সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবর রহমান – এটা বিবিসি’র মতামত জরিপের ফলাফল। এতে কারো কারো দ্বিমত থাকতে পারে রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কিন্তু বাস্তবতা মেনে নেয়াটা ইতিহাসের কারণেই যুক্তিসঙ্গত। বঙ্গবন্ধু আর শেখ মুজিব যেমন সমার্থক তেমনি সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির মুকুটটি বঙ্গবন্ধু অর্জন করেছেন তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৩৫ বছর পর।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র ১৪। সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করতে না পারার গ্লাণী আমাকে এ
খনো কুরে কুরে খায়। তবে সান্তনা আছে যে আমি পশ্চাদ রণাঙ্গণের একজন অনিবন্ধিত রসদ সংরক্ষণকারী ও সরবরাহকারী হিসাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। শেখ মুজিবের ১৯৭১ সালের বিখ্যাত সেই ৭ই মার্চের ভাষণই আমাকে উদ্দীপ্ত করে রেখেছিল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের নয়টি মাস এবং এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশ নেয়ার জন্য। আমি আজো খুঁজে পাই ভবিষ্যতের উদ্দীপনা মৃত শেখ মুজিবের কাছ থেকে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী শেখ মুজিব যেমন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তেমনি স্বাধীনতা লাভের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১৯৭২ সালের জানুয়ারীতে যদি ফেরৎ না আসতেন তাহলে আজকের বাংলাদেশের ইতিহাস আরো ভিন্নরকম হতো। দেশটি পরিণত হতো মধ্যযুগের বার ভূঁইয়াদের মারামারি আর কাটাকাটির বর্বর রাষ্ট্রে। কারণ শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে কোন মুক্তিযোদ্ধাই অস্ত্র জমা দিচ্ছিল না। একবার ভেবে দেখুন! শেখ মুজিব ফিরে না আসলে স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সহযোগী ভারতীয় সেনাবাহিনী কবে কিংবা আদৌ ফেরৎ যেত কিনা বুকে হাত রেখে কেউ তা বলতে পারবেনা। অর্থাৎ অরাজকতার চূড়ান্তে পৌঁছার আরেকটি দামামা বেজে উঠার সংকেত দেখা দিচ্ছিল কয়েক সপ্তাহের নেতৃত্বহীন ও লক্ষ্যহীন ব্যবধানেই।
বঙ্গবন্ধু ক্ষণজন্মা বাঙালিদের একজন হলেও তিনি দোষে-গূণে একজন মানুষ ছিলেন। বিশেষ করে সেটা যখন সমাজ-সংস্কৃতি-ভাষা-জাতীয়তা, রাজনীতি ও ইতিহাসের বিবেচনায় আসে। শেখ মুজিব আমাকে যেমন বড় মাপের বাঙালি হতে উদ্দীপ্ত করে তেমনি কুন্ঠিত করে যখন তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বর্বর পাকিস্তানী সৈন্যদের করে যেতেন। শেখ মুজিব আমাকে যেমন বড় মাপের রাজনীতিবিদ হতে উদ্দীপ্ত করে তেমনি কুন্ঠিত করে যখন তিনি ব্যর্থ হয়েছেন তাঁর ছেলে শেখ কামালকে অসামাজিক-অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে। শেখ মুজিব আমাকে যেমন বড় মাপের সাংগঠনিক হতে উদ্দীপ্ত করে তেমনি কুন্ঠিত করে যখন তিনি ব্যর্থ হয়েছেন ১৯৭৪ সালে রিলিফের মালামাল ঠিকমত বিতরণ করতে। শেখ মুজিব আমাকে যেমন বড় মাপের স্বাধীন মানুষ হতে উদ্দীপ্ত করে তেমনি কুন্ঠিত করে যখন তিনি ১৯৭৪ সালে একদলীয় বাকশাল সরকার কায়েম করেন। শেখ মুজিব আমাকে যেমন বড় মাপের বিশ্ববাঙালি হতে উদ্দীপ্ত করে তেমনি কুন্ঠিত করে যখন তিনি ব্যর্থ হয়েছেন পূঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা আর সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ভবিষ্যৎ বুঝতে।
জীবিত শেখ মুজিবের চেয়ে মৃত শেখ মুজিব আজকের বাংলাদেশে আরো বেশী শক্তিশালী। কিন্তু শেখ মুজিবের কারণেই যদি সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে পারিবারিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশের ঘাঢ়ে জেঁকে বসে তা জাতির জন্য মোটেও মঙ্গলজনক নয় আর বঙ্গবন্ধুও সেটা কখনো চাননি। তেমনি স্বাধীনতাপ্রাপ্তির চার দশক পরেও আমরা যদি শেখ মুজিবেরই উপহার ১৯৭২ সালের অবিকৃত সংবিধানে ফেরৎ যেতে চাই কিংবা ফেরৎ যাই সেটা যেমন হেবে শেখ মুজিবের মুখেই চপেটাঘাৎ তেমনি আমরা এই একবিংশ শতাব্দীতে বসে অগ্রসরের চাকাটি শুধু পেছন দিকেই নিয়ে যেতে চাইব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদেরকে ঘুম পাড়ানীর গান গাইয়ে রাখলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কিন্তু আমাদেরকে সে শিক্ষা দেননি।
সাবির মজুমদার
সিলিকন ভ্যালী, ক্যালিফোর্নিয়া
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান !
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।