somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই গৃহপরিচারিকার ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনঃ কতো হিংস্র আমরা

২৯ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গৃহকত্রীর নির্যাতনে আহত দুই শিশু গৃহকর্মী রাজধানীর আজিমপুরের এক পাষন্ড গৃহবধূ বাসার দুই কিশোরী কাজের মেয়ের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের শুধু লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। ছুরিতে তেল লাগিয়ে তা গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়েছে। গায়ে ঢেলে দিয়েছে ভাতের গরম ফেন। তার নির্যাতনের খবর যাতে ফাঁস হয়ে না পড়ে এজন্য সহোদর ওই দু'গৃহপরিচারিকাকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রেখেছে মাসের পর মাস। গত শুক্রবার দুই মেয়েকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে নিতে এসে সন্তানদের সারা শরীরে নির্যাতনের দগদগে ক্ষত চিহ্ন দেখে শিউরে উঠেছেন নিঃস্ব অসহায় মা। তাদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কোনো সভ্য মানুষ কারো ওপর এমন নৃশংস নির্যাতন চালাতে পারে, তা কোনোভাবে মানতে পারছিলেন না মা কমলা বেগম।
দুই কিশোরীর শরীরের নির্যাতনের চিহ্ন দেখে অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়েই তাদের নিয়ে যায়যায়দিন কার্যালয়ে ছুটে এসেছিলেন ডেমরার কুনিপাড়ার গৃহবধূ আফরোজা আকতার। নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা রেখা (১৫) জানায়, বছর দেড়েক আগে সে ও তার ছোট বোন রেবা (১৩) কাজ নেয় আজিমপুর কলোনির ৪২/১/আই হোল্ডিংয়ের পঞ্চমতলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের বাসায়। সেখানে ক’দিন কাজ করার পর রেবাকে পাঠানো হয় আনোয়ার হোসেনের মেয়ে তানিয়া জাবিনের ১৬/এ আজিমপুর কলোনির বাসায়। রেবা জানায়, তরকারিতে ঠিকমতো লবণ দিতে না পারায় তানিয়া তাকে রুটি বানানো বেলুন দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতেও তার রাগ না মিটলে পরে ছুরিতে তেল মাখিয়ে তা চুলায় গরম করে ছ্যাঁকা দেয় রেবার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে। এতে রেবা শয্যাশায়ী হয়ে পড়লে তাকে মায়ের বাসায় রেখে সেখানে কর্মরত রেখাকে নিজের বাসায় নিয়ে যায় তানিয়া।
রেখা জানায়, ওই বাসায় কাজে যোগ দেয়ার পর দু’দিন না যেতেই তানিয়া তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায়ই তাকে মারধর করতো। এসব কথা যাতে সে কাউকে বলতে না পারে এজন্য তানিয়া কখনো বাড়ির বাইরে গেলে তাকে ঘরে তালা দিয়ে যেতো। রেখার ভাষ্য, মাস দু’য়েক আগে ভাত রান্নার সময় অসাবধানতাবশত ভাতের ফেন হাঁড়ি থেকে উথলে গ্যাসের চুলার ওপর পড়ে। এতে ক্ষেপে যায় তানিয়া। দামি চুলায় ভাতের ফেনের দাগ পড়ে গেছে, এ অজুহাতে রেখাকে বেধড়ক মারধর করে। ক্ষুন্তি গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়। এতেও রাগ না মিটলে গরম ভাতের ফেন বাটিতে নিয়ে তা ঢেলে দেয় রেখার গায়ে। এতে তার কাঁধ থেকে পিঠ পর্যন্ত পুড়ে যায়। রেখা জানিয়েছে, পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। এ সময় সে চিকিৎসকদের জানায়, অসাবধানতাবশত রেখা নিজেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। রেখার অভিযোগ, সারা শরীরে ব্যান্ডেজ নিয়েই ২০ দিন তাকে বাসার সব কাজকর্ম করতে হয়েছে। এ সময়ও তাকে কয়েক দফা মারধর করা হয়েছে।
রেখার মা কমলা বেগম জানিয়েছেন, তার দুই মেয়েকে বরিশালের বাবুগঞ্জ থানাধীন চাঁদপাশা গ্রামের বাড়ি থেকে বছর দেড়েক আগে তানিয়ার চাচা সরোয়ার মেম্বার ঢাকায় নিয়ে আসেন। কমলার দাবি, তিনি দেড় বছরে কয়েক শতবার ফোন করেছেন। কিন্তু কখনো তাকে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হয়নি। তানিয়া ও তার মা হোসনে আরা জানিয়েছে, ওরা ভালো আছে। ভালো-মন্দ খাচ্ছে, হাসিখুশি মুখে বাসায় কাজ করছে।
মাইয়্যাগো গ্রামে লইয়্যা গ্যালে কী খাইতে দিমু, এই ডরে হ্যাগো কোনোদিন বাড়িতে লইয়্যা যাই নাই। ভাবছি বড়লোকরা আমার মাইয়্যাগো ভালোই খাওয়াইতাছে। হ্যারা আমার মাইয়্যাগো এইড্যা কী করলো? এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন কমলা বেগম। তিনি দাবি করেন, মানুষ নামধারী এসব পিশাচের যেন উপযুক্ত সাজা হয়। দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে বাসার কাজের মেয়েদের ওপর এভাবে নির্যাতন চালাতে না পারে।

১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×