somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাটক - " ব্যাঁকা ভাই - কোরবান ''

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


( এই নাটকের ২টি চরিত্র
এবং একটি ঘটনা ছাড়া সকল ঘটনা ও
চরিত্র কাল্পনিক )

পার্ট ১
ঘটনাস্থল - ব্যাঁকা ভাই এর চেম্বার
আই মিন অফিস আই মিন আস্তানা -
ব্যাঁকা ভাই চেয়ারে হেলান
বসে আছেন । দু চোখ আরামে বন্ধ ।
আরামে বন্ধ হবার কারন
হচ্ছে চান্দিছিলা ছগির ,
ব্যাঁকা ভাই এর খাস লোক । ্ডান
হাত ও বলা যায় । আরামের কারন
ছগির এই মুহূর্তে তার
ঘাড়ে স্পেশাল ম্যাসাজ দিচ্ছে ।
ছগির বলেছে এর নাম কুংফু
ম্যাসাজ , এবং এই ম্যসাজ
দিয়ে নাকি বাঘ থেকে শুরু
করে মন্ত্রি মিনিস্টার সকলকে '
বানিয়ে ' দেওয়া যায় ।
ছগির !
- জি ব্যাঁকা ভাই ??
এই ম্যাসাজ কই
থেইকা শিখলি রে তুই ?
- ঢাকার এক চাইনিজ
পারলারে কাজ করতাম ,
অইখানকার মালিক শিখাইসে ।
আমারে খুব স্নেহ করতো ।
হুম্ম । আচ্ছা , অখন অফ জা । বল , কেইস
কি ?
- জি ব্যাঁকা ভাই ??
আরে ব্যাটা বলসি কেইস কি ?
আবার কি ভেজাল
বান্ধাইয়া আমার কাছে আসছস ??
- আরে রে রে ব্যাঁকা ভাই
আপনে তো জিনিয়াস !!
( পা ছুঁয়ে সালাম করে )
আপনে কেমনে বুঝলেন আমার কেইস
আছে ??
আপনারে তো ডেইলি সকালে নিয়ম
কইরা চার বার কদম্বুসি করা দরকার
পাম-পট্টী মারবি না খবরদার !!
থাবড়াইয়া গালের দাত
ছুটায়া ফালামু !
- ওকে বস ! এই কানে ধরলাম ।
আচ্ছা এইবার ক । কি হইসে ??
- বস , ওই পাড়ার এক মাইয়া না ,
আমারে হুমকি দিসে ,
আমারে জেলের ভাত
খাওয়াইবো ।
কি হাঙ্কি-পাঙ্কি করসত অর
সাথে ?
- আরে বস কিচ্ছু না কিচ্ছু না ! কসম !!
ওরে আমি চিনিও না ! কই
থেইকা উইড়া আইসা আমারে শুরু
করলো ধুনা দেওয়া আর কইলো আর
যদি কোনো টাল্টি বাল্টি করি ,
তাইলে ডাইরেক্ট ১৪ শিক
হে হে হে , এর লাইগাই তো কই
তোর চক্ষের
নিচে কালশিটা ক্যান !!
হা হা হা !!
- তামশা কইরেন না বস , বহুত
টেনশনে আসি ।
আইচ্ছা ওকে ওকে । মেয়ের নাম
কি ?
- ফারিহা , বস ।
থাকে কই ?
- বস
আপনি অনুমতি দিলে এক্ষনি আপনারে লইয়া যাই ,
এখন বাইরে আসে ।
ও কোন সময় বাইরে থাকে তুই
কেমনে জানস ??
- না ...... ইয়ে ,... মানে বস ,
আপনি তো ওরে সাইজ করবেন , না ?
হুম্ম
- তাইলে চলেন বস , জলদি চলেন !!
ল যাই । ওই বল্টু !! বাইকের
চাবি বাইর কর ।
দৃশ্য ২ ।
ঘটনাস্থল - একটি গার্লস
কোচিং সেন্টার এর সামনে -
ছগির তোরে আগেই
কইসি আমি এইসব গার্লস কোচিং এর
সামনে আমার
লজ্জা লজ্জা লাগে ,
তাড়াতাড়ি কাম সার ।
- আরে বস এইডা কুনু কথা কইলেন ??
কেসটাই
তো একটা মাইয়ারে নিয়া ।
