somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লাল সবুজের দেশ বাংলাদেশ। আমাদের দেশকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিক লেখেছেন অনেক কবিতা অনেক গান। বিখ্যাত কবি, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। নানা মহান কবি বিভিন্ন উপমা সুত্রে সাজিয়েছেন আমাদের সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশ। যে দেশ সবুজের লীলাভূমি। নদী মাতৃকা দেশ বাংলাদেশ, ছবির মতই অনিন্দ সুন্দরী আমাদের এই দেশ। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে দেশ মাতার সন্তানদের বলী হতে হয়েছে অনেক। অনেক রক্ত ,অনেক ত্যাগ অনেক জীবনের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে আমাদের দেশ। পরাধীনতার অপশক্তির কাছে নিজের বিবেক বিকিয়ে দিয়ে এ দেশের কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ এই সুন্দর দেশকে বিক্রি করতে চেয়েছিল বর্বর পাকিস্থানীদের কাছে।
তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তাদের সাথে হাত মিলিয়ে আমাদের দেশকে চিরতরে অন্ধকারের বন্ধ ঘরে বন্দী করে রাখতে চেয়েছিল পায়ে শিকল পড়িয়ে। কিন্তু তাদের সমস্ত নীল নকশাকে পরাভূত করে তাদের স্বপ্নকে দু পায়ে পারিয়ে এই দেশকে করেছে স্বাধীন। উড়িয়েছে স্বাধীন পতাকে বাংলার বুকে। যখনই এই দেশের বুকে শত্রুর কালো ছায়া দেখা দিয়েছে তখনই দেশ মাতার সন্তান ঝাপিয়ে পড়েছে অপশক্তির হাত থেকে এই দেশকে বাঁচাতে। সেই ধরা আজও প্রবাহমান আমাদের ধমনীতে তাইতো জন্ম দিতে পেরেছি প্রজন্ম চেতনার প্রবল জোয়ার শাহবাগের নব জাগরন।
আমদের ধমনীতে আমাদের শিরা উপশিরাতে প্রবাহমান রক্ত প্রতিদিন আমাদের বিবেকের দরজায় করা নেড়ে বলছে তোমরা সেই জাতি যে জাতি কখন কোন কালো শক্তির কাছে মাথা নত করেনি। সত্যি জাতি হিসাবে আমরা গর্ভিত। আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যে দেশের ইতিহাস অনেক বেশি গর্বের অনেক বেশি অহংকারের। এই দেশের সাহসী মুক্তিকামী সন্তানেরা মায়ের মুখের শেখান বুলিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে নিজের তাজা রক্তে রাঙা করেছে রাজপথ। রক্ত দিয়েছে তবু নিজের মায়ের শেখান ভাষা জলাঞ্জলী দিয়ে পিছিয়ে যায়নি। সেই সব সূর্য সন্তানকে মা তার মমতার আঁচলে বেঁধে রেখেছে। আর ইতিহাস তাদের সাহস ও মনের এক ঐকান্তিক বলকে নত মস্তকে সন্মান করেছে।
শুধু ভাষার জন্য নয় আমাদের দেশের সাহসী সন্তানেরা নিজের জীবনকে বারবার তুচ্ছ করে দেশ মাতৃকাকে এনে দিয়েছে রক্তিম ঊষার দিন। সেই সমস্ত দিঙ্কে সোনার অক্ষরে লেখা রয়েছে ইতিহাসে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬২, ৬৬, ৬৯ সালের আন্দোলন সাহসিকতার প্রমান রেখে গেছে। শুধু তাই নয় আমাদের দেশকে মুক্ত করার জন্য যত ত্যাগ, যত রক্ত, যত সম্ভ্রম দিতে হয়েছে দেশের মুক্তির জন্য তা পৃথিবীর কোন দেশ দেখেনি। সেই সমস্ত উৎসর্গ বৃথা যায় নি।আমরা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমরা আজ মাথা উচু করে পৃথিবীর কাছে বলতে পারি আমরা সেই জাতি যে জাতি জান দেবে রক্ত দেবে কিন্তু মান দেবে না।
