
ব্যর্থতা :
১) আইনশৃঙ্খলার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া কারণ পুলিশের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারা।
২) যৌক্তিক কারণ সত্ত্বেও নিবিড় তদারকি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারা।
৩) মব সন্ত্রাস ও সাধারণ জনগন কতৃক ঢালাও মামলায় রুখতে না পারা। (যেসব ঘটনাকে মব বলে চালানো হচ্ছে, একই ধরনের অসংখ্য ঘটনা গত পনেরো বছরে ঘটলেও সেগুলোকে তখন‘মব’-বলা হয়নি।)
৪) বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই দিতে না পারা। (দেশে বই মুদ্রণের প্রয়োজনীয় কাঠামো গত ১৫ বছরে ধ্বংস করে ভারত থেকে ছাপা হচ্ছিল। মাত্র তিন মাসের প্রস্তুতিতে এতগুলো পাঠ্যবই পরিমার্জিত আকারে প্রকাশ কম চ্যালেঞ্জের নয় ফলে সময় লেগেছে। অতীতেও ১ জানুয়ারি বই দিতে না পারার ঘটনা ঘটেছে বহুবার।
সরকারের টালমাটাল পরিস্থিতি :
১) সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুনে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র পুড়ে যাওয়া।
২) দক্ষিণ সিটিতে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র হিসেবে বসানো নিয়ে টানা অবরোধ এমনকি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করে বিএনপি নেতাকর্মীদের শক্তি প্রদর্শন।
৩) এনসিপির সমাবেশ ঘিরে গোপালগঞ্জে ভয়াবহ সহিংসতা ও প্রাণহানি। ঢাকার মিটফোর্ডে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পাথর-খণ্ড দিয়ে আঘাতে আঘাতে হত্যা। মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে ৩০ জনের অধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু।
৪) শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে বিপুলসংখ্যক উচ্ছৃঙ্খল তরুণের সচিবালয়ে ঢুকে নৈরাজ্য সৃষ্টি।
৫) চট্টগ্রামের আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণের সমর্থকদের তাণ্ডব ও আইনজীবী হত্যা।
৬) আনসার বাহিনীর বিপুল সদস্যের সচিবালয় আক্রমণ।
৭) সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে সমাবেশ এবং ঢাকামুখী লংমার্চ ঘোষণা, আদিবাসী ছাত্র-জনতার নামে সহিংস বিক্ষোভ।
৮) রেলকর্মীদের কর্মবিরতি।
৯) সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘাত।
১০) সিএনজি অটোরিকশা-চালকদের রাজধানীজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি।
১১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাতিল হওয়া শিক্ষকদের সহিংস আন্দোলন।
১২) মাগুরায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তাল বিক্ষোভ।
১৩) পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের অবরোধে শহরে শহরে অচলাবস্থা।
১৪) নূর হোসেন দিবসে আওয়ামী লীগের ঢাকা মার্চ কর্মসূচি।
১৫) নিষিদ্ধঘোষিত হিযবুত তাহরীরের ব্যানারে পতিত শক্তির মাঠে নামার অপচেষ্টা।
১৬) গাজীপুর ও জামালপুর কারাগারে বিক্ষোভ ও গুলি, জামালপুর কারাগারে ছয় বন্দির মৃত্যু।
১৭) পাহাড়ে উসকে দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত।
১৮) শিল্পকারখানার শ্রমিকদের এক বছরে প্রায় শতবার মহাসড়ক অবরোধ।
১৯) বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে দেশের কয়েকটি এলাকায় দফায় দফায় বিধ্বংসী বন্যার আঘাতে এবং
২০) নির্বাচনের সময় নিয়ে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে টানাপড়েন।
এতো জঞ্জাল বিক্ষোভ সামলাতে ড. ইউনূস সরকারকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। তারপরও অত্যন্ত বিচক্ষণতার সংগে সকল সংকট সামাল দেওয়ায় জনমনে ফিরে আসে স্বস্তি।
সাফল্য :
১) অর্থনীতির লুটপাট থামিয়ে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় অর্জন বা বড় সাফল্য। অর্থনীতির ক্ষত অনেকটাই শুকিয়েছে।
২) রিজার্ভ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০ বিলিয়ন ছুঁয়েছে।
৩) স্থবিরতা কাটিয়ে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ—তিন মাসে এফডিআই বা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১৪ শতাংশ বেড়েছে।
৪) ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৮ শতাংশ।
৫) রেমিট্যান্স রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড গড়ছে।
৬) রিজার্ভে হাত না দিয়েই বড় অঙ্কের আন্তর্জাতিক দেনা পরিশোধ করা হয়েছে।
৭) দেউলিয়া-প্রায় ব্যাংকগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে স্থিতিশীল পর্যায়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। এস আলমের দখলমুক্ত করা পাঁচটি শরিয়াহ ব্যাংককে একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে।
৮) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নীতির কারণে তিন মাসে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের মধ্য দিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
৯) আতঙ্কে তুলে নেওয়া গ্রাহকদের ২১ হাজার কোটি ব্যাংকে ফিরেছে।
১০) রমজান মাসে কোনো পণ্যের দাম না বাড়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছে সরকার। নিত্যপণ্যের বাজারে মাঝেমধ্যে স্বস্তির সুবাতাস পাওয়া গেলেও অনেক সময় মানুষ অস্বস্তি ও চাপে পড়েছে।
১১) কঠিন চ্যালেঞ্জ ও নানা শঙ্কা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
১২) শেখ হাসিনা ও তার দলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
১৩) আদালত অবমাননার একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
১৪) দলবাজ প্রধান বিচারপতিসহ ছয় বিচারপতির দূর করা হয়েছে।
১৫) গণতন্ত্র, নির্বাচন ও বিচারব্যবস্থা ধ্বংসকারী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করা।
