ের নিচে সাপের অস্তিত্ত্ব টের পেয়ে যে যার মতো দৌড়ে দে ছুট প্রাণ নিয়ে।
আমাকে সেই দিনগুলো ফিরিয়ে দাও হে সময়! ফিরিয়ে দাও আধো আধো মৌনতায় সেই প্রেমময় অনুভব। ফিরিয়ে দাও কচি কণ্ঠের বেসুরো স্বরে মায়াভরা সেই গাওয়া গান আর রক্তিম আভা ছড়ানো সুবহে সাদেকের পবিত্র আহ্বান। --- এস জে রতন।
আলোচিত ব্লগ
মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন
যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি
কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।