somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে রাজাকারের উত্তরসূরীদের নানা অপপ্রচার এবং তার জবাব।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহবাগ স্কয়ারে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে সরকার এবং বিরোধীদল কেউই ততো পাত্তা দেয়নি। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে, এ আন্দোলন তত জোরদার হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই শুধু নয়, সারা বাংলাদেশের নজর এখন শাহবাগে। এরফলে রাজাকারের উত্তরসূরীরা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরকম কিছু অপপ্রচার এবং এর জবাব:

আন্দোলনকারীরা এ ট্রাইবুনালের উপর আস্হা রাখতে পারছে না এবং ট্রাইবুনাল ভেঙে দিতে বলছে।

এটা একটা ডাহা মিথ্যা অপপ্রচার। ট্রাইবুনালের বিপক্ষে এ আন্দোলন নয়। বরং ট্রাইবুনালকে যেন আরো শক্তিশালী করা হয় তার জন্য এ আন্দোলন। সরকার যেন কোন গোপন আতাত এই রাজাকারদের সাথে না করে তার জন্য এ বিক্ষোভ।

এটা সরকারের লোক দেখানো আন্দোলন।

যেই সব রাজাকারের উত্তরসূরীরা এই বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে তারা ভালো করেই জানে যে যারা এ আন্দোলন করছে তাদের বেশীর ভাগই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়া তরুন-তরুনী। যাদের বেশীর ভাগই জীবনে কখনো শ্লোগান দেয়নি। এ আন্দোলন ইতিহাসের কলংকমুক্তির আন্দোলন। এমনকি সরকার দলীয় কিছু নেতা এ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে এসে উল্টো লান্ঞিত হয়েছে।

যদি এটা সরকারী লোকদের আন্দোলনই না হয়, তবে "জয় বাংলা" শ্লোগান কেন দেয়া হয়?

রাজাকারের উত্তরসূরীরা যে মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস জানবে না এটাই স্বাভাবিক। জয় বাংলা আমাদের মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম শ্লোগান। যে শ্লোগান কন্ঠে ধারন করে মুক্তিযোদ্ধে ঝাপিয়ে পরে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ দেশটা মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন করেছিল। এই শ্লোগান কারো নিজস্ব সম্পত্তি নয়।

এই আন্দোলনের খাবার দিচ্ছে সরকার থেকে।

রাজাকারের দল যে এই ধরনের অপপ্রচার চালাবে এটাই স্বাভাবিক। যারা এ আন্দোলনে যাচ্ছে তারা তাদের সামর্থ অনুযায়ী চাদা তুলে খাবার খাচ্ছে। এমনকি এক রুটি দুইজন ভাগ করে খাচ্ছে। নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানাভাবে সাহায্য করছে। শাহাবাগের আশে পাশের হোটেল গুলোও অল্পদামে খাবার সরবরাহ করছে।

পাশে দু্ইটি গুরুত্বপূর্ন হাসপাতাল। এ আন্দোলনের ফলে রোগীদের নানা অসুবিধা হচ্ছে।

আরে রাজাকারের দল, তোমরা যখন নিজেদের বাপদের বাচানোর জন্য হরতাল দেও তখন কি রোগীদের অসুবিধা হয় না। যখন বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা কর তখন তোমাদের মানবতা কোথায় থাকে। আন্দোলন স্হল দিয়ে কোন অ্যাম্বুলেন্স যেতে চাইলে তাদের আন্দোলনকারীরা সহযোগীতা করে। এছাড়া রোগীদের যেন অসুবিধা না হয় তা নিয়েও চিন্তা ভাবনা চলছে।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে নানাভাবে হেয় করা হচ্ছে।

জামাত-শিবিরের নব্য রাজাকারেরা এধরনের অপপ্রচার যে চালাবে তাতো জানাই ছিল। দেশের প্রতিটি ইলেকট্রিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া প্রতিনিয়ত এ আন্দোলনের খবর প্রচার করছে। কিন্তু এধরনের কোন খবরই এখন পর্যন্ত কোন মিডিয়াতে আসেনি। জামাত-শিবিরের মিডিয়াগুলো ওত পেতে আছে এ আন্দোলনের ভিতর। এধরনের অপপ্রচারের কোন প্রমান তারা দেখাতে পারে নি।

এ আন্দোলনের কোন ভবিষ্যত নেই।

যখন ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধে সাধারন মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছিল তখনও একই কথা বলা হয়েছিল। যদি এ অপপ্রচারে মুক্তিযোদ্ধারা যোদ্ধে ঝাপিয়ে না পড়তো তাহলে আজও এদেশটি পাকিস্তান থাকতো। এদেশের তরুন যখন জেগে উঠে তখন তারাই ভবিষ্যত ঠিক করে।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:২০
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×