somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাটাইহীন ঘুড়ি.....

২৩ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাকে মেরো না প্লিজ,
আমাকে মেরো না।

আমাকে মেরে ফেলে লাভ কি তোমার???

আমার কোন কথাই লোকটি শুনছে না বরং মিনতি গুলো তার হাতের চাপ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে আমার গলায়....।

একটা সময় আমার মনে হতে লাগলো যে আমি মারা যাচ্ছি....।।
কারন ঠিক তখন চোখে ভেসে উঠছিলো, এই পৃথিবীতে আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন যে তার মুখ...
আর সে হচ্ছে "আমার স্ত্রী অনু"

নিভে যাওয়ার আগে পিদিম যেমন ধপ করে একবার জ্বলে উঠে তার অস্তিত্ব জানিয়ে দেয়...
আমিও ঠিক তেমনিই যেন মরে যাওয়ার আগে এক ঝটকা দিয়ে উঠে বসে গেলাম....

বসেই চারপাশে তাকালাম...

নাহহ আমিতো আমার রুমেই আছি,
লোকটাও নেই,

বুঝতে পারলাম যে আমি দুঃস্বপ্ন দেখেছি...

মনে মনে কিছুটা আশ্বস্ত হয়ে পাশে ঘুমিয়ে থাকা আমার বউয়ের দিকে তাকালাম....

বেঘোরে ঘুমাচ্ছে পাগলীটা...
ঘুমের মধ্যে যেকোন মানুষকেই অসম্ভব সুন্দর আর নিষ্পাপ দেখায়...
মেয়েদের একটু বেশিই সুন্দর আর নিষ্পাপ দেখায়...

ঘুমের মধ্যে কোন মেয়েকে একবার দেখলে যেকোন পুরুষই ঐ মেয়ের প্রেমে পড়বে...পড়তে বাধ্য।

কিন্তু অনুর ঐ নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে আমি শংকিত হয়ে পড়লাম...
এ কেমন স্বপ্ন দেখলাম আমি...???

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে নেমে পড়লাম বিছানা থেকে...

রাত বাজে ৪টা....
আমি গিয়ে দাড়ালাম বারান্দায়.....

সত্যিই যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলে আমার অনুর কি হবে????
আমি ছাড়া যে ওর জন্য আর কেউ নেই এই দুনিয়ায়.....

আমাদের সম্পর্কটাকে অনুর বাবা প্রথমে কিছুতেই মেনে নিতে চাননি...

অনুর মুখে প্রথম যখন শুনলাম যে,
-বাবা আমাদের সম্পর্কটা মেনে নিচ্ছেন না রাজ...

কথাটা শুনে খুব রাগ রাগলো...কেন উনি মেনে নিবেন না!!!
আমি একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ...
বিয়ের পর একটা মেয়েকে সুখী করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবই দেওয়ার সামর্থ আমার আছে....

অনুর একরোখা জেদ আর চোখের পানির কাছে হার মেনে অনুর বাবা আমার সাথে কথা বলতে চাইলেন....

দিনক্ষন ঠিক করে দেখাও হলো,
সেদিন আমি কথা শুরুই করেছিলাম ওনাকে প্রশ্ন করে যে,
-কেন আপনি আমাদের মেনে নিচ্ছেন না???কি নেই আমার????

ওনার জবাবটা শুনে আমি কিছুক্ষন স্তব্ধ হয়েছিলাম..
উনি বলেছিলেন,
-বাবা তোমার সবই আছে শুধু বাবা মা নাই...
অনুর জন্মের পরেই অনুর মা মারা যান তারপর থেকে আমিই অনুকে বড় করেছি....
আমি আর কতদিনইবা বাঁচবো বল????
আমি যদি মারা যাই...
আমার মেয়েটা এতিম হয়ে যাবে আর পাশে থাকা তুমি,
তুমিও এতিম।

তোমাদের আশ্রয়স্থলটা কোথায় বলতে পার???
তোমরা হচ্ছো ঘুড়ি আর আমরা মা বাবারা হচ্ছি তোমাদের নাটাই....
আমার মৃত্যুর পরতো তোমরা দুজনেই নাটাই হীন ঘুড়ি হয়ে যাবে বাবা....

আমার মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছিলো না...
অনেক কষ্টে বলেছিলামঃ বাবা আপনি যেমন ছোটবেলা থেকেই অনুর বাবা মা ছিলেন তেমনি এখন থেকে আমাদের দুজনেরই বাবা মা হতে পারবেন না???
আমাকে আবার নতুন করে পিতৃ-মাতৃহীন করবেন না প্লিজ...

তারপর আমাদের বিয়েতে উনি আর বাঁধা দেননি...

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস,
আমাদের বিয়ের ৬ মাসের মাথাতেই একদিন আমরা সত্যিই নাটাইহীন ঘুড়ি হয়ে গেলাম....

সেই থেকে আজ অবদি আমরা একে অন্যকে আকড়ে ধরেই গড়ে তুলেছি আমাদের জীবন...

আমার চোখের সামনেই তিলে তিলে অনু গড়ে তুলেছে আমি কেন্দ্রিক অনুর জীবন....

সেই আমিই যদি হারিয়ে যাই অনুর জীবন থেকে!!!!
ঠিক এই ভয়টাই কি অনুর বাবা পাচ্ছিলেন তখন???

হঠাৎ পেছন থেকে একটি হাত স্পর্শ করলো আমার কাঁধ....
পেছনে না তাকিয়েই প্রশ্ন করলাম....

-তুমি উঠলে কেন??

অনু বললো,
-আমার পৃথিবীতে তুমি ছাড়া যে আর কেউ নেই তাই তুমি আমার সঙ্গ ছাড়লেই আমি টের পাই কারন আমার ভেতরে তখন অস্থির অস্থির লাগে...

অনুর কথাটা শুনেই বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো...গুমরে কান্না আসতে চাইলো।
অনেক কষ্টে কান্না সংবরন করে অনুর দিকে ফিরে অনুকে জড়িয়ে ধরলাম।

অনুকে বুকে নিয়েই মনে মনে বলতে লাগলামঃ
-আমরা যে দুই নাটাইহীন ঘুড়ি অনু।
আমার যদি কিছু হয়ে যায় তুমি আমার স্মৃতি গুলোকে নিয়ে একা একা উড়তে পারবে তো???
ভয় পাবা না তো????

আমি যেখানেই থাকি,
হোক এপারে কিংবা ওপারে...
কথা দিলাম আমি কখনোই তোমার সঙ্গ ছাড়বো না....
তোমাকে দেখে দেখে রাখবো,কখনো বাতাস হয়ে,কখনো বা পাখি...
কখনো হয়তো সবার অলক্ষ্যে তোমাকে ঠিক এখন যেভাবে জড়িয়ে আছি এভাবে জড়িয়ে ধরবো,
আচ্ছা তুমি তখন অনুভব করবে কি, ঠিক এখন যেভাবে অনুভব করছো????
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:৩৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×