somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘৃণিত সে

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ভোর ৬:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘৃণিত সে
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছায়া)
.
দিনটা ছিলো চৈত্রের ঘাম ঝড়ানো এক সন্ধা। সন্ধা নেমেছে তবুও গরমের ঠান্ডাতে রুপান্তরিত হওয়ার কোন নাম গন্ধও নেই। শুনেছিলাম চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসলে, সূর্যের আলোটা ধীরে ধীরে নিভে গেলে নাকি গরমটা একটু কমে, কিন্তু এ দেখছি তার পুরো উল্টো। প্রচন্ড গরমের মাঝেও হালকা বাতাস বইছে, ঐ দূরে একটা বেখেয়ালী কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে।
সন্ধার এই অকৃত্রিম মনোমুগ্ধকর ঘাম ঝড়ানো পরিবেশটা যেন শ্রাবণের কাছে একটা অপেক্ষাকৃত কোন শুকতারা।
শ্রাবণ আনমনে ঐ দুর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। 
কি যেন ভেবে সে হঠাৎই হেসে উঠলো। হয়তোবা নিদারুণ পরিবেশের সঙ্গে তার মন নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, হয়তোবা অন্য কোন কারণে।
শ্রাবণ হেসেছে, হ্যাঁ সে অনেকদিন পর আজ হেসেছে। তবে তার এই হাসির মাঝে আজ কোন কষ্টের ছিটেফোটাও নেই।
কিন্তু আজ থেকে পাঁচ বছর আগের হাসিতে ছিলো অভিনয়, কষ্টকে লুকানোর অভিনয়।
.
ঠিক আজকের মতোই এক সন্ধাবেলা মেয়েটা হঠাৎ শ্রাবণকে ফোন করে তার বাসায় ডাকে। শ্রাবণ বলে সে এখন যেতে পারবেনা কিন্তু মেয়েটা বললো তোমাকে আসতেই হবে। আমার বাবা মা তোমাকে ডেকেছে।
-
শ্রাবণ নিরুপায় হয়ে তার পছন্দের লাল পাঞ্জাবিটা পরে মেয়েটার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো। তার মনে নানান চিন্তা ভাবনা উকি দিচ্ছে। এই অসময়ে আবার সোমার কি হলো, আর ওর বাবা মা-ই বা কেন তাকে ডাকলো? এ প্রশ্নের উত্তর তার অজানা।
তার কাছে একটা বিষয় খুব অদ্ভুত, আর সেটা হলো "ডাকবে যখন দিনের বেলা ডাকবে, এই সন্ধাবেলা ডাকলো কেন"। সোমার মনে কোন দুষ্টু বুদ্ধি উকি দেয়নি তো?
.
সোমাদের বাড়ির গেটে এসে শ্রাবণ সোমাকে কল দিলো, কল দেওয়ার সাথে সাথেই সোমা কল রিসিভ করে বললো
- আর কতক্ষণ লাগবে তোমার?
- চলে এসেছি, তবে আজ কেন জানি তোমাদের বাড়িতে ঢুকতে ভয় লাগছে।
- ভয় লাগবে কেন? চলে এসো।
- তুমি একটু নিচে এসো।
- ওকে দাঁড়াও, আসতেছি।
.
কিছুক্ষণ পর সোমা নিচে এসে শ্রাবণকে তার বাসাতে নিয়ে গেলো। তার বাসাতে যাওয়ার পর শ্রাবণ যা দেখলো তা সে আগে থেকেই কল্পনা করেছিল।
কারণ তার বাসাতে আজ কেউ নেই। তার বাবা মা সবাই বাইরে গেছেন। বাসাতে এখন সে শুধু একা। কিছু একটা হতে চলেছে সেটা শ্রাবণ খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে।
.
সোমার চোখ দুটো নেশায় পরিপূর্ণ, সে আজ শ্রাবণকে খুব কাছে পেতে চায়। সে শ্রাবণকে তার দিকে বারবার আহ্বান করছে। কিন্তু শ্রাবণের মধ্যে কেমন যেন একটা বাধা কাজ করছে। সে কখনো কোন মেয়ের সাথে একাকি কোন বদ্ধ ঘরে সময় কাটায় নি। সোমার সাথে এক বছরের রিলেশনে সে সোমাকে কখনো স্পর্শ অব্দি করেনি। কিন্তু আজ তার সাথে সে একান্ত ভাবে মিলিত হতে যাচ্ছে সে, এটা ভেবে সে নিজেই অবাক হচ্ছে।
সোমা তার ওড়না টা সরিয়ে নিলো নিজের শরীর থেকে। সে নানান ভাবে শ্রাবণকে তার কাছে টানছে। শ্রাবণের মধ্যে কোন রেসপন্স না দেখতে পেয়ে সে নিজেই শ্রাবণকে টেনে নিয়ে বিছানায় ফেলে দিলো। 
কিছু সময় যেতে না যেতেই সে জোড়ে একটা চিৎকার দিয়ে উঠলো। চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে কয়েকটি ছেলে বেরিয়ে এলো।
তারপর যা হবার তা ইতিহাস, কিন্তু এই ইতিহাস কোন বইতে লেখা হয়নি।
.
রক্তাক্ত হয়ে শ্রাবণ বাসায় ফিরলে তার ফোনে একটা মেসেজ আসে। সে নিজেকে ফ্রেশ করে মোবাইলটা হাতে নিয়ে মেসেজ টা পড়তে শুরু করে....
তোর মনে আছে যখন আমি তোর পিছে ঘুরঘুর করতাম, তখন তুই আমাকে কোন পাত্তাই দিতিনা। এ নিয়ে আমার বন্ধুরা আমাকে বেশ ক্ষেপাতো। বলতো, দেখ তোর মতো একটা কিউট মেয়েকে ঐ ছেলেটা পাত্তাই দেয়না।
ছয়টি মাস তোর পিছে ঘুরছিলাম। যেদিন তুই আমাকে কলেজের সবার সামনে চড় মেরেছিলি, সেদিনই আমি শপথ করেছিলাম এর যথোপযুক্ত প্রতিশোধ আমি নিবোই।
এখন বলতো, কেমন নিলাম প্রতিশোধটা?
এই ঘটনাটা মনে পড়তেই শ্রাবণ হেসে উঠলো, সে তখন কত না বোকা ছিলো।
.

হঠাৎ প্রাপ্তির ডাকে শ্রাবণের ভাবনাতে ছেদ পড়লো।
- আব্বু আব্বু, আম্মু তোমাকে ডাকে।
সে তার মেয়েকে নিয়ে রুমে গেলো, গিয়ে তো সে অবাক। মৌটুসি তার জন্য আজ তার সবচেয়ে পছন্দের খাবার গুলো রান্না করেছে।
শ্রাবণ আজ নিজেকে বেশ সৌভাগ্যবান মনে করে এই ভেবে যে, সে সোমার মতো মেয়ের জীবনে দ্বিতীয় বার নিজেকে জড়ায়নি। আর মৌটুসির মতো একটা সুন্দর মনের মানুষকে সে তার জীবন সঙ্গীনি হিসেবে পেয়েছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য সাইলেন্ট ইকো

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ফিকশনাল ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। গল্পের সমস্ত চরিত্র, প্রতিষ্ঠান, স্থান, সাল ও অপরাধের মোটিভ লেখকের কল্পনানির্ভর। বাস্তব কোনো ব্যক্তি, পেশাজীবী বা অমীমাংসিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×