নতুনদেশ ডটকম: http://www.notundesh.com/
সহনশীলমুল্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ন সকল স্থানে জনগোষ্ঠীকে দ্রতগতির ইন্টারনেট সেবা পৌছেঁ দেওয়ার লক্ষমাত্রা পূরণ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ইন্টরনেট রপ্তানি করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক টেণ্ডার ডাকা হয়েছে। গত ২০ জুন ছিলো টেণ্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন।
বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যয় ,প্রাপ্যতা এবং সর্বনিম্নগতি নিয়ে জনসাধারনের ভোগান্তি থাকলেও ব্যাণ্ডউইডথ রপ্তানির এই উদ্যোগে নানা মহলে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল ) গত ১৩ মি সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যাণ্ডউই্ডথ এর লিজের জন্যে দরপত্র আবেদন করে টেণ্ডার প্রকাশ করে। SEA-ME-WE-4 ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের যে কোনো ল্যাণ্ডিং স্টেশন থেকে পয়েন্ট টু পয়েন্ট সংযোগ হিসেবে তিন বছরের জন্যে এই লিজ দেওয়ার কথা দরপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত কতগুলো আবেদন জমা পড়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি।
তবে ব্যাণ্ডউইডথ লিজ বা রপ্তাণির উদ্যোগ নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিখাতের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্লগে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। একজন ব্লগার মন্তব্য করেছেন, ২০০৭ সাল থেকে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়ে, ৮০ ভাগ ব্যান্ডউই্ডথ জোর করে অব্যবহৃত রাখার পরও ৩ বছরে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যেখানে বিশ্বের সর্বনিম্ন গতিতে নেটে কাজ করে। বিশ্বের সর্ব উচ্চ ব্যান্ডউইথ মূল্যের জন্য বাংলাদেশের আইএসপিগুলোকে প্রতি ইউজার ৫ কিলোবাইট হারে ব্যান্ডউইথ ডিস্ট্রিবিউশন প্লান করতে হয়। সর্বনিম্ন গতি সত্বেও বাংলাদেশে সরকার বিশ্বের সর্বোচ্চ দামে ব্যান্ডউই্ডথ বিক্রি করে ।
২০০৭ সালে দেশের সর্বপ্রথম সাবমেরিন ক্যাবল তার মাত্র ৪৫ মেগাবাইট ব্যান্ডউইথের ৮০ ভাগ অব্যবহৃত রাখার উদ্দেশে প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইথের মূল্য তখন এক লাখ (প্রায়) টাকার উপরে ধার্য্য করা হয়।ফলে আনুমানিক ২০ বছর স্থায়ী সাবমেরিন ক্যাবলটিতে শতশত কোটি টাকায় নেয়া সংযোগে ৮০ ভাগ ব্যান্ডউইডথ অব্যবহৃত রয়ে গেছে।
বিএসসিএল এর ওয়েবসাইটে পাওয়া কোম্পানির ২০০৯ সালের একটি সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, দেশের আগামী ৫ বছরের চাহিদা মজুদ রেখে অতিরিক্ত ব্যাণ্ডউইথ রপ্তানি বা লিজ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০ জুলাই, ২০০৯ ইস্যূ করা বিএসসিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদি বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়েছে,’ ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারন অপরিহার্য এবং এ প্রেক্ষিতে সাবমেরিন কেবলের ব্যান্ডউইডথ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে। দেশের এ চাহিদাকে সামনে রেখে বিএসসিসিএল ব্যান্ডউইডথের যথাযথ ব্যবহার এবং আগামী ৫ বছরের চাহিদাকে পুরনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইডথ সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যেই সরকার ব্যান্ডউইডথ এর মূল্য হ্রাস করছে যাতে সাধারণ মানুষ এই সুবিধা ভোগ করতে পারে।‘
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,’ বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবহারযোগ্য ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি ৪৪.৬ Gbps, তার মধ্যে মাত্র ৮ Gbps ব্যান্ডউইডথ সারাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের চাহিদা পূরনের পরও ৩৬.৬ Gbps ব্যান্ডউইডথ অব্যবহৃত রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা মাথায় রেখে আগামী ৫ বছর পর্যন্ত সারাদেশের চাহিদা নিরূপন করা হয়েছে ৩৭.০৭৫ Gbps। তারপরও উদ্বৃত্ত থাকবে ৭.৫২৫ Gbps। তাছাড়া সাবমেরিন কেবল আবার আপগ্রেড করা হচ্ছে যা কিনা তৃতীয় আপগ্রেড নামে পরিচিত। এই তৃতীয় আপগ্রেডেশনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে সস্তামূল্যে আরও প্রায় ৭ মিলিয়ন MIU * KM অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ পাবে বলে আশা করা যায় এবং আগামী ২ বছরের মধ্যেই ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তখন এত বিশাল ব্যান্ডউইডথ অবশ্যই বাংলাদেশকে বিদেশে বিক্রি/লিজ দিতে হবে এবং এ ব্যান্ডউইডথ ফেলে রাখার কোন অবকাশ নেই।‘
