somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটু কৌশলী হলে নতুন ফ্রিলেন্সাররাও মাসে লাখ টাকা আয় করতে পারেন

২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনলাইন ফ্রিলেন্সিং আগের মতো খুব সহজ নয়। মার্কেট প্লেস প্রতিযোগীতা বেড়েছে। বায়ার নতুন ওয়ার্কারের পরিবর্তে যার প্রফাইল বেশী সমৃদ্ধ তাকেই কাজ বেশী দিচ্ছে। নতুনদের জন্য ঠিকে থাকা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।


দুই দিন আগে বন্ধুর এক পরিচিত আত্নীয় আমাকে ফোন দিয়ে অনেক অনুরোধ করে যেন তাকে ফ্রিলেন্সিং বিষয়ে একটু গাইড লাইন দেই। তার সাথে দীর্ঘ এক ঘন্টা আলোচনা করি। তাকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে গিয়ে উপলব্ধী করি, নতুন ফ্রিলেন্সাররা একটু কৌশলী হলে তারাও মাসে লাখ টাকা আয় করতে পারেন

কিভাবে কৌশলী হতে হবে?
প্রফেশনাল ফ্রিলেন্সিং করতে হলে আপনাকে কিছু বিষয়ে অবশ্যই জানা থাকতে হবে। তবে অনেকেই তেমন কিছু না জেনেও অনলাইন থেকে আয় করছেন একটু কৌশলী হয়ে। বিষয়টি একটু সহজ করে না বললে বুঝতে কষ্ট হবে। দুই বছর আগে ইন্ডিয়ার এক ক্লায়েন্ট আমাকে একটি নিউজ সাইট ডেভলাপ এবং একইসাথে সেই ওয়েবসাইটের এসইও এর কাজ থেকে। সব কিছু করতে তার মুটোমুটি ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা (বাংলাদেশী টাকায়) লেগেছিল। তার ওয়েবসাইটটি এখন ইন্ডিয়ার টপ ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে একটি। নিয়মিত এখনো সে এসইও করায়। এখন সে নিউজ ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন থেকে মাসে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করছে। সাইটে অনেক ভিজিটর থাকায় সে সহজে বিজ্ঞাপন কালেক্ট করতে পারছে। লোকাল মার্কেটে তার সম্ভবত বিজ্ঞাপন সংগ্রাহক আছে। বড় বড় কোম্পানী গুলোর এক একটি বিজ্ঞাপন থেকে সে মাসে ২ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আয় করছে।

তো প্রথমেই যেটা বলেছিলাম। একটু কৌশলী হতে হবে। আমাদের দেশে বিক্রয় ডট কমের কথাই একটু চিন্তা করুন। তার আগেও কিন্তু কেনাবেচা করার ওয়েবসাইট আমাদের দেশে ছিল। বিক্রয় ডট কম ইউজার ফ্রেন্ডলী একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে এবং প্রচুর মার্কেটিং করে। কথায় আছে প্রচারেই প্রসার। বিক্রয় ডট কম এখন দিনে সম্ভবত ৬০-৮০ হাজার টাকা আয় করছে।

এখনো অনেক কিছু করার আছে। অনলাইনে বাংলাদেশে যদিও প্রায় সব বিষয়েই ওয়েবসাইট আছে তবুও আমি বলব এখনো অনেক কিছু করার আছে। অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতে হবে। মার্কেটপ্লেসগুলো কাজের প্রতিযোগীতা অনেক বেশী। সেখানে কোন কাজ পাওয়া আর সোনার হরিণ পাওয়া নতুনদের জন্য একই অবস্থা। একটু চিন্তা করুন তো... মার্কেটপ্লেসগুলোতে এতো কাজ কেন আসছে। যারা কাজ করাচ্ছে তাদের লাভ কোথায়। সেই কাজ থেকে তারা যদি লাভ বের করতে না পারে তবে আপনাকে টাকা দিয়ে কাজ তারা কেন করাবে? অন্যের হয়ে কাজ না করে নিজেই উঠে দাড়াতে শিখুন।

যদি নিজেই কোন একটি বিষয়ে ব্লগিং করতে পারেন আর তাতে এসইও করে দিনে লাখ খানেক ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন তবে আপনি সফল হতে কেউ ঠেকাতে পারবে না। আমাদের নতুনদের সমস্যা আর হবে কি হবে না এই দ্বন্ধে আটকা পড়ে হতাশ হয়ে যাই।

যা শিখতে হবে
আপনি যে সেক্টরেই যেতে চান না কেন এসইও আপনাকে জানতেই হবে। আর ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভরাপিং , এপস ডেভলাপিং , ভিডিও এডিটিং, এ্যানিমেশন ইত্যাদি কাজে যদি প্রফেশনাল হতে পারেন তবে এখনো মার্কেটে নিজের একটি অবস্থান গড়ে তুলা খুব কঠিন নয়।

নিজের সম্পর্কে দুটি কথা
আমি ২০১২ থেকে ওয়েব ডেভলাপিং করছি। তার আগে এসইও ও ইমেল মার্কেটিং কাজ করতাম। গত মাসে একজন লন্ডন থেকে আমাকে ফোন করে এবং প্রথমে একটি কাজ করায় যা আমি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। কারণ এসইও কাজ এখন আমি আর সময়ের অভাবে করি না। তাছাড়া সে কাজে আমার বেশ প্রফিটও ছিল না। বেশ জুড়াজুড়িতে কাজটি আমার অফিসের এক ওয়ার্কারকে দিয়ে করাই। সে কাজের ১৫-২০ দিনের মাথায় তার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকার একটি কাজ পাই। সে এক এখন করছি। আশা করছি আরো ২ সাপ্তাহের মধ্যে কাজটি শেষ হয়ে যাবে। তাই ক্লায়েন্টকে নিজের সেরাটা দিতে পারলে কাজের অভাব হয় না। যে আমাকে পারসনালী দেখেও নি সে লন্ডনে বসে আমার সাথে ১ লক্ষ টাকার একটি প্রজেক্ট ফাইনাল করল। বিষয়টি একেবারেই ছোট নয় কিন্তু। কাজের মাধ্যমেই বায়ারের সাথে সুসম্পর্ক গড়তে হবে। কাজ কিভাবে কোথায় থেকে আসবে তা ভাবতেও পারবেন না।

শেষ কথা
আমি প্রথমেই বলছিলাম যে, কৌশলী হতে হবে। নতুন একটি আইডিয়া নিয়ে আসতে হবে। লেগে থাকতে হবে। যে কাজটি হাতে নিয়েছেন সে কাজে নিজের মেধার সর্বচ্ছ দিতে হবে। কোন পরামর্শের জন্য আমার প্রফাইল থেকে আমার নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:৩৩
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×