somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম ও নাস্তিক্যবাদ- ব্যাক্তিগত চিন্তা (১)

১০ ই জুন, ২০১৬ ভোর ৫:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)

খুবই সাধারণ একটি কথা! এক কথায় ইসলাম কে ভালো লাগে না। পাথরযুগের কিছু মতবাদ আর ব্যাখ্যা দিয়ে কি আধুনিক যুগের মানুষদের জীবন চলবে? আর কেনই বা ইসলামের মত অনুসারে চলব শুনি? আমি কিভাবে চলব তা আমার ব্যাপার, আপনার তো কিছু যায় আসে না নাকি? সত্যিই কথাগুলো অতীব সাধারণ!

কিন্তু নাহ, এমন সাধারণ ভাবে বলে দেয়া লোকের অভাব, তারা বলে তো খোঁচা মেরে বলে, যাতে তারা চায় আমি রেগে যাই, আর এখানেই তাদের কিছু বিকৃত আনন্দ হয়ত থেকে থাকে। এই যেমন সেদিন একজনের সাথে কথা বলছিলাম, উনি বস্তুবাদে বিশ্বাসী। উনি একটা পর্যায়ে আমাকে মৌলবাদী বলে ফেললেন! এখানেই ওনার বলার সার্থকতা হয়ত লুকিয়ে ছিল। কিন্তু আমি যখন তাকে প্রশ্ন করলাম যে মৌলবাদ বলতে কি বুঝেন আপনি? বেচারা একটু ঘাবড়ে গেলেন এবং গতানুগতিক উত্তরটাই দিলেন। আমি বুঝলাম যে বয়সে উনি অনেক সিনিয়র হলেও কথা বলার ভঙ্গিমা এবং জ্ঞানের পরিধি আঁচ করলে বোঝা যায় যে গন্ডমূর্খ ছাড়া আর কিছুই হবেন না। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করলাম একটা বৈঠক এ আমাকে সময় দিয়ে ইসলামের পিণ্ডি রচনা করে দিয়ে যান, কিন্তু নাহ ব্যাপার টা এমন শুরু করলেন যে সব কিছু মানি তালগাছ আমার! উপর্যুপরি ব্যাক্তিগত আক্রমন করায় সত্যিই খুব খারাপ লাগছিল, কিন্তু অবশেষে বুঝলাম জ্ঞানহীন ব্যাক্তির কথায় কান দেয়া আর না দেয়া সমান।

ইসলাম কে যারা খারাপ বলে বা ইসলামের ভেতর যারা খারাপ দেখতে পায়, আমার এই লেখাগুলো স্রেফ তাদের জন্য। আস্তিক্যবাদ, নাস্তিক্যবাদ, বিধার্মিক মতবাদ, আধুনিক বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান এমন কি জীবনের খুঁটিনাটি বিষয় পর্যন্ত কি নেই ইসলামে? আজ পর্যন্ত কোন সচেতন জ্ঞানী আমাকে উত্তর দিতে সক্ষম হননি। আপনাদের সমস্যা কেবল মাত্র ইসলাম কে নিয়েই এবং আপনারা কেবল মুখে মুখেই যা আসে বলে দেন, কখনও ইসলামের মাপকাঠিতে এর বিচার করেননি।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে মহানবী (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর থেকে ইসলামের ভেতর থেকেই ইসলামের প্রতি একটা গভীর চক্রান্ত চলতে থাকে, এবং এ চক্রান্তের জের ধরে গত ১৪০০ বছরে মুসলিমদের মধ্যেই অনেকগুলো ভাগ হয়ে যায়। সেগুলোর কথা নাহয় ছেড়েই দিলাম, আমাদের বাংলাদেশ যদিও মুসলমান অধ্যুষিত কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি যে শতকরা ৯০ জন মুসলিম আল-কোরআন ঠিক ভাবে পড়তে পারে না, আর অর্থ বোঝা তো অনেক দুরের কথা। যে লোক কোরআন ঠিক ভাবে পড়তে পারে না, সে নামে মুসলিম হলেও সত্যিকারের মুসলিম না। আর তার কোন কুকীর্তির জন্য অবশ্যই কেউ সমগ্র ইসলামের দোষ কিছুতেই দিতে পারেন না। একটা স্কুলের যে সব ছাত্রই ভালো হবে এমনটা যুক্তিযুক্ত নয়। তাই বলে এক ছাত্রের কোন বিষয় নিয়ে পুরো স্কুল কে বিবেচনা করা যায়না। আল কোরআন কখনও এমন বলছে না যে যারাই মুসলিম তারাই জান্নাতি। বরং মুসলিমদের মধ্যেই যে জাহান্নামিও আছে এটা সুস্পষ্ট।

আমি এখন পর্যন্ত যতগুলো নাস্তিক কিংবা অবিশ্বাসী লোকদের সাথে কথা বলেছি, তাদের সবার মধ্যেই একটা কমন বিষয় লক্ষণীয়। সেটা হচ্ছে তাদের যদি বলেন সারাদিন সময় দিলাম, আপনি ইসলামের ভুলগুলো ধরুন। বেচারা সারাদিন ধরেই কোরআনের ভুলগুলো বলবে, এবং প্রচন্ড কনফিডেন্স নিয়েই বলবে। কিন্তু দুঃখিত এখানেই যে তারা সেগুলো নিজের চোখে দেখে বলছে না, বলছে আরেকজনের মুখ থেকে শুনে। যখন আপনি বলবেন ঠিক আছে সারাদিন তো বললেন, এখন ২ ঘণ্টা সরাসরি কোরআন থেকে দুইটা ভুল বের করে দেখান, ব্যাস তাদের অজুহাতের কোন শেষ থাকবে না। এই যেমন ধরুন, এত সময় নেই, ফালতু কথা বলার সময় নেই, আমি দেখেছি অনেক দেখেছি ইত্যাদি। আমি এমন একজনকেও খুঁজে পেলাম না যে কিনা বলবে যে হয়ে যাক চ্যালেঞ্জ। ভুল আমি বের করবই!

আল-কোরআন খুবই বিজ্ঞানময় একটি গ্রন্থ যার অর্থ বুঝলে যে কোন লোক নিজেও অনুধাবন করতে পারবে যে আসলেই এটা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সমগ্র মানব্জাতির জন্য জীবনবিধান। যারা ইসলামের বিপক্ষে কথা বলতে খুবই পছন্দ করেন, বিশেষ করে সে ভাইদের বলছি, যা বলছেন একবার দেখে নিন সত্যিই কি তা আছে কিনা। অযথাই শুনে শুনে একটা বিষয় নিয়ে কথা বললে অপমান ছাড়া কিছুই জুটবে না।


(লেখাটা বিশেষত সেই ভাইয়ের জন্য যার সাথে সেদিন মিষ্টি তর্ক হয়েছিল)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৬ ভোর ৫:০৪
১৫টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×