somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যু, তুমি আমার আকাশে উড়ো, আমি তা জানি ।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মৃত্যু কী ? যার কোন ব্যাখ্যা নেই, মৃত্তিকার সাথে মৃত্তিকার নৃশংস মিলন ! বেলা-অবেলা, সূর্য ওঠে-সূর্য ডুবে, রাত আসে-জ্যোৎস্না ফোটে, গভীর হয়-প্রভাত হাসে; চেতনে-অবচেতনে টিক টিক করে ছুটে চলা 'সময়' এর কোন প্রস্তুত পাহারাদার নেই । কারণে-অকারণে, যে কোন ক্ষণে ডাকাতি হয়ে যেতে পারে ঝুলিয়ে দেয়া সময়ের গতি, নিয়ন্ত্রণে অপারগ দেহ চেয়ে থাকবে অপলক । তুলনাহীন স্বপ্নের নাম- বেঁচে থাকা; যেখানে ওঁৎ পেতে থাকা 'মৃত্যু' কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করে নি । বরঞ্চ বলেছে- আমি অতি নিকটে, অতি ক্ষুদ্র সেকেন্ডের কাঠগড়ায় আমার দূরত্ব বাঁধা! কী নিয়ে তুমি চিন্তা করো- ন্যায়, অন্যায় ? হা হা, এটুকু তুমি চিন্তা করো যে সময়ে সে সময়ে হয়তো তোমার হৃদপিণ্ডের রক্তনলে আমি হামাগুড়ি খাই, তোমার নিঃশ্বাসে ধূম্র হয়ে খেলা করি, তোমার প্রতিটি লোমকূপে অব্যক্ত শিহরণ জাগাই !

আমায় আত্মা নামেও সম্বোধন করতে পারো, আমি বের হয়ে গেলেই তুমি পচে যাবে, গন্ধ ছড়াবে, মিশে যাবে । বড়াই তো আমার করার কথা থাকে যেখানে তুমি করো, আর আমি থাকি নীরব, নিষ্প্রভ । নিষ্পাপ থাকার কথা বলবো না, শুধু এখানে আমি হেরে যাই তোমার নিকট, প্রতিনিয়ত । আমায় নিয়ে খেলো তুমি রং তামাশা- হৃদয় বিরুদ্ধ । সময়ের মূল্য তুমি দাও অবহেলার পাত্রে, যেখানে আমাকেও ছুড়ে ফেলে দাও । কিন্তু আমি আবার ফিরে আসি- ওয়াদা রক্ষার নিয়ম মেনে, বড়ই অসহায় এই সময়টুকুই আমি । তোমাকে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি- প্রতিটি সেকেন্ড । হাতের তালুতে তোমার রেখা গুনি- সেই ক্ষণের, তোমার তাচ্ছিল্যভরা দেহ ছুড়ে ফেলে দিয়ে তোমায় আপন করে নিয়ে মিলিয়ে যাবো ।

আমি আপন হবো, আমি আপন হবো তোমার অজান্তে, খুব গোপনে, সংগোপনে । তখন আমