somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকৃতির বৈচিত্র্য: ডারউইনবাদীদের নাইটমেয়ার-১০

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী পুরো জীবজগতের উৎস যেহেতু একটি অণুজীব সেহেতু লক্ষ লক্ষ প্রকারের ফল-মূল-ফুল'র গাছের আলাদা আলাদা কোনো উৎস নাই। একটি অণুজীব থেকে যদি উদ্ভিদজগত ও প্রাণীজগত বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে বিবর্তনের কোনো এক পর্যায়ে উদ্ভিদকে আলাদা হতেই হবে। শুধু তা-ই নয়, সেই উদ্ভিদ থেকে আবার লক্ষ লক্ষ প্রকারের উদ্ভিদ বিবর্তিত হতে হবে; যাদের মধ্যে হাজার হাজার ধরণের শুধু লতা-পাতা-ওয়ালা উদ্ভিদ, হাজার হাজার ধরণের শুধু ফুল-ওয়ালা উদ্ভিদ, এবং হাজার হাজার ধরণের ফলন্ত উদ্ভিদ আছে। আর এগুলোর সবই হতে হবে "এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন" এর মাধ্যমে!

প্রথমত, বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী প্রথম উদ্ভিদ তালগাছ জাতীয় কিছু ছিল না নিশ্চয়। ধরা যাক, শৈবাল জাতীয় কিছু একটা ছিল। তো সেই শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ থেকে কীভাবে বিশাল বিশাল ফল-মূল ও ফুলের গাছ বিবর্তিত হবে, যেখানে শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ এখনো রয়েই গেছে? ডারউইনবাদীরা প্রমাণ দেখাতে না পেরে নিশ্চয় বলবেন যে শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ থেকে এক লাফে বিশাল বিশাল ফল-মূল ও ফুলের গাছ বিবর্তিত হয়নি – ধীরে ধীরে হয়েছে! প্রমাণ দেখাতে না পারলেই সেটি ‘ধীরে ধীরে’ হয়! কিন্তু শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ থেকে ধীরে ধীরে বিশাল বিশাল ফল-মূল ও ফুলের গাছ যে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব নয় – এই সত্যকে কখনোই স্বীকার করা হবে না।

দ্বিতীয়ত, এবার ফল-ফুল বিহীন যে কোনো একটি উদ্ভিদ চিন্তা করুন। এরকম একটি উদ্ভিদকে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে রেখে দিলেও কি সেখানে একদিন ফল/ফুল ধরা শুরু করবে? ফল/ফুল ধরার জন্য নতুন তথ্য কোথা থেকে আসবে? ফল/ফুল কি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধাপে ধাপে ধরবে নাকি এক লাফে ধরবে? অর্থাৎ প্রাথমিক অবস্থায় একটি ফল/ফুল কি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় থাকবে না? প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পূর্ণাঙ্গ হবে? সেই ফল/ফুলের গাছ থেকে আবার শত শত ফল/ফুলের গাছ-ই বা কেনো ও কীভাবে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হবে?

তৃতীয়ত, প্রকৃতিতে বিভিন্ন ফলের মধ্যে বিভিন্ন সংখ্যক বিচি দেখা যায়। একটি থেকে শুরু করে অসংখ্য বিচি-ওয়ালা ফল আছে। প্রত্যেক ফলের আকার-আকৃতি ও স্বাদ আলাদা। এই অবস্থায় এক ফলের গাছ থেকে অন্যটি কীভাবে ধাপে ধাপে বিবর্তিত হবে?

চতুর্থত, কোন গাছ থেকে ধাপে ধাপে তালগাছ বিবর্তিত হয়েছে? তালগাছ থেকে কীভাবে ধাপে ধাপে ভিন্ন একটি গাছ বিবর্তিত হওয়া সম্ভব? কোন গাছ থেকে ধাপে ধাপে আম গাছ বিবর্তিত হয়েছে? কোন গাছ থেকে ধাপে ধাপে কাঁঠাল গাছ বিবর্তিত হয়েছে? কোন গাছ থেকে ধাপে ধাপে ডালিম গাছ বিবর্তিত হয়েছে? এই গাছগুলো থেকে ধাপে ধাপে নতুন ফল-মূলের গাছ আর বিবর্তিত হচ্ছে না কেনো?