১৬) আওয়ামী আমলের দলীয় অনুগতদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল।
১৭) পতিত সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও হেভিওয়েট নেতাদের গ্রেপ্তার করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।
১৮) শেখ হাসিনা, জয়, পুতুল, ববিসহ শেখ পরিবারের লুটেরাদের বিরুদ্ধে মামলা, ব্যাংক হিসাব জব্দ, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ইন্টারপোলকে চিঠি।
১৯) শেখ পরিবারের সদস্যদের জন্ম-মৃত্যু, ভাষণসহ সংশ্লিষ্ট আটটি জাতীয় দিবস বাতিল করে সরকারি অর্থের অপচয় এবং অপব্যয় রোধ, ১৫ আগস্টের ছুটি বাতিল।
২০) সাবেক দুই আইজিপিসহ দলবাজ ও খুনি পুলিশ কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি এবং অনেককে গ্রেপ্তার।
২১) সিইসি হাবিবুল আউয়াল ও নুরুল হুদাকে গ্রেপ্তার এবং আদালতে তাদের স্বীকারোক্তি, তিন নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপালন করা জেলা প্রশাসকদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো।
২২) ফ্যাসিবাদী শাসনে বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত ১ হাজার ৫২২ পুলিশ সদস্যকে চাকরিতে পুনর্বহাল।
২৩) একতরফা ও তামাশার নির্বাচনে গঠিত স্থানীয় সরকার পরিষদ থেকে ১ হাজার ৮৭৬ আওয়ামী প্রতিনিধিকে অপসারণ।
২৪) সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, ত্রয়োদশ সংশোধনী বহালের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
২৫) সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল।
২৬) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের লুটেরাদের দায়মুক্তি দিয়ে করা আইনের সংশ্লিষ্ট দুটি ধারা বাতিল।
২৭) জয়বাংলা জাতীয় স্লোগান হিসেবে বাধ্যতামূলক করে দেওয়া রায় স্থগিত করা।
২৮) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ আইন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত।
২৯) দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগ এবং নতুন চেয়ারম্যান এবং কমিশনার নিয়োগ করে দুর্নীতির বিচারে গতি সঞ্চার করা।
৩০) এক বছরের মধ্যে দুদক পতিত শেখ হাসিনা সরকারের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ৭৬৮টি অভিযোগ তদন্ত করে ৩৯৯টি মামলা করেছে। প্রভাবশালী আমলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১৪৪ মামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা হয়। দুদকে মোট অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে ৩২১টি।
জনতুষ্টিমূলক পদক্ষেপ:
১) ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজায় ছুটি বৃদ্ধি।
২) এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসবভাতা ২৫ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা ও সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বেড়েছে।
৩) বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে ১ লাখ ৮২২ জন শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান।
৪) দামে লাগাম টানতে সয়াবিন ও পামওয়েলে শুল্কছাড়, চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার।
৫) চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২-এ উন্নীত করা, সরকারি চাকরিতে আবেদনের ফি কমানো।
৬) সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন।
৭) ৭৭৮ প্রভাবশালীর অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল।
৮) শেখ পরিবারের নামে করা প্রায় ১০০০ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন।
৯) শেখ হাসিনাসহ ৯৭ জনের পাসপোর্ট বাতিল, শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোটের পরিবর্তে বিভিন্ন মূল্যমানের নতুন নোট প্রবর্তন।
১০) পুলিশের লোগো থেকে নৌকা বাদ দিয়ে নতুন লোগো চূড়ান্ত করা।
১১) কক্সবাজারে জনপ্রশাসন একাডেমির নামে ৭০০ একর বনভূমির বন্দোবস্ত বাতিল করা।
১২) ১২ সাবেক সচিব ও বিচারককে তুষ্ট করতে বরাদ্দ করা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বাতিল করা।
১৩) কবি নজরুলকে জাতীয় কবির স্বীকৃতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি।
১৪) মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে আনন্দ শোভাযাত্রা করা।
১৫) পাঠ্যবইয়ে এক ব্যক্তির সব কৃতিত্ব ও বন্দনার পরিবর্তে সব জাতীয় নেতাদের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৬) ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পদোন্নতি-বঞ্চিত জনপ্রশাসনের ৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে বঞ্চনার প্রতিকার ও প্রশাসনে ভারসাম্য আনার চেষ্টা হয়েছে।
১৭) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
১৮) হজ প্যাকেজের ব্যয় কিছুটা হলেও কমিয়ে প্রশংসিত হয়েছে। (ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হজযাত্রীদের নির্ধারিত প্যাকেজ মূল্য থেকে অর্থ সাশ্রয় হওয়ার পর তা ফেরত দেওয়া হয়েছে।)
১৯) হত্যা মামলায় খালাস পেয়েও বিস্ফোরক আইনের মামলায় কারাগারে থাকা বিডিআরের সাবেক ১৭৫ সদস্য জামিনে মুক্তি।
২০) ইবতেদায়ি মাদরাসা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের ঘোষণা করা হয়েছে।
২১) সাইবার নিরাপত্তা আইন থেকে বিতর্কিত ও নিপীড়নমূলক ৯টি ধারা বাতিল।
সরকার জুলাই-আগস্টের গণহত্যার তদন্তে জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং (তথ্য অনুসন্ধান) মিশনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। এ বিষয়গুলো খাটো করে দেখার সুযোগ কোথায়?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




