
সুরা নিসার ৩৪ নং আয়াতের, ‘আর রাজুলু কাওয়ামুনা আলাননিসা-পুরুষ নারীর কর্তা’ আয়াতাংশের ভিত্তিতে অনেকে বলেন ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম। কিন্তু আয়াতাংশটি নেতৃত্ব সংক্রান্ত নয় বরং দাম্পত্য সংক্রান্ত। আর পুরুষকে নারীর কর্তা বলা হয়েছে ভরন-পোষনের শর্তে। পুরুষ ভরন-পোষন না করলে সে নিয়ম অনুযায়ী নারীর উপর কর্তৃত্ব হারাবে।আর যদি পুরুষের ভরন-পোষন উল্টা নারী করে তাহলে হিসেব মতে নারী উল্টা পুরুষের উপর কর্তৃত্ব করবে।যেমন আমাদের বেদে সম্প্রদায়ের কিছু নারী করে থাকে।যারা বিষয়টি পরখ করতে চান তারা সুরা নিসার ৩৪ নং ও ৩৫ নং আয়াত মন দিয়ে পড়তে পারেন।
নারী নেতৃত্ব হারাম হলে সন্তানের উপর মায়ের নেতৃত্ব হারাম হবে।অথচ মহানবি (সা.)বলেছেন,‘আল জান্নাতু তাহতা আকদামিল উম্মাহাতি-জান্নাত মায়ের পায়ের নীচে’। তারমানে মায়ের আনুগত্যের মাঝে জান্নাত। তারমানে সন্তানের উপর মায়ের নেতৃত্ব হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত।পিতা নিকটে না থাকলে মা স্বাভাবিক ভাবেই সন্তানের উপর নেতৃত্ব করে থাকেন। এটা হারাম হলে মায়েদের আর জান্নাতে যাওয়ার উপায় থাকবে না।
আর জাতীয় নেতৃত্বের বিষয় যদি হয় তবে বলতে হয় এ সংক্রান্ত কোন কোরআনের আয়াত নেই যা দিয়ে নারী নেতৃত্ব হারাম ঘোষণা করা যায়।একখানা হাদিস পাওয়া যায় যাতে বুঝা যায় জাতীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে মহানবি (সা.) নারীনেতৃত্ব অপছন্দ করেছেন।কিন্তু নেতৃত্ব একটি কাজ যার জন্য যোগ্য লোক প্রয়োজন। যোগ্য পুরুষ পাওয়া না গেলে যোগ্য নারীর নেতৃত্ব না মেনে উপায় থাকেনা। যেমন দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া না গেলে বসে নামাজ পড়া যায়। কাজেই যোগ্য পুরুষ নেতৃত্ব না পাওয়া গেলে যোগ্য নারী নেতৃত্ব নাজায়েজ হবেনা।অবশ্য যোগ্য পুরুষনেতৃত্ব পাওয়া গেলে কেউ নারীনেতৃত্ব এমনিতেও পছন্দ করেনা। সে জন্য নারীনেতৃত্ব এক্কেবারে নগণ্য।
সার কথা হলো জাতীয় ক্ষেত্রে নারীনেতৃত্ব হারাম নয় এবং শর্ত সাপেক্ষে জায়েজ, কোরআন ও হাদিস থেকে এটাই প্রতিয়মান হয়।তবে যোগ্য পুরুষনেতৃত্ব পাওয়া গেলে নারীনেতৃত্ব পরিহারকরা সংগত।তবে সন্তানের ক্ষেত্রে মায়ের নেতৃত্ব অপরিহার্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০১৮ সকাল ১১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


