
সময়কে ছেদ করতে করতে মৃত পাখির মত ভেসে যাওয়া দেহ অবশেষে ভিড়লো ব্যথায় জেগে ওঠা কোন এক জল মোড়ানো নিঃস্ব চরে ।সেথায় ব্যাপ্তি ছিল আগ্রাসী ঢেউ, ছিলো ঝংকার, ছিলো নিশাচরের আসমান বাতি । দেহকে টেনে নিয়ে গেল নিঃস্বের প্রহরীরা । নিজস্ব আলয়ে কে সে ? দৃশ্যত তারা কোন জীবন পেল না । পৌরাণিক বেঁচে থাকা এসে বলল সেখানে আছে কিছু আলো, বেচে দাও সন্ধ্যা তারার নামে অথবা যুগান্তে ফিরে আসা কোন নক্ষত্র বিনিময়ে । অতঃপর বিনিময়ে দেহের হৃদয়িক ময়নাতদন্তে তারা পেল কিছু চিঠি । চিঠিতে নেই কোন শব্দ, নেই কোন ঠিকানা । তারা শুকনো কাঠিতে চিঠিগুলো পুরে উড়িয়ে দিল ঠিকানাবিহীন ফানুসের দায়বদ্ধে । ওদের শীতল নিঃশ্বাস বলছে পাঠিয়ে দাও সেথায় যেখানে শব্দ মিলবে, ঠিকানা মিলবে । গুণে গুণে ১১টা ফানুস ১১টা চিঠি নিয়ে উড়ে গেল। ফানুস চিঠিগুলোর অদৃশ্য চাপ বহন করতে পারেনি, তাই ওরা ফানুসের সাথে দেহের হৃদয়িক ক'ফোটা শুদ্ধ লালিমা বেঁধে দিলো । তখন ফানুসগুলো বাঁধনহারায় দিব্বি উড়ে গেল ! ওরা অবাক মৌননয়নে খোঁজে শব্দহীন চিঠির জীবনারূপ । ওরা দেহকে সাথে করে বুকে বেঁধে নিলো কিছু মেঘ, একদিন দ্রবীভূত হবে, একদিন তাদের মিলিয়ে দেবে এই জল স্বাদে ঝংকারের বুকে....
ফানুসগুলো অগনিত ইতিহাস উড়ে অবশেষে ভিড়লো এক দুর্গমের দরজায় । দরজার গহীন থেকে তাদের টেনে নিলো অজানা আদি সুবাস । সে নিষ্পাপ জীর্ণ পর্বত এখনো সেই ভার বহন করে টিকে আছে । সেও নাকি একটি দেহের মায়ায় মিলিত হয়েছে । সেখানে কোন চিঠি ছিলো না । হৃদয়িক নগর শব্দ, ঠিকানা নিয়ে গড়েছে । যার বিদ্ধ পর্বত করতে পারেনি । নয়তো সেও উড়িয়ে দিয়ে মুক্ত বিহঙ্গের ডানায় নিঃশ্বাস ফেলতো । ফানুসগুলো চিঠি বিলি করে শূন্যের আত্মায় মিলিয়ে গেলো । জীর্ণ পর্বত গুণে গুণে পেল ১১টি চিঠি । সে দেহের শব্দ, ঠিকানা গুলো চিঠির পৃষ্ঠায় লেপ্টে দিলো । চিঠিগুলো ঠিক ঠিক পূর্ণাঙ্গে শব্দ ঠিকানায় অবলীলায় ডুবে গেলো । অবশেষে একটি দুর্গম এবং ব্যাথায় জেগে ওঠা এক জল মোড়ানো নিঃস্ব চর মিলিয়ে গেল নিজস্ব জগতে । সেই দেহ দু'টি মিলিত হলো অপেক্ষার অগণিত ইতিহাসের ১১টি চিঠির শব্দ সঙ্গমে। তাদের তৃষ্ণিত নিষ্পাপ ব্যথাতুর সুখ সঙ্গমে অবধারিত কোন নতুন জগতের আগমনী চিৎকার শুনতে পেল যারা তার সান্নিধ্য পায় নি.....
ছবি কৃতজ্ঞতা- নেট ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