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,’বিটিসিএল এবং বিএসসিসিএল সম্পূর্ণ আলাদা ২টি কোম্পানী। বিএসসিসিএল সাবমেরিন কেবল এর Basic Service Provider। বিএসসিসিএল তাদের গ্রাহক (IIG, IGW) কে Demand Note এর মূল্য পরিশোধের ৭ দিনের মধ্যে ব্যান্ডউইডথ প্রদানের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উল্লেখ্য যে, অপারেশনে আসার খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিএসসিসিএল তার গ্রাহকদের (ম্যাংগো, বিটিসিএল, মীর টেলিকম, বাংলা ট্র্যাক, নভো টেল) সন্তুষ্টি অর্জনে সফল হয়েছে। বিএসসিসিএল এর দক্ষ জনবল গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে দেশ ও সরকারের কথা ভেবে দেশের চাহিদা মেটানোর পর অব্যবহৃত ব্যান্ডউইডথ স্বল্প সময়ের জন্য বিদেশে
লিজ/রপ্তানীর কথা চিন্তা ভাবনা করছে এবং Upgradation #3 এর পর তা ব্যাপক ভাবে হাতে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।‘
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়,’বিএসসিসিএল এর পক্ষ থেকে আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাতে চাই যে, যদি আমরা বিদেশে ব্যান্ডউইডথ বিক্রি/লিজ দিতে কার্যক্র হাতে নেই, তবে আমাদের দেশের আগামী ৫ বছরের চাহিদা কে সামনে রেখে অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ লিজ দেবো। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের দেশের চাহিদার কথা অবশ্যই আমরা গুরুত্বের সাথে পূর্ণ করার ব্যবস্থা রেখেই তবে বিদেশে রপ্তানীর কথা ভাববো।‘ জানা গেছে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত, তৃতীয় আপগ্রেডেশন ডিসেম্বর ২০০৯ সালেই বাতিল করা হয়েছে ।
বাংলাদেশে ইন্টারনেটে নিম্নগতি সত্ত্বেও ব্যাণ্ডউইথ রপ্তাণির উদ্যোগ নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। ব্লগগুলোতে বলা হচ্ছে, ভারতী এয়ারটেল ও রিলায়েন্স কমিউনিকেশন্স যৌথভাবে বিটিআরসির কাছে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের টেলিকরিডোর স্থাপন করার অনুমতি চাওয়ায় সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি। তবে এ বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে।
এয়ারটেল গত বছরের শেষ দিকে টেলিকরিডোর দেয়ার আবেদন করে। জানা গেছে, এ করিডোর দিয়ে তারা ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপন করে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭ রাজ্যের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ সহজ ও সস্তা করতে চায়। তারা আসামে টেলিকরিডোরের জন্য দুটি রুটের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো কলকাতা-মেহেরপুর-ঢাকা-জাফলং এবং অন্যটি কলকাতা-মেহেরপুর-ঢাকা-কুমিল্লা-আগরতলা রুট। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো ভিস্যাটের মাধ্যমে ভারতের কেন্দ্র ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত, যা খুবই ব্যয়বহুল।
ব্লগগুলোতে বলা হচ্ছে, ব্যাণ্ডউইথ লিজের টেণ্ডার আহ্বানের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতে ইন্টারনেট রপ্তাণি করা। এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ইত্যাদি সস্তা হবে ও বিনিময়ে বাংলাদেশ কিছু চার্জ বা ভাড়া পাবে। উল্লেখ্য টেন্ডারের ব্যান্ডউইথের স্টন্ডার্ড প্রাইস ধরা হয়েছে বর্তমানে দেশে ব্যান্ডউইথের মূল্যের তিন ভাগের এক ভাগ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১০ দুপুর ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


