somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিরোনাম নেই,ভেবেও পেলাম না।।

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ ভোর ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুয়ে পড়েছিলাম নিরুদ্বেগে একজন সাজুসহ শতাধিক হতাহতের খবর পড়েও।। কোন বৈকল্যই ছিল না মনে।। নিরুত্বাপ খুনির মতই।। কিন্তু কম্বলটা গায়ের উপর মেলে ধরার পরই কেন যেন ততটাই নিরুদ্বেগে ঘুমিয়ে পড়তে পারলাম না।। এমনিতেই আমি শোয়ার সাথে সাথেই ঘুমাতে পারি না।। প্রয়োজন ঔষধের।। আজ তাও নেই।। থাকলে সেই কখন ভাবনা-চিন্তাকে কাচকলা দেখিয়ে সুন্দর সুন্দর স্বপ্নের মাঝে ডুবে যেতে পারতাম!!
পারলাম না বলেই আরামদায়ক তুলতুলে কম্বলটা ফেলে আবার বসলাম লিখতে।। কারন এই লেখাই এখন আমাদের মনের ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম।। সেটা সমর্থনই হোক বা প্রতিবাদই হোক আবার হতে পারে চলমান গতির ভিন্নমতাবলম্বী ধারাও।।
ভাবছি সাজুর কথা।। সাজু আমারই কৈশরের আরেকরূপ।। বংশীবাজারের মেঝমামার কোলে বসে সেই তাঁজিয়া মিছিল দেখা।। সেই সাজানো ঘোড়া আর কবর দেখা।। পিছনে হাজারো লোকের বুকে-পিঠে চাকু,চেনের বুকে-পিঠ রক্তাক্ত করা মিছিল।। কোথাও লাঠি খেলা।। মাঝে মাঝে পেস্তা-দৈয়ের শরবতের ড্রাম।। মামা ওদের ডেকে কলসীভরে শরবত নিতেন,বাসার সবার জন্য।। কি স্বাদ ছিল তার!! আজো মনে পরে।।
তারপর একটু বড় হতেই এলাকার বিহারী ছেলেদের সাথে সেই লাঠি,চাকু,আগুনের খেলা (একটি সাইকেলের রিংয়ে কাপড় পেচিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে তার ভিতর দিয়ে ড্রাইভ দেয়া) খেলেছি নিজেই।। কিন্তু আব্বা-মাকে খেলাগুলির বিপদাশংকা বাদ দিয়ে কখনো বলতে শুনি নি,এটা আমাদের না।। এটা শিয়া বা ওটা সুন্নির।।
খেলতে খেলতে এলাকার বাহিরেও চলে যেতাম অনেকসময়।। কিন্তু অন্যসময় পারিবরিক সীমারেখা থাকলেও এসময়টাতে থাকতো না কিছুই।। যেমন থাকতো না পুজোর সময় বা ঈদের সময়ও।। সে সময় এসবকিছুরই উর্ধে ছিলো মানবিকতা।। যার যার ধর্ম তার তার কাছে।।
আমরা যেমন সাদরে সবাইকে গ্রহন করতাম,তেমনি ওরাও আমাদের ।। ভেদাভেদ বা ধর্মের পংকিলতা ছিল না।। প্রসাদ খেয়েছি,বামুনঠাকুর নিজ হাতে প্রসাদ দিয়েছে তেমনি বন্ধুকেও ঈদের সময় নির্দিধায় খেতে দেখেছি।। আজ দেখুন কি সুন্দর আমরা আর ওরা হয়ে গেলাম।। যা একদিন ছিলো শুধু আমরাই।। অর্থাৎ নিজের অজান্তেই এই বিভেদের বিষ আমার মাঝেও সংক্রমিত হয়েছে।। শুধু এটুকু বোঝাতেই এডিট করলাম না।।
কিন্তু কে বা কারা দায়ী?? আমরা অবশ্যই না।। কারন যারাই গ্রেনেড বা বোমা নিক্ষেপ করুক তাদেরও যে ভিন্নধর্মাবলম্বী বন্ধু নেই এটা অন্ততঃ আমাকে বিশ্বাস করতে বলবেন না।। আছে তাদেরও।। যার সাথে এককাপ চা পিরিচে ঢেলে বা একটি সিগারেটকে শেয়ার করে খেয়েছে।। তারপরও?? হ্যাঁ তারপরও সে পেরেছে কারন তার গডফাদার তার পিঠ চাপড়ে দিয়েছে।। কিন্তু বলে নি সাজুর মত আরো অনেকের সাথে তোকেও কোরবানী দিলাম।। তুই আমার দাবার সামান্য একটি পন মাত্র।।
আমি অতসব ভাবতে যাই না।। আমার ভাবনা শুধু আমার সেই ছোটবেলার একটি সুন্দর স্বপ্নের মৃত্যু আসলে হত্যা বলাই ভাল হবে দেখে।। রাষ্ট্র কি শুধু ধর্মান্ধদের বিষছোবলেই নীল হতে থাকবে?? নেই কি তার প্রতিরোধ??
আসলে প্রতিবাদ করা যায়।। সমাধান না।। কারন এটা জনসাধারনের হাতে না।। এরা মালিক শুধু সমর্থনের আর প্রতি পাচবছরে একটি ভোটের।।

[img|http://s3.amazonaws.com/somewherein/pictures/sochetonhappy/sochetonhappy-1445725992-1ca1e00_xlarge.jpg
বিঃদ্রঃ ছবিটি প্রথম আলো থেকে নেয়া।।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:০২
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×