
মহানবি (সা.) বলেছেন, উম্মত তিহাত্তর কাতার হবে। মহানবি (সা.) বলেননি, মুসলমান তিহাত্তর কতার হবে।কাজেই মুসলমান তিহাত্তর কাতার হবে, এটা ভুল কথা।কারণ মুসলমান হলো এক প্রকার উম্মত।যাদেরকে উম্মাতাম মুসলিমাতাম বা মুসলিম উম্মত বলা হয়।বাস্তবিক মহানবির (সা.) উম্মত তারা যাদের প্রতি তাঁকে নবি হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। যদি তারা তাঁর উম্মত না হয় তবে তাদেরকে তাঁকে মানতে আদেশ প্রদান করা হচ্ছে কেন?
সমগ্র মানব ও জ্বীনকে কোরআন মানতে আদেশ করা হয়েছে কাজেই সমগ্র মানব ও জ্বীন কোরআনের নবির (সা.) উম্মত। উম্মত তিহাত্তর কাতার হবে মানে সমগ্র মানব ও জ্বীন তিহাত্তর কাতার হবে।এর মধ্যে কোরআনের নবিকে (সা.) যারা নবি (সা.) মানে তারা তাঁর অনুসারি উম্মত। তারা তাঁর সাথে জান্নাতে থাকবে। তারা পাপ করলে পাপের শাস্তিভোগের পর তারা তাদের নবির (সা.) সাথে জান্নাতে থাকবে।আর যারা তাঁকে নবি (সা.) মানেনা তাদের বাহাত্তর কাতার হবে, যারা জাহান্নামে যাবে। এখন যারা তাঁকে নবি (সা.) মানেনা তাঁর (সা.) কথায় তাদের মন খারাপ করার কোন কারণ নেই।যেহেতু তারা তাঁকে (সা.) নবি (সা.) মানে না সেহেতু এ বিষয়ে তাদের চিন্তা অর্থহীন। তথাপি যদি তাদের চিন্তা হয় তবে তারা তাঁকে নবি (সা.) মানলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।আর যদি চিন্তা না হয় তবে তারা থাক তাদের মত।তবে মুসলমানের কোন কাতার জানান্নামে যাবে, এটা ভুল ধারনা। তবে কেউ যদি নিজেকে মুসলমান দা্বী করে কিন্তু বাস্তবে সে মুসলমান না হয়ে থাকে তবে সে অমুসলিম হিসেবে জাহান্নামে যাবে।কিন্তু মুসলিম সাব্যস্ত হয়ে কেউ জাহান্নামে যাবেনা।আর যদিও পাপের কারণে জাহান্নামে যায় তবে তারা শাস্তিভোগের পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতি হবে।কাজেই কেউ যদি নিজেকে মুসলিম দাবী করে তবে অমুসলীম সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে জাহান্নামী বলা ঠিক নয়।আর মুসলীম দাবীদার অকাট্য প্রমাণে অমুসলীম সাব্যস্ত না হলে তাকে অমুসলীম বলা বা কাফির-মুশরিক বলা ঠিক নয়। এমন বলায় যে এমন বলবে তার বিপদের আশংকা রয়েছে।এ কারণে হজরত আলী (রা.) খারেজীদেরকে কাফির বলেননি, যদিও তারা তাঁকে কাফির বলেছে এবং শহীদ করেছে।কাজেই মহানবীর (সা.) হাদিস অনুযায়ী হজরত আলীর (রা.) অনুসারী হয়ে আমরা লোকদেরকে কাফির, মুশরীক ও অমুসলীম বলা থেকে বিরত থাকি।যে নিজেকে মুসলীম দাবী করে সে থাকুক তার মত। আমাদের তার পিছনে নামাজ পড়তে মন না চাইলে তার পিছনে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকি। তবে ফিতনা সৃষ্টি হতে পারে এমন কাজ থেকে বিরত থাকাই আমাদের জন্য উত্তম।
বিঃদ্রঃ মুসলিম তিহাত্তর হাজার কাতার হলেও সেটা আলচ্য বিষয় নয়। আলচ্য বিষয় হলো উম্মত তিহাত্তর কাতার হওয়া। ঝগড়ায় একজন বলল, হেতে কয় হেতে মুসলমান! তুঁই কিল্লাই হেতারে অমুসলমান কও? তোঁর কি ক্ষেত্রকনি?এরিও তুঁইতো বড় ভেজাইল্লা মানষ!
মহানবি (সা.) আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের জানাজা পড়েছেন। কাজেই মুসলমান দাবীদার যে মতের হোক সব মুসলমান মিলে তাকে মুসলিম রীতিতে শেষ বিদায় জানাতে হবে। কারণ মোনাফেকের চেয়ে জঘণ্য কেউ নেই।
উম্মতে মুসলিম
সব মুসলমান এক কাতার
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




