somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন গল্পের এক পৃষ্ঠা

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অমাবস্যার রাত। এই রাতে পৃথিবী এক ভয়ংকর রুপের মধ্য বেঁধে ফেলে জগতে সমস্ত কিছু। পূর্ণিমার রাতে যেমন পৃথিবী ভাসতে থাকে অদম্য জোছনার মায়ার টানে।তেমনি অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে মানুষের মনের ভেতরে জমে থাকা অসংখ্য ধুলায় মোড়ানো পথটাকে ভীষণভাবে নারিয়ে দেয়। সমস্ত জগতকে মনে হয় যেন এক ঘাতিনী দৈত্য। সেই দৈত্য তার ইয়া বড় দাঁত বের করে হাসছে। আর তার মুখের কোনে জমা হয়ে আছে অনেক বছরের পুরনো দৈত্যের বিভীষিকার জ্বলন্ত লাভা।তাই এই নিকস কালো অন্ধকার রাতে অনেকে বাইরে বের হওয়াটা নির্ঘাত বকামি ছাড়া কিছুই ভাবে না। কিন্তু কিছু মানুষ এই অন্ধকারের মধ্য জীবনের আলো খুজতে থাকে।
প্রভাত রায় সেই সব মানুষের একজন যারা রাতের আঁধারে জীবনের গল্প তৈরি করে।প্রভাতের প্রথম আলো যখন সমস্ত দুনিয়ার অনির্বাণ আধার দূর করে আলোয় ভাসিয়ে দেয়, তেমনি কোন এক প্রভাতে সন্তান সম্ভাবা মায়ের কোলে জন্মে ছিলেন প্রভাত। দিনের প্রথম প্রহরে জন্ম হয়েছিল বলে তার দাদু শখের বসে নাম রেখেছিল প্রভাত। তিনি সব সময় বলতেন প্রভাত একদিন আমাদের সংসারের সমস্ত অন্ধকার দূর করে প্রভতের প্রথম আলো গায়ে মাখাবে।
আজও প্রভাত তার নিজের জীবনের প্রভাত দেখতে পেলনা। সামান্য লেখাপড়া শিখে চাকরি পেয়েছে উপজেলার নৈশ্য প্রহরীতে। তার দীর্ঘ ২২ বছরের চাকরি জীবনে এমন কোন দিন নেই প্রভাতের সতর্কীকরণ বাঁশির সুর শোনেনি বদ্দিপাড়ার লোক।এই পাড়ার লোকজন প্রভাতকে অনেক ভালোবাসে। প্রভাতের কাছে দিনের আলোর চেয়ে রাতের অন্ধকার অনেক বেশি ভালো লাগে।রাতের একটা আলাদা রুপ আছে। সেই রুপ প্রভাতের কাছে অনেকটা জীবনের গল্পের মত। জীবনে যেমন সুখ আছে দুঃখ আছে,তেমনি রাতের আছে জোছনার উৎছলতা আর কালোর দুরহতা। প্রভাত বলে রাতের মন খারাপ হলে আঁধারে ডুবতে থাকে দুনিয়া আর মন ভালো তো জোছনার সিন্ধতায় ভেসে যায় চারপাশ।
প্রভাতের বাড়ি থেকে উপজেলার দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার। প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে সন্ধ্যার অনেক আগেই হাজির হয় প্রভাত। তার নিজের হাতেই প্রতিদিন আলো জ্বেলে উপজেলার অন্ধকার দূর করে। তারপর তার নির্দিষ্ট পোশাক পড়ে নেয়। হাতে একটি লাঠি থাকে আর গলায় ঝুলানো থাকে বাঁশি। গেটের কাছে একটি চেয়ার রাখা আছে সেখানেই প্রভাত বসে তার রাতের জীবনের গল্প লেখে। প্রতিদিন সে তার জীবনের একএক পৃষ্ঠা করে লেখে চলে জীবনের গল্প। তার জীবনের রাতের গল্পের সাথে নতুন একটি চরিত্র যোগ হয়েছে। একটি মাগী কুকুর। প্রভাত সেই কুকুরের নাম দিয়েছে লালুর মা। লালুর মা প্রভাতের কাছে খুব সাহায্য করে।লালুর মা প্রভাতের চেয়ারের পাশেই শুয়ে থাকে। প্রভাত যখনই বাঁশিতে ফু দেয় অমনি লালুর মা লেজ নাড়াতে নাড়াতে ছুটে দেখে আসে চারিপাশ। কখনও যদি অন্য প্রাণীকে দেখতে পায় ওমনি শুরু করে ডাকা ডাকি। তখন প্রভাত লাঠি নিয়ে ছুটে যায় সেই দিকে।
লালুর মায়ের সাথে বেশ ভাব হয়ে গেছে প্রভাতের। প্রভাত বাড়ি থকে রাতের খাবার বেঁধে নিয়ে আসে। সেই খাবারের কিছু অংশ আজকাল রোজকার খাবারে একটা অংশ হয়ে গেছে লালুর মার।রাতের সঙ্গীর কাজে বেজায় খুশি প্রভাত। তেমনি কুকুরটাও তার প্রভুর কাজে করে মনের খুশিতে। মাঝেমাঝে রাত বাড়লে প্রভাতের চোখে ঘুম হানা দেয়।তখন সজাগ দৃষ্টি রাখে লালুর মা। এই ভাবে রাতের প্রহর ফুরিরে যেতে থাকে,তেমনি ফুরাতে থাকে প্রভাতের জীবনের গল্প লেখার পৃষ্ঠা। অন্ধকারের বিদায় নিতে বাধ্য করে ভোরের আলো। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে শুরু হয় পাখির কলতান। পাখির কিচিরমিচিরে মুখোর হয়ে ওঠে চারপাশ।ভোর হতে না হতে শুরু হয় পাখির জীবন যুদ্ধ।সেই যুদ্ধ অনেকটা মানুষের মত বেঁচে থাকার যুদ্ধ।
প্রভাতের মন খুসেতে ভোরে ওঠে সকালের মৃদু আলোয়।সারারাতের ক্লান্তি দূর করে দেয় ভোরের বাতাস। ভোরের সৌন্দর্যের মুগ্ধ হয়ে যায় প্রভাত। তাই প্রতিদিন এই কুসুমিত ভোরে প্রভাতের মনে পড়ে ছোটবেলায় পড়া একটি কবিতা “ পাখি সব করে রব রাত্রি পোহাইল কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল”।
সকাল হলেই মানুষ বেড়িয়ে পরে যে যার কাজে। তখন প্রভাত ফিরে আসে নিজের ঘরে। সে ফেলে রেখে আসে প্রতিদিনের জীবনের গল্প লেখা সেই প্রিয় জীবন খাতা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের দেশে এখন অদ্ভুত এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আপনি কোনো দলের সমালোচনা করলে- আপনি সেই দলের শত্রু।
আপনি কোনো দলের একটি ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×