অনন্ত তুই, আমি ও আমরা ও আমার চিরাচরিত স্মৃতিবিলাস
আগে পিছের অনেক কথাই ভেবে যাচ্ছি নিজের মতো করে, অতটা স্বাপ্নিক আমি কখনোই ছিলাম না যতোটা তুই ছিলি,তবে আমি প্রতিসরনের চেয়ে প্রতিফলনে দক্ষ ছিলাম এটা বলে দিতে পারি, তোর এখন কি দরকার, কি করতে ইচ্ছা করছে সব আমি বুঝে ফেলতাম, শুধু তোর প্রস্তাবনার অপেক্ষায় থাকত। অনন্ত আজ সকালেও তোর সাথে কথা হলো মোবাইলে, তুই যা বললি তার সারমর্ম গিয়ে ঠেকলো তোর ব্যাস্ততায়। আমি কখনো ব্যাস্ত ছিলাম না রে!! তবে জীবন সাজানোর জন্য ব্যাস্ত হওয়া মনে হয় জরুরী। তুই প্রায়ই বলতি, "বাদল চল একটা বাস ধরে কোথাও চলে যাই, যখন সময় হবে প্রয়োজনে এসে হাজির হব আমাদের গন্তব্যতো আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে তাই না! নো টেনশন চল ঘুরে আসি, রাস্তা মেপে আসি" তোর এ খামখেয়ালিপনা আমার মাঝেও প্রবাহিত হত, আমরা একে অপরের খামখেয়ালিপনাকে প্রশ্রয় দিয়ে গেছি কেবল, এ জন্য আমাদের কাটিয়ে দেয়া প্রতিটি মুহুর্ত তোর আমার কাছে এত সবুজ। তোর মনে আছে অনন্ত, শেষ যেবার দেখা করেছিলাম, নদীর পাড়ে বসে আমরা একদিনের কাটিয়ে দেয়া সব কথা হুড়মুড় করে বলতে লেগে গেলাম, আগে আমি পরে তুই, তারপর তুই তারপর আমি, আমাদের একসাথে কাটানো ঐ দুদিনের প্রথম দিনে আমরা নিরন্তর চুপ থেকেছি, কেবল দু'জন পাশাপাশি ঘুরেছি, দু একটা টুকটাক গল্প যেন ধাতস্থ হয়ে নেয়া, পরের দিন আমাদের গল্প শেষই হয় না!
আমি বাদল। বর্ষা দিনের নামে নাম। আমার নামটা আমাকে সবথেকে বেশি মনে করিয়ে দেয় কদম ফুলের কথা, যেন বাদল আর কদম সমর্থক। আমি গল্প করতে ভালবাসি। আপাতত আর কোন কল্পনা মনে আসছে না। আমি এখন হাটছি বিকেল বেলা সূর্যের দিকে মুখ ফিরিয়ে। অনন্ত আর আমার একটা চমকপ্রদ অবলোকন ছিল এই বিকেল নিয়ে,শেষ বিকেলের এই সোনালু আলো যাকে তাকে সুন্দর করে দিতো! অনন্তটা ডুবে থাকতো ওর ভালবাসার মানুষকে নিয়ে আমি ডুবে থাকতাম ওর জড়ানো সব স্বপ্নগুলো অবলোকন নিয়ে, নিজের অবচেতন মনেই গুছিয়ে ফেলতাম নিজের স্বপ্নগুলো।
অনন্তকে বলতে ইচ্ছে করে, আজও চল দোস্ত আজও সূর্যকে দিনের শেষবার দেখে আসি। আজ এটি অনেক লাল। তীব্রতাহীন, বড় এবং লাল। গোধুলীবেলার আমাদের আবিস্কার ছিল যে একেকদিন সূর্য একেক রকম লাল হয় আজকের মতো গোধুলি আমরা অনেক খুঁজেছি।
আমি যে একা হাটছি এমনটি নয় আমার সাথে আরেক সহচর আমি জুটিয়ে ফেলেছি, তুই তো জানিস এ কাজটায় আমি ভয়ানক দক্ষ। একবার একটা কাক কে পটিয়ে ফেলেছিলাম আমার জানালার সামনেই আমগাছের ডালে এটি কয়েকবার কা কা করে চেচামেচি করত প্রতিদিন সকালে ঠিক ৬.৫০ এ। প্রথম ক'দিন খেয়াল করিনি হঠাৎই এটা খেয়াল করলাম তারপর দেখলাম, প্রতিদিনই এমনটি ঘটছে। আমি জানলার পাশে দাড়ালে কাকটির সাথে সরাসরি হত। পরের দিন ঐ ডালের সাথে একটি বাটি বেঁধে তাতে মুড়ি দিতাম কাকটি সকালে এসে খেয়ে যেত। তুই এটা দেখে এতটাই খুশি হয়েছিলি যে, কাকটার একটা নাম ঠিক করে ফেললি, 'কঙ্ক' এইটার মানে আমি জানতাম না, তবে পরবর্তীদিন থেকে ওকে 'কঙ্ক' বলেই ডাকতাম। আজ পটিয়ে যাকে ফেলেছি এটি পটাতে সময় লাগার কথাও না এটি একটি কুকুর। একটা সাদা কালোর মিশেল রঙের কুকুর, চায়ের দোকানে একটু আগে চা খাবার সময় আমার দিকে ওর তাকিয়ে থাকার ভঙ্গিতে কিছুটা বুদ্ধির ছাপ পেয়েছিলাম একটা বিস্কুট দিলাম, লেজ নেড়ে কাছে এসে কিছুক্ষন অবলোকন করে বিস্কুটটি ভদ্রভাবেই খেল। তারপর থেকে এটি আমার সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে আপন মনে, চরম আনন্দ নিয়ে।এটার একটা নাম ঠিক করে ফেলেছি, 'ন' ,এমন এক অক্ষরের নাম কেন দিলাম জানি না, তবে ন নামটাই ওর জন্য আপাতত নির্ধারিত।
আমি বরাবরই একটু চুপচাপ কখনো খুব বাঁচাল। চুপচাপ তখন থাকি যখন নিজের সাথে কথা বলি। আমি বেশির ভাগ সময় নিজের সাথে কথা বলায় ব্যাস্ত থাকি শুধু নিজের সাথে না চারপাশের মানুষগুলোর সাথে, তবে তারা সেটা শুনতে পায়না এই যা পার্থক্য। বাস্তবে হয়তো একজনকে দেখেছি তাকে আমার কল্পনার জগতে একটি চরিত্র দিয়ে বসে আছি সে কখনো জানতেও পারেনি।
অনন্ত নিজেও জানেনা ওর সাথে এত কথা বলে যাচ্ছি একদিন, প্রতিদিন..
(থেমে যাবে কিংবা চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