আমাদের দেশের কিছু মানুষ কখন আমাদের দেশের ভালো চায় নি। তারা সব সময় আমাদের ভালো বিরোধিতা করে এসেছে। অতীতের ইতিহাস দেখলে সেই সব বিশ্বাসঘাতক নরপিচাসদের হীন কাজের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত দেখলে গায়ের রোম খারা হয়ে যায়। তারা এর খারাপ হতে পারে সেটা সত্যি অনেক কষ্টের। আমাদের দেশকে পাকিস্থানীদের হাতে তুলে দিতে বদ্ধ পরিকর ছিল। কিন্তু এই দেশের সাধারন মানুষ তা হতে দেয় নি। তারা তাদের দেশকে মুক্ত করতে স্বাধীন করতে এক বুক আশা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আমাদের যুদ্ধ কিন্তু পাকিস্থানীদের সাথেই করতে হয়নি ।আমাদের যুদ্ধ করতে হয়েছিল পাকি দালাল , রাজাকার, আলবদর, আলসামদের বিরুদ্ধে। সেই সব পাকি রাজাকার আমাদের কাছে সহজে মাথা নত ক্রেনি। তারা পাকিস্থানীদের সাথে হাত মিলিয়ে এমন কোন হীন বর্বর কাজ নেই যা করেনি। আমাদের দেশের মানুষের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, লুট করেছে, খুন ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। তারা আমাদের দেশে বাস করে আমাদের দেশের স্বাধীনতা চায় নি। তারা আমাদের দেশের শত্রু জাতির শত্রু।
আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। জাতির পতাকা পেয়েছি, কিন্তু আজও কলঙ্ক মুক্ত করতে পারিনি দেশকে। আজও স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি প্রকাশ্য ঘুরে বেরাছে। আজও তারা তেমনি করেই আমাদের দেশকে তাদের হাতে বন্ধী করবার ষড়যন্ত্র করছে। তাদের এই হাসি মাখা মুখ দেখে আমাদের লাখো শহীদের রক্ত, আমাদের মা বনের সম্ভ্রম অশ্রুশিক্ত হন। তাদের চোখ থেকে গড়িয়ে পরা অশ্রু আমাদের বড় লজ্জায় ফেলে দেয়। তাই বরারবরের মতই আবার এসেছে সেই সময় এসেছে কলঙ্ক মুক্ত করে আবার বিজয়ের হাসি হাসতে। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবী নিয়ে যে গণ জোয়ার উঠেছে সেটা থাময়ার নয়। কিন্তু থেমে নেই স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। তারা এই নব জাগরণকে থামানোর জন্য মরিয়া। তার যে কোন মুল্যে আমাদের থামিয়ে দিতে চায়। যেমন করে স্বাধীনতার যুদ্ধে সুবিধা না করতে পেরে স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে এসে জাতিকে মেধাশুন্য করার ব্রত হাতে নিয়েছিল। ঠিক তেমন আজ আবার যুদ্ধাপরাধীর বাঁচানোর জন্য মরিয়া। বিভিন্ন নাশকতা মুলক কাজের মাধ্যমে তারা ইতিমধ্য প্রমান করেছে তারা যুদ্ধাপরাধীর বাঁচাতে সব করতে পারে।
এখন সময় এসেছে আবার তাদের দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়ার। আমাদের রক্তে কোন দালালির রক্ত নেই। আমাদের রক্তে আছে পবিত্র শহীদের রক্ত। তাই আমরা আবার সমবেত হেয়েছি। আমরা যুদ্ধাপরাধী মুক্ত দেশ গড়তে বদ্ধ পরিগর। যতই অপশক্তি আমাদের সেই দৃঢ় বন্ধন ভাঙ্গতে আসবে আমরা ততই আবদ্ধ হব নতুন প্রত্যয়ে। আমদের সূর্য সন্তানদের কাছ থেকে শেখা সাহস দিয়ে এই সোনার বাংলাকে কলঙ্ক মুক্ত করব।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের দেশে এখন অদ্ভুত এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আপনি কোনো দলের সমালোচনা করলে- আপনি সেই দলের শত্রু।
আপনি কোনো দলের একটি ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×