অদ্য দুপুরে শাহবাগ মোড়ে একখানা পাথরের উপর পশ্চাৎদেশ লাগাইয়া বইসা ছিলাম। হঠাৎ ধুপ কইরা একটা শব্দ হইল। চাইয়া দেখি আমার সামনের ভুমিতে চকচকে একখানা স্যামসাং মোবাইল ফোন পইড়া আছে। মনে মনে ভাবিলাম- "হে ঈশ্বর, তুমি তোমার এই পাপী বান্দারও খোঁজ রাখ তাইলে? যেমনি জানতে পারিলে যে আমার ফোন নষ্ট ওমনি স্বর্গ হইতে ফোন খানা ছুঁড়িয়া মারিলে আমার উদ্দেশ্যে? তোমার অপার মহিমা হে ঈশ্বর।"
ঈশ্বর উপাসনার ইতি ঘটিল যখন বুঝিতে পারিলাম যে ইহা ঈশ্বর ছুঁড়িয়া মারেননি। মোবাইল খানার পতন ঘটিয়াছে আমার সম্মুখ দিয়ে হন্ঠনরত সুশ্রী তরুণীটির ব্যাগ অথবা পকেট হইতে। ভাবিলাম মাইরা দেই জিনিষটা। পরক্ষনেই চিন্তা করিলাম- না থাক। এ জীবনে তো অনেক পাপ করিলাম। আর কত! দৌড় দিয়া তরুণীটির কাছে গেলাম। তরুণী তখন খোশগল্পে মশগুল। তাহার মাথায় ঠু মারিয়া ফোনটা দেখাইয়া কহিলাম- মালটা সম্ভবত আপনার। তরুণী ফোনটার দিকে তাকাইয়া পকেট ও ব্যাগ হাতাইল কিছুক্ষণ। তরুণীর চেহারা খানি তখন ১০০ ওয়াট বাল্বের মতো জ্বল-জ্বল করিয়া উঠিল।
তরুণী মোবাইল খানা হস্তগত করিয়া প্রজ্বলিত বদনে আমার দিকে কিছুক্ষণ চাইয়া থাকিয়া জিগাইল- নাম কি দাদা আপনার?
-মোহাম্মাদ হুমায়ূন কবীর।
-কই পড়েন আপনি?
কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া কইলাম- মিরপুর বাংলা কলেজ।
তরুণীর চেহারার ঔজ্জ্বল্য ততোক্ষণে ৫০ ওয়াটে নাইমা গেছে।
কি যেন মনে করিয়া তরুণী আবার জিগাইল- কোন সাবজেক্টে পড়েন দাদা?
আমি কইলাম- বাংলা কলেজে বাংলা ছাড়া আর কি নিয়া পড়মু কন দিদি?
লক্ষ্য করিলাম তরুণীর চেহারার ঔজ্জ্বল্য পুরোপুরি নিভিয়া গিয়াছে ততোক্ষণে।
তরুণী 'অ' বলিয়া মোবাইল খানা পকেটগত করিয়া ভুস কইরা জনতার ভিড়ে মিশিয়া গেল; একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত দিলনা! আর আমি ইহাই প্রকৃতির নিয়ম মনে কইরা দুঃখিত বদনে হলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