পাঠক! উদ্ভিদের প্রজনন প্রক্রিয়া কিন্তু রয়েই গেল। সকল উদ্ভিদের প্রজনন প্রক্রিয়া এক রকম না। ফলে উপরোক্ত বিষয়গুলোর সাথে প্রজনন প্রক্রিয়া যোগ করলে ডারউইনবাদীদের অবস্থা আরো করুণ হবে।

ফল-ফুল-বিহীন উদ্ভিদ



শুধু ফুলের গাছ



ডারউইনবাদীদের তালগাছ



আম গাছ



অ্যাপেল গাছ



আঙ্গুর গাছ



পেপে গাছ



কাঁঠাল গাছ



এবার একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করা যাক, যাতে করে সবাই ব্যাপারটা বুঝতে পারেন। ডালিম ও ডালিম গাছের কথাই চিন্তা করুন। একটি ডালিম গাছে অনেক ডালিম ধরে। প্রত্যেক ডালিমের মধ্যে শত শত বিচি থাকে। প্রত্যেক বিচিকে ঘিরে সুমিষ্ট ও ভাইটামিনযুক্ত রস থাকে, সেই রস আবার পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। ডালিমের ভেতরে একাধিক প্রকোষ্ঠ দ্বারা বিচিগুলো আলাদা করা থাকে। সবকিছু আবার শক্ত খোসা বা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

ডালিম গাছ





প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা জানি যে, ডালিম গাছে ডালিম ধরে এবং ডালিমের বিচি থেকে আবার ডালিম গাছ হয়। অন্যভাবে বললে বলা যায়, ডালিমের বিচি থেকে ডালিম গাছ হয় এবং সেই গাছে আবার ডালিম ধরে। ফলে ডালিম আর ডালিম গাছকে একটি চক্র বলা যেতে পারে। এই অবস্থায় অন্য কোনো গাছ থেকে ধাপে ধাপে ডালিম গাছ বিবর্তিত হওয়ার সুযোগ কোথায়! অন্য কোনো গাছ থেকে যদি ডালিম গাছ ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয় তাহলে ডালিমের অবস্থা কেমন হবে? গাছ-ই বা কেমন হবে? ভেবে দেখুন। একবারে পূর্ণাঙ্গ ডালিম গাছ কিংবা ডালিমের বীজ ছাড়া অন্য কোনো ভাবেই একটি ডালিম গাছ ও ডালিমকে চিন্তা করা যাবে না। ডালিম গাছের জায়গায় অন্য যে কোনো ফলের গাছ যদি বিবেচনা করা হয় তাহলেও একই ফলাফল আসবে। অর্থাৎ বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেকটি ফলের গাছের আলাদা আলাদা উৎস থাকতে হবে। আর তা যদি থাকতেই হয় তাহলে ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই অসার ও ভুল প্রমাণিত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৪০
৩০টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রোজার ২৪ আধুনিক মাসআলা, যেগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন সকলেরই - রিপোস্ট

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

রোজার ২৪ আধুনিক মাসআলা, যেগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন সকলেরই - রিপোস্ট

ছবিঃ অন্তর্জাল।

পবিত্র মাহে রমজান খুবই নিকটবর্তী। আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা'বান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান। হে আল্লাহ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের আমিরের একাউন্ট হ্যাক আওয়ামী লীগের হ্যাকাররা করে থাকতে পারেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫৮



নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি। গত বছর, লন্ডন থেকে আমার এক আত্মীয় হঠাত একদিন আমাকে জানান যে, 'গ্রামের রাজনীতি' নামক এক ফেসবুক পেইজে আমার উপরের ছবি দেওয়া হয়েছে। আমি হতবাক!... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একটি জোনাক প্রহর দেবে আমায়=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৮


গাঁয়ের বাড়ি মধ্যরাতে
জোনাক নাকি বেড়ায় উড়ে,
ঝিঁঝি নাকি নাকি সুরে
ডাকে দূরে বহুদূরে?

মধ্যরাতের নীল আকাশে
জ্বলে নাকি চাঁদের আলো!
রাতে নাকি নিরিবিলি
বসে থাকলে লাগে ভালো?

শিয়াল ডাকে হুক্কা হুয়া;
কুকুর ডাকে একা ঘেউ ঘেউ;
মধ্যরাতে গাঁয়ে নাকি
ঘুমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তানের বির্যে জন্ম নেয়া জারজরা ধর্মের ভিত্তিতে, বিভাজিত করতে চায় বাংলাদেশের নাগরিকদের ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৯



বাংলাদেশী ধর্মান্ধ মুসলমান,
বাঙালি পরিচয় তোমার কাছে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য।
তুমি কি দেশে দেশে Ehtnic Cleansing এর ইতিহাস জানো? জাতিগত নিধন কী বোঝো?
বাঙালি জাতি নিধনের রক্ত-দাগ প্রজন্ম থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ: ব্লগার রাজিব নূর এবং মহাজাগতিক চিন্তা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৬


ঢাকার শীতের সকালটা একটু ঘোলাটে ছিল। রাজিব নূর ট্রেনে চড়ে বগুড়া যাচ্ছিল। হাতে একটা পত্রিকা, মাথায় অন্য কিছু। ট্রেনের জানালা দিয়ে মাঠ, গ্রাম, আর ধোঁয়াটে আকাশ পেরিয়ে যাচ্ছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×