-জম্নঃ ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮, মৃত্যুঃ১৯ জুলাই ২০১২
-হুমায়ূন আহমেদ সর্ব প্রথম সিগারেট খান ক্লাস সেভেনে থাকতে স্কুলের বাথরুমে লুকিয়ে এবং ঐদিন হেড স্যারের কাছে ধরাও পড়েন তিনি।
-হুমায়ূন আহমেদ প্রথম যে সিগারেটটি খেয়েছিলেন তা ছিল তাঁর বাবার পকেট থেকে চুরি করা।
-আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে হুমায়ূন আহমেদের সিগারেটের প্রিয় ব্র্যান্ড কি? আপনি মিসির আলী পড়েন। কাজেই আপনি ‘বেনসন এন্ড হেজেস’ বলবেন তো? আপনি ভুল উত্তর দিবেন। স্যারের প্রিয় ব্র্যান্ড হচ্ছে ‘মার্লবোরো’।
-“প্রকাশক মাজহারুল ইসলামের সাথে হুমায়ূন আহমেদের সম্পর্কটা তেমন সুবিধার না” আপনার মাথায় যদি সামান্যতম ঘিলু থেকে থাকে তবে আপনি উপরোক্ত বক্তব্যটির তীব্র বিরোধিতা করবেন। কারণ, স্যারের লেখা ৯০% বই প্রকাশ হয় ‘অন্যপ্রকাশ’ থেকে। আর অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী কিন্তু মাজহার সাহেব। তাছাড়া দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি ভ্রমনে স্যারের সফরসঙ্গী ছিলেন মাজহারুল ইসলাম। আর যাই হোক শত্রুকে তো আর সফরসঙ্গী করা যায়না তাইনা?
-ইউনিক হুমায়ূন আহমেদ বিখ্যাত কোন ব্যাক্তিকে অনুসরণ করতেন কি? হ্যাঁ করতেন। তিনি একজনের পাঁড় ভক্ত ছিলেন। আর এই ব্যাক্তিটি হচ্ছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর বিভিন্ন লেখায় রবীন্দ্র সঙ্গীতের দুএকটি লাইনের ব্যাবহারই উপরোক্ত উক্তিটির যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। তাছাড়া হুমায়ূন আহমেদের জীবন যাপন পদ্ধতিও ছিল ঠাকুর স্টাইলের।
কি বিশ্বাস হচ্ছেনা? আসুন কিছু তুলনা করা যাক-
রবী ঠাকুরের ছিল শান্তি নিকেতন আর হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী (যদিও শান্তি নিকেতন পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত), হুমায়ূন আহমেদ এবং রবী ঠাকুর দুজনই কিন্তু ভোজন রসিক ছিলেন, সাহিত্যের সব শাখায় রবী ঠাকুরের পদচারনা ছিল; হুমায়ূন আহমেদও কিন্তু চেষ্টার কোন ত্রুটি করেননি। হুমায়ূন আহমেদের লেখা অনেক কবিতা এবং গান তুমুল জনপ্রিয় কিন্তু।
-জীবনানন্দ দাসেরও অসম্ভব রকমের ভক্ত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। আসুন লাইনটার সত্যতা যাচাই করা যাক- “ শুদ্ধতম কবি জীবনানন্দ দাস। কবি, আমি কখনো গদ্যাকার হতে চাইনি; আমি আপনার মত একজন হতে চেয়েছি। হায় এত প্রতিভা আমাকে দেয়া হয়নি”- লীলাবতী।
-হিমু, মিসির আলী, বাকের ভাই ছাড়াও আরও একটি জনপ্রিয় চরিত্রের সৃষ্টি হয়েছে এই গল্পের জাদুকরের দ্বারা। কি, অবাক হচ্ছেন? সেই চরিত্রটি হচ্ছে জামশেদ। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। অমানুষ গল্পের সেই গুন্ডা টাইপ ভাল মানুষ ‘জামশেদ’।
-হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যে প্রথম পদচারনা অনুবাদ কর্ম দিয়ে (যদিও প্রথম মৌলিক রচনা শঙ্খনীল কারাগার) সেবা প্রকাশনীর একটি বই অনুবাদ করে দিয়েছিলেন তিনি। আর এর জন্য সম্মানি পেয়েছিলেন ৩০০ টাকা।
-আপনি জানেন কি, অমানুষ এবং দ্যা এক্সরসিস্ট নামক বই দুটো প্রথমে অনুবাদ কর্ম হিসেবে হাতে নিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ? অনুবাদ কর্মে আগ্রহ না থাকায় পরে নিজের মত করে বই দুটো লিখেছেন তিনি।
-জ্যোতিষ শাস্ত্র মোটামুটি নখদর্পণে ছিল হুমায়ূন আহমেদের। তার প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে সহ অসংখ্য লেখনীতে তার প্রমান পাওয়া যায়।
-স্যারের ম্যাজিক প্রীতির কথা হয়ত কারো অজানা নয়। তাই এ সম্বন্ধে লিখে আর সময় নষ্ট করবনা।
-হুমায়ূন স্যারের কথা-বার্তায় আঞ্চলিকতার টান টান ছিল।
অসংখ্য গুনে গুণান্বিত কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের সম্বন্ধে স্বল্প পরিসরে লিখে শেষ করা যাবেনা। তাই এখানেই ইতি টানছি। ভাল থাকবেন সবাই।
তথ্য সুত্রঃ উঠোন পেরিয়ে দুই পা, বল পয়েন্ট, কাঠ পেন্সিল, ফাউন্টেন পেন, রং পেন্সিল, কবি, জীবন যে রকম, ইন্টারনেট।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




