somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘৃণা আর বঞ্চনার পৃথিবীতে ধর্ম ব্যবসা .....

২০ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন গরীব কৃষকের মেয়ে যদি ইজ্জত হারায় তবে তার বাবা নিরবে অশ্রু ঝরায় আর স্রষ্ট্রার কাছে বিচার চায়। সত্য আর ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী আলীম ফতুয়া দেন এই মেয়েকে স্পর্শ করা যাবে না। কারণ সে অশুচি। এর বিয়ে দেয়া যাবে না। পতিতা বানানোর যত রকম কৌশল আছে সবই প্রয়োগ করা হয়। এই মেয়েকে অপবিত্র বানিয়ে একা করে দেয়া হয়। পরিবারকে করা হয় সমাজ বিচুত্য। ধর্ষকের কি হয়? ধর্ম ব্যবসা দিনে দিনে এভাবেই আমাদেরকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে।



আমাদের জ্ঞান কিভাবে বিকশিত হচ্ছে? ভেবে দেখেছেন কখনো? সিরিয়ালে যেভাবে যা দেখানো হচ্ছে আমরা তাই দেখছি। আমাদের যা বুঝানো হচ্ছে আমরা তাই বুঝচ্ছি। আমাদের নিজস্ব কোন জ্ঞান কি আছে? আমরা নিজেরা কি কখনো ভাবনা ও চিন্তা করার সময় পাই?

এরপরও তোমরা কি গভীর ধ্যানে লিপ্ত হবে না? কারণ প্রকৃত জ্ঞান আসে স্রষ্টার কাছ থেকে। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু দেন। তবে সেই জ্ঞানের জন্য অনুসন্ধান করতে হবে। ধর্মকে জীবিকা নয়, ধর্ম হতে হবে সত্য আর মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারার মাধ্যম।

আমাদের বলা হলো খলিফাদের সময় ইসলাম অর্ধেক পৃথিবী শাসন করেছে। আমরা তাই শিখলাম। আমাদের জানানো হলো সুলতান সুলেমান অটোম্যান সম্রাজ্য পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশে ইসলামী রাজত্ত্ব ছিল। আমরা তাই শিখলাম।

ইসলাম কি পৃথিবীকে শাসন করতে এসেছে? না কি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে এসেছে? খলিফাদের সময়ও ইসলাম পৃথিবীকে শাষন করে নি। বরং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিল। পৃথিবীতে ইসলাম শাষন করেছে সুলতান সুলেমানের সময়। তখন কি কোথাও ইসলাম বিকশিত হয়েছিল? শুধু শাষন করলেই ইসলাম এতোটা বিকশিত হত না। খলিফাদের জীবনী দেখুন। তারা কতই না সাধারণ জীবন যাপন করেছেন। শাষন করার জন্য তারা রাজ প্রাসাদ গড়ে তুলেন নি। তারা মানুষের মাঝেই থেকেছেন।

এখনই সময় গভীরভাবে ধ্যানে বসার। এক ঘন্টার ধ্যান ৭০ হাজার বছর নফল ইবাদতের সমান সোয়াব। শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই মানুষের মেধার বিকাশ ঘটে না। রাগ করলে শারীরিক ক্ষতির সব কিছু জানা সত্ত্বেও অনেক জ্ঞানী রাগ করেন কথায় কথায়। আর গ্রামের অনেক সাধারণ মানুষ দেখা যায় , সহজে রাগ করেন না শুধু এই্ জন্য যে "রাগ করা হারাম"। তাই শুধু জানার মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করা যায় না। প্রয়োজন জ্ঞানের অনুশীলন।

একজন সাধারণ মানুষ কখনই ধর্মকে অর্ধমের পথে নিয়ে যেতে পারবে না। ধর্মকে অধর্মের পথে নিয়ে যাচ্ছেন ধর্মের রক্ষকেরাই। আলীম সমাজকে এখনই সতর্ক হতে হবে। ধর্ম নিয়ে এতো মত বিরুধের কারণ কি?

কেউ বলছে এভাবে নামাজ পড়। কেউ বলছে ওভাবে। কেউ বলছে রোজা এভাবে রাখো , কেউ বলছে ওভাবে নয় এভাবে। ধর্মের কোথায় বিভেদ সৃষ্টি করা হয় নি? কেউ বলছে মাজহাব না মানলে ধর্মের জ্ঞান তোমার পর্যন্ত আসবে না। কেউ বলছে মাজহাব মানলে শিরিক হবে। কেউ বলছে তারাবী নামাজ ২০ রাকাআত, কেউ বলছে ৮ রাকাআত। কেউ বলছে মহিলারা সুব্যবস্থা থাকলে মসজিদে নামাজ পড়তে পারবেন, কেউ বলছেন মসজিদে মহিলাদের প্রবেশ নিষেধ। কেউ কেউ মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন, কেউ বলছেন মসজিদ ভাঙ্গার মানষিকতা উগ্র চিন্তার প্রতিফলন। কেউ বলছেন নবীজী (সা) এর জামানায়ও মসজিদ ভাঙ্গার মতো ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষ কোন দিকে যাবে?

ঘৃণা আর বঞ্চনার পৃথিবীতে ধর্ম ব্যবসায়ীরা একটু কি আমাদের শান্তিতে থাকতে দিবে না? সাধারণ বিচার বুদ্ধি প্রয়োগ করলেই তো সত্য আর মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব। মানুষের এতোটা অধ্বপ্রতন কিভাবে ঘটল?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৫৮
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×