somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জন্ম

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্বিতীয় বারের মত আমি জেগে উঠে দেখি
তুমি নেই, তুমি নেই।
চোখ বুজে রাখি কিছুটা সময়
অনন্ত বৎসরকাল কমনীয় হয়।
স্বপ্নাচ্ছন্ন তন্দ্রালতাকে জোর করে সরিয়ে
প্রথম বারের মত চোখ খুলে দেখি
তুমি নেই, তুমি নেই।
কায়মনোবাক্যে শুনতে ইচ্ছা করে
কয়েক পেয়ালা প্রশংসাবাণী।

ঈশ্বরের একান্ত প্রচ্ছন্নতায়
এই মাটির পৃথিবী আর
জলবায়ু, এমনকি রূপকথা
কল্পকাহিনী রচনার আগে,
পুঞ্জীভূত মেঘমালা, মরুদ্যান,
এমনকি সাগরের সুগভীর উত্তাল
জলরাশি সৃজনের অনেক অনেক আগে

যখন এই ভাটিয়ালী আবেগের
মর্মার্থ বোঝা ছিল নিতান্তই কষ্টকর।
যখন নিবিঢ় শূন্যতায় ঘেরা জীবনবৃক্ষের
শাখায় লাগেনি কোন উদ্দামতার ছাপ।
যখন মহাকালের সমগ্র আধারজুড়ে
ধ্বনিত হতো পবিত্র আহবান।
কেবলি একটা প্রকাশ্য নিস্তব্ধতা যখন
গ্রাস করেছিল সময়ের প্রতিটা প্রহর।

ঠিক তখনই একটা অদৃশ্য হাত
অকম্পনীয়, প্রশান্ত সুবিশাল
প্রতিভাত হল, সহসা উদ্বোধন
রহস্যের চাদরে মোড়া অমোঘ নির্দেশে
বেজে উঠল সংকেত - জীবনের পূর্বাভাস
রচিত হল আমার জনমের ইতিহাস।

হৃদয়ের অলিন্দে অলিন্দে জাগল স্পন্দন
ছড়িয়ে যেতেই শুনি আত্মার ক্রন্দন।
মর্চে ধরা পুরনো স্মৃতি, মিথ্যা মোহমায়া
কাটিয়ে উঠতে চাই আবেগের বর্ণহীন ছায়া।
প্রাণপনে চেষ্টা করি মাড়াতে মাড়াতে
ক্ষুদ্র স্মৃতি সামান্য আলো চাইনা হারাতে।
এভাবেই করতে থাক এক ভাষাহীন সংগ্রাম
অবশেষে সূর্যরশ্মি যখন রক্তিম আভার
সতেজ বর্ণচ্ছটা নিয়ে আঘাত করলো এসে
আমার চেতনালোকের প্রতিটা কোণায়

ঠিক তখনই আমি জেগে উঠে
এই অন্তহীন উত্তপ্ত বালুকাবেলায়
সূর্যাস্তের প্রশ্রয় পেয়ে নিরীহ আকাশে ওঠা
অবাধ্য তারকার দিকে চোখ মেলে চেয়ে
উদ্ভ্রান্তের মত দৃষ্টি বদল করে
হতাশ হবার মত জটিল আবেগে
আক্রান্ত হওয়ার আগে টের পেয়ে যাই
তুমি নেই।

উযাইরের মৃত ঘোড়াটির দেহে তখন
রক্তমাংস জোড়া লাগা কেবলি হয়েছে শুরু।
কিন্তু বাসনা আমার পানি হয়ে গেছে জন্মলগ্নেই।
তথাপি বিধাতার কাছে আর জানতে চাইনা আমি
এই জন্মের সার্থকতা-
যা ছিল আবশ্যক
তোমাকে খুঁজতে গিয়ে।
নিরুপায় হয়ে আমি ক্ষান্ত দেবার আগে
প্রতিধ্বনি শুনি তাই
তুমি নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৫২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×