
যিনি শিক্ষাদান করেন তিনিই হলেন শিক্ষক আর শিক্ষাদান করাটাই হলো শিক্ষকতা। জাতির ভবিষ্যৎ নাগরিকদের শিক্ষার ভার শিক্ষকদের ওপরই অর্পিত থাকে। একটি সমাজ বা জাতি কতটা সভ্য হবে সেটা নির্ধারিত হয় সুশিক্ষার মাধ্যমে। সুশিক্ষা দেবার জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষক। তাই শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড না হয়ে সুশিক্ষকই জাতির মেরুদণ্ড হওয়া উচিত।

আপনি যদি কোন ছাত্র/ছাত্রীকে প্রশ্ন করেন যে, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? উত্তর পাবেন আমি বড় হয়ে ডাক্তার হবো বা ইঞ্জিনিয়ার হবো ইত্যাদি ইত্যাদি কিন্তু কখনো কি শুনেছেন যে আমি বড় হয়ে শিক্ষক হবো? কারণ ওরা সমাজের অসংগতিগুলো দেখছে, শিক্ষকদের দুরবস্থাগুলো দেখছে। শিক্ষক যদি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয় এর চেয়ে জাতির দূর্ভাগ্য আর কি হতে পারে। আজ আমাদের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর কাজে আমরা কি আশা করতে পারি?

সমাজে যাদের অবদান বেশি অর্থাৎ যাদের কাজ সমাজে সবচেয়ে বেশি মূল্য যোগ করে তাঁরা হলেন কৃষক। কৃষকের অবদান সমাজে সরাসরি যোগ হয় অর্থাৎ ইহা দৃশ্যমান অপর পক্ষে শিক্ষকদের অবদান কৃষকের পরেই; শিক্ষকের অবদান দৃশ্যমান নয় কিন্তু তাদের অবদানের মূল্য যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদী।
স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে শিক্ষক কারা হবেন? যিনি বেশি জানেন তিনিই শিক্ষক হবেন। শিক্ষকের জ্ঞান ছাত্রদের থেকে বেশি হলে তবেই জ্ঞানের প্রবাহ সম্ভব। বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের শিক্ষা দেবার মতো যোগত্যা নেই কারণ মেধাবীরা এই পেশায় আসছেনা দূর্গতির কারণে। অথচ উন্নত বিশ্বে সবচেয়ে মেধাবীর আসছে শিক্ষকতায়; সেখানে শিক্ষকদের মূল্যায়ন আছে, সম্মান আছে সর্বোপরি সমাজে সচ্ছলভাবে বেঁচে থাকার মতো ভাতা আছে পক্ষান্তরে আমাদের দেশে অযোগ্যরা শিক্ষকতায় আসছেন নেই তাদের মূল্যায়ন, নেই সম্মান এবং না আছে সমাজে ভালোভাবে বেঁচে থাকার মতো ভাতা।
ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন একজন নির্বাচিত এমপি তিনি তার নিজের লোক, দলীয় লোক এবং পয়সার বিনিময়ে অনেক লোক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ফলে স্কুলটির শিক্ষাব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পরেছে। নেই কোন পড়াশুনা বা নেই কোন ভালো শিক্ষক; তাহলে কিভাবে গড়ে উঠবে একটি সভ্য সমাজ বা সভ্য জাতি?
ছবি ; অর্ন্তজাল।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০২২ বিকাল ৫:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


