somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসকন

০৬ ই নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


INTERNATIONAL SOCIETY FOR KRISHNA CONSCIOUSNESS যার সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ISKCON এর বাংলা অর্থ হল আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ। যে সংঘের ঘোষিত উদ্দেশ্য হল মানুষকে কৃষ্ণভাবনাময় করে তোলার মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনা। মজার বিষয় হলো ইসকনের সৃষ্টি কিন্তু ভারতে নয় আমেরিকার নিউইয়র্কে। ৫০ বছর আগে, ১৯৬৬ সালে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার নাম ‘অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ’। অবাক হওয়ার মত বিষয়, এ ব্যক্তি ভারতে কোন হিন্দু শিক্ষালয়ে লেখাপড়া করেনি, লেখাপড়া করেছে খ্রিস্টানদের চার্চে।

অভয়চরনারাবিন্দ ষাটের দশকের হতাশাগ্রস্ত পশ্চিমা সমাজে যোগব্যায়াম এবং ধ্যান করার প্রাচীন ভারতীয় রীতিকে তিনি হরে কৃষ্ণ কীর্তনের সুরে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলেন। ভারতীয় কীর্তনের ধ্রুপদী সুরের সাথে তিনি পশ্চিমা ঘরানার জনপ্রিয় সঙ্গীতের তাল-লয়-সুর সংযুক্ত করে তার হরে কৃষ্ণ কীর্তনগুলোকে দারুণ শ্রুতিমধুর করে তোলেন। ষাটের দশকের পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গীতজগতের কিংবদন্তি জর্জ হ্যারিসন এবং জন লেননের সাহায্য নিয়ে অভয়চরনারাবিন্দ কয়েকটি জনপ্রিয় কীর্তনের অ্যালবাম তৈরি করেন। বিটল-সখ্যাত জর্জ হ্যারিসনের সুপারহিট অ্যালবাম মাই সুইট লর্ড এবং জন লেননের গিভ পিস অ্যা চান্স অ্যালবামের সাথে হরে কৃষ্ণ লিরিক্স যোগ করার ফলে ইসকন এবং হরে কৃষ্ণ ইউরোপ-আমেরিকার মানুষের মুখে মুখে ভাসতে থাকে।

ইসকন নামটি নিয়ে এ মুহূর্তের বাংলাদেশে যে অন্তহীন বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা যে শেষ অবধি কোন পরিণতি ডেকে নিয়ে আসে তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ইসকনকে ঘিরে রাজ্যের সন্দেহ, অবিশ্বাস ও গুজব ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। জনসাধারণ মনে করছে, ভারতের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং বিজেপি যুগপৎভাবে তাদের বাংলাদেশ মিশন সম্পন্ন করার জন্য সব রকম ক্ষমতা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে ইসকনকে বাংলাদেশে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। ইসকনের হয়ে কয়েকজন অনলাইন কর্মীর জোরালো তৎপরতার কারণে, যারা বহুবিধ বাহারি প্রচারে ইসকন সম্পর্কে মানুষের সন্দেহ ঘনীভুত হচ্ছে কারণ জনগণ মনে করছে, ইসকনের পেছনে ভারতের মদদ থাকার দরুন তারা হয়তো সব কিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখাচ্ছে।

ইসকন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছেলেমেয়েদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করে এবং ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে দিয়ে তাদের হরিনামের কীর্তন গাওয়ায়। শিশুরা তাদের সহজাত কৌতূহল এবং আন্তরিকতা নিয়ে সমস্বরে জয় হরি বা জয় হরিবল ইত্যাদি শব্দের সমাহারে কীর্তন গাইতে গাইতে ইসকনের দেয়া খাবার খেতে থাকে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কোমলমতি বালক-বালিকা ও শিশুদেরকে পূজার প্রসাদ বলে কথিত খাদ্য বিতরণ করে শিশুদের মুখে হরিবল বাণী উচ্চারণ করিয়ে তাদেরকে হয়তো হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করছেন বলে সন্দেহ করতে থাকে জনসাধারণ।

ইসকন নিয়ে সেই ষাটের দশক থেকে কিরূপ সমালোচনা চলছে তা বুঝতে হলে নিউ ইয়র্কের মার্কিন ফেডারেল কোর্টের কয়েকটি আলোচিত মামলা সম্পর্কে জানতে হবে। ১৯৭৬ সালে নিউ ইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টে People Vs Murphy অর্থাৎ জনগণ বনাম মার্ফি মামলায় দু’জন মার্কিন নাগরিক আদালতে ইসকনের বিরুদ্ধে এই বলে অভিযোগ দায়ের করেন যে, ইসকনের ধর্মগুরুরা তাদের কোমলমতি শিশুসন্তানদের ব্রেনওয়াশ করে প্রথমে তাদেরকে পরিবার থেকে আলাদা করেছে এবং পরবর্তীকালে ধর্মান্তরিত করেছে।

উপরোল্লিখিত, ঘটনার পর ১৯৮৭ সালে আরেকটি মামলায় ইসকন নেতা কির্তানন্দের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে হত্যা মামলার চার্জ গঠন হয় এবং তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং তার ৫০০ সহযোগীকে প্রতারণার দায়েও অভিযুক্ত করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে বিরাট এক অপরাধী গ্যাং গড়ে তুলেছে যাকে অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় Racketeering বলা হয়।

ইসকন সম্পর্কে উল্লিখিত দু’টি সাড়া জাগানো মামলার বাইরে সত্তর এবং আশির দশকে শিশু নির্যাতন এবং শিশু বলাৎকারের একাধিক মামলা দায়ের করা হয়, যেগুলোর মধ্যে টারলি কেস (Turley Case) সারা দুনিয়ায় হইচই ফেলে দেয়। ২০০৪ সালে এই মামলা নিষ্পত্তি হয়। বাদির পক্ষে আদালতের রায় ছিল যে, ইসকনকে ৯০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় সাত হাজার ৬০০ কোটি টাকা বাদিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ইসকন এ অবস্থায় নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে ১২৭ কোটি টাকা পরিশোধ করে রক্ষা পায়।


সূত্র : অন্তর্জাল।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:৫৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×