somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইলেকট্রিক সার্কিট নিয়ে সংক্ষিপ্ত টিউটরিয়াল (পর্ব-২)

০৬ ই জুন, ২০১১ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্বে সিরিজ, সমান্তরাল, এবং ওয়াই-ডেল্টা সংযোগ নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। এই পর্বে সার্কিট বিশ্লেষণের আরো একটি মৌলিক বিষয়, কার্শহফ'স সার্কিট নীতি (Kirchhoff's Circuit Laws) নিয়ে আলোচনা করা হবে। কার্শহফ'স সার্কিট নীতি আসলে দুটি: কার্শহফ'স কারেন্ট নীতি (Kirchhoff's Current Law) এবং কার্শহফ'স ভোল্টেজ নীতি (Kirchhoff's Voltage Law)। এই দুটি নীতিই শক্তির নিত্যতা সূত্রের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। নীতি দুটি নিয়ে আলোচনাতে যাওয়ার আগে সংযোগস্থল বা নোড (Node/Junction) এবং ফাঁস বা লুপ (Loop) সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। সাধারণ অর্থে দুই বা ততোধিক ব্র্যাঞ্চ এর মিলিত সংযোগস্থলকে নোড বলা হয়, তবে সার্কিট বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তিন বা ততোধিক ব্র্যাঞ্চ এর মিলিত সংযোগস্থল বিবেচনা করা হয়ে থাকে যাকে বলে এসেনশিয়াল নোড (Essential Node)। অর্থাৎ নোড হচ্ছে একটি বিন্দু বা সংযোগস্থল যেখানে দুই বা ততোধিক ব্র্যাঞ্চ মিলিত হয়। অন্যদিকে ফাঁস বা লুপ হচ্ছে বৃত্তের মতো বদ্ধ পথ।

কার্শহফ'স কারেন্ট নীতি (KCL): এই নীতি অনুযায়ী কোন নোড বা বিন্দুতে যে পরিমাণ কারেন্ট প্রবেশ করে, ঠিক একই পরিমাণ কারেন্ট সেই বিন্দু থেকে বেরিয়ে যায়। অন্যভাবে বললে বলা যায়, কোন বিন্দুতে কারেন্ট এর বীজগণিতীয় যোগফল শূন্য। বীজগণিতীয় যোগফল বলা হচ্ছে এ কারণে যে, কারেন্ট ধনাত্মক বা ঋণাত্মক হতে পারে। যেমন একটি বিন্দুতে কারেন্ট এর প্রবেশকে যদি ধনাত্মক ধরা হয় তাহলে সেই বিন্দু থেকে কারেন্ট এর বহির্গমনকে ঋণাত্মক ধরতে হবে, এবং এর বিপরীতটাও সত্য। গণিতের সাহায্যে কার্শহফ'স কারেন্ট নীতিকে নিম্নের সমীকরণ দ্বারা প্রকাশ করা যায়,



যেখানে n হচ্ছে একটি বিন্দুতে সংযুক্ত মোট ব্র্যাঞ্চের সংখ্যা। এবার নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করা যাক। চিত্র অনুযায়ী একটি বিন্দুতে চারটি ব্র্যাঞ্চ মিলিত হয়েছে এবং তীর চিহ্ন দ্বারা ব্র্যাঞ্চ কারেন্ট এর দিক নির্দেশ করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে I1 ও I2 নোডে প্রবেশ করছে, এবং I3 ও I4 নোড থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এবার ঐ নোডে যদি কার্শহফ'স কারেন্ট নীতি প্রয়োগ করা হয় তাহলে লিখা যায়: I1 + I2 = I3 + I4. এখানে মাত্র একটি নোডের উদাহরণ দেয়া হয়েছে। তবে একটি সার্কিটে একাধিক নোড থাকতে পারে। কার্শহফ'স কারেন্ট নীতি প্রয়োগ করে নোডাল অ্যানালাইসিস (Nodal Analysis) নামক একটি পদ্ধতির সাহায্যে সার্কিট সমাধান করা যায়।



স্মরণযোগ্য পয়েন্ট: ১) একটি নোডের সাথে যতগুলো ব্র্যাঞ্চ যুক্ত থাকবে তার সবগুলোকেই বিবেচনা করতে হবে, কোন একটিকেও বাদ দেয়া যাবে না; ২) কারেন্ট এর দিক অনুযায়ী (তীর চিহ্ন লক্ষ্যণীয়) ধনাত্মক ও ঋণাত্মক কারেন্ট চিহ্নিত করতে হবে।

কার্শহফ'স ভোল্টেজ নীতি (KVL): এই নীতি অনুযায়ী যে কোন বদ্ধ সার্কিট বা লুপের মধ্যে ভোল্টেজ এর বীজগণিতীয় যোগফল শূন্য। এক্ষেত্রেও বীজগণিতীয় যোগফল বলার কারণ হচ্ছে ভোল্টেজ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক হতে পারে। কার্শহফ'স ভোল্টেজ নীতিকে গণিতের সাহায্যে এভাবে প্রকাশ করা যায়,



যেখানে m হচ্ছে একটি লুপের মধ্যে মোট ভোল্টেজ এর সংখ্যা। এবার নিচে প্রথম সার্কিট ডায়াগ্রামটি লক্ষ্য করুন, যেখানে একটি ভোল্টেজ সোর্স (E) এবং চারটি রোধক আছে। রোধক চারটির বিভব পার্থক্য দেয়া আছে যথাক্রমে E1, E2, E3, ও E4. যে কোন একটি বিন্দু থেকে শুরু করে যদি কার্শহফ’স ভোল্টেজ নীতি প্রয়োগ করা হয় তাহলে লিখা যায়: E – E1 – E2 – E3 – E4 = 0. অনুরূপভাবে, দ্বিতীয় সার্কিট ডায়াগ্রামে কার্শহফ’স ভোল্টেজ নীতি প্রয়োগ করলে আসে: VB – V1 – V2 = 0. একটি সার্কিটে একাধিক লুপ থাকতে পারে। কার্শহফ’স ভোল্টেজ নীতি প্রয়োগ করে মেশ অ্যানালাইসিস (Mesh Analysis) নামক একটি পদ্ধতির সাহায্যে সার্কিট সমাধান করা যায়।





স্মরণযোগ্য পয়েন্ট: ১) একটি লুপের মধ্যে যতগুলো ভোল্টেজ (Rise/Drop) থাকবে তার সবগুলোকেই বিবেচনা করতে হবে, কোন একটিকেও বাদ দেয়া যাবে না; ২) পোলারিটি অনুযায়ী ধনাত্মক ও ঋণাত্মক ভোল্টেজ চিহ্নিত করতে হবে; ৩) কোন একটি বিন্দু থেকে শুরু করে যে কোন এক দিক দিয়ে (ঘড়ির কাঁটার দিকে কিংবা বিপরীত দিকে) লুপ সম্পন্ন করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১২ রাত ১১:৪৮
১০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×