এতো ডরাইলে চলে ?? ( হটাত অন্য
দিকে তাকিয়ে ) ওই যে বস !!! ওই
যে ! আইতাসে !!
এমন সময়
হেটে আসছিলো ফারিহা ।
সাথে গুটি কয়েক অন্য তরুণী
ছগির - ওই মাইয়া ওই !! খাড়াও
কইলাম !
ফারিহা দাড়ালো । অন্যদের
কে বললো অপেক্ষা করতে ।
ব্যাঁকা ভাই মেয়েটার
দিকে অপলক তাকিয়ে রইলো ...
হা করে.........
ফারিহা - কি হইসে রে ছ্যাকা ??
ছগির - দেখলেন ভাই !! দেখসেন !!
কত্ত বড় বেয়াদপ এই মাইয়া !!
ব্যাঁকা ভাই - ওই তুই থাম ।
( ফারিহার দিকে তাকিয়ে ) ও
যা বলসে সব সত্যি ??
ফারিহা - কি বলসে ও ?
ব্যাঁকা ভাই - তুমি নাকি ওরে খুব
সাইজ করসো ?
ফারিহা - হুম্ম করসি । তো ?
ব্যাঁকা ভাই - ওর
নাকি কোনো দোষ ছিলো না ?
মানে ও নাকি তোমার
কোনো ক্ষতি করে নাই ?
ফারিহা - হুম । করে নাই ।
ব্যাঁকা ভাই - তাইলে এই কাজ
করলা ক্যান ??
ফারিহা - তাইলে ও আমার
বান্ধবী কে টিজ করলো ক্যান ??
ব্যাঁকা ভাই - কি ?? ওই ছগিরা !!
সত্যি ??
ছগির - না মানে ইয়ে বস
ফারিহা - ওই ! ইয়ে ইয়ে কি করস !! তুই
করস নাই এইসব কিচ্ছু ?? থাবড় চিনস ?
অইদিন মাইর খাইয়া শিক্ষা হয়
নাই ??
ব্যাঁকা ভাই - বুঝছি ...... যা বুঝার
বুঝছি
ছগির - আরে ব্যাঁকা ভাই ......।
ব্যাঁকা ভাই - ( গোটা চট্টগ্রাম
কাঁপানো ধমক ) থাম !!!! খাঁড়া তোর
ব্যাবস্থা আমি করতাসি । কত্ত বড়
সাহস তুই নিজে মাইয়ার
পিছে ঘুইরা ওখন আইসত
আমারে ফাসাইতে ?? তুই অফ
যা অক্ষন ।
বিকালে চেম্বারে আইবি ,
নাইলে কি হইবো বুঝস ই তো ( গলায়
পোচ দেবার ভঙ্গি ) ।
ছগির - ( ফ্যাকাশে মুখে ) জি , ভাই
।
ছগির এর প্রস্থান । ব্যাঁকা ভাই আর
ফারিহা মুখোমুখি -
ব্যাঁকা ভাই - আচ্ছা ,
তুমি একটা মেয়ে হইয়া ওর
মতো গন্ডার রে কেমনে সাইজ
করলা ??
ফারিহা - মানে ? কি বলতে চান ?
মেয়ে বলে কি কিছু
করতে পারবো না আমরা ??
আমরা নারী জাতি হলাম .........।
ব্যাঁকা ভাই -
আরে না না ওটা বলি নি ( লক্ষনীয়
- ব্যাঁকা ভাই হঠাত করে শুদ্ধ
ভাবে কথা বলছেন ) ।
মানে এতো সাহস
কোথা থেকে পেলে , মানে কেউ
যদি উলটা পালটা কিছু
করে বসতো ।
ফারিহা - সাহস পাবে না ।
ব্যাঁকা ভাই - কেনো ?
ফারিহা চুপ , মুখে ঈষৎ মুচকি হাসি
ব্যাঁকা ভাই - কি হলো ?
বলছো না কেন কিছু ??
ফারিহা - ( রহস্যময় হাসি দিয়ে )
আপনি আছেন কি করতে ??
ব্যাঁকা ভাই - কি ! কি বলো ??
ফারিহা - বুঝবা না । ( লক্ষনীয় -
তুমি সম্বোধন ) বাই ।
মুখ হা করে ব্যাঁকা ভাই
দাঁড়িয়ে থাকলো । ঘটনার
আকস্মিকতায় হতভম্ব সে ।
এরই মাধ্যমে ফারিহার জন্য
কোরবান হয়ে গেলো আমাদের
ব্যাঁকা ভাই ।
- সমাপ্তি -
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×