আজ অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়িই বাসায় ফিরলাম। একটা বার্গার বানিয়ে খেতে খেতে বসলাম নেটে। Skypeতে বসে বারবার কল দেওয়ার পরও রেসপন্স না পেয়ে গিন্নীর মোবাইলে ফোন দিলাম। কারন জানতে চাইলে গিন্নী মেয়ের হাতে ফোন ধরিয়ে দিল। মেয়ে জানালো ঝড়ে না কি রাউটারের লাইন বিচ্ছিন্ন। আজ তিনদিন ধরেই এই অবস্থা। বললাম এই তিনদিনেও ঠিক না হলে অপারেটর বদলে ফেল। উত্তরে জানালো খোজ নিচ্ছে। প্রায় মিনিট দশেক কথা বলে লাইন কেটে দিলাম। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে লাইভ না দেখে কথা বললে কারোরই মন ভরে না।
লাইন কেটে দেবার পর সময় আর কাটছে না। ব্লগে বসে আছি ঘন্টার উপর কিন্তু মনটা পড়ে আছে সেই বাসায়। এটাই আমাদের প্রবাসীদের ট্রাজেডি। সবাই দেখে আমরা আর দশজনের চেয়ে অনেক বেশী অর্থ উপর্জন করছি। কিনছি বিলাস সামগ্রী কিন্তু কেন?? কারন একটা অভাব পূরনের জন্য। স্বামীর ভালবাসা আর পিতার স্নেহের বিনিময়ে। মেয়েটাকে সেই তিনবছরের রেখে এসেছিলাম আর গিন্নীর কথা নাই বললাম। সেই মেয়ের আজ বিয়ের সম্পর্ক আসছে। গিন্নী মধ্যবয়স্ক। আমার অবস্থাতো আরো কাহিল। ওপেন হার্ট সার্জারী করে এক্সটেনসন লাইফ মেইন-টেইন করছি। সব কিছুতে বাছা-বাছি,মাসে শতেক খানেক ঔষধ গেলা। তারপরও মাঝে মাঝেই শরীর খারাপ। বাসায় বলি না ভয় পাবে,দুঃশ্চিন্তা করবে বলে। হ্যা প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে দেশে ফিরে যাচ্ছি না কেন?? কারন একটাই যা উপার্জন,তাই খরচ। পূজির মধ্যে সাড়ে তিনকাঠা জায়গা যা কি না গ্রীন ভ্যালীর সাথেই। কিন্তু আর কিছু করা সম্ভব হয় নি। কেন যে হয় নি তার ব্যাখ্যা দিতে হলে নিজেকেই দায়ী করতে হবে।( তাই বলে দয়া করে কেউ ভেবে বসবেন না যেন,আমি চরিত্রহীন। যা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিন বসবাসরতদের মাঝে দেখা যায়। এদের বংশপরিচয়েই তার প্রমান। কেউ আঘাত পেলে আমি দুঃখিত।)।
অনেকে স্বপ্ন দেখেন প্রবাসের। সাথে প্রচুর অর্থের। হ্যা, তা পাওয়া যায় কিন্তু বিনিময়ে অনেক কিছু খোয়ানোর জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।। ভাই-বোনের মমতা, স্ত্রীর ভালবাসা, সন্তানের স্নেহ, কি না??
কিন্তু তারপরও আমার সন্তান থাকুক দুধে-ভাতে। আমার মত জিরো থেকে যেন ওকে শুরু করতে না হয়-এটাই আমাদের স্বামী-স্ত্রীর একমাত্র কামনা।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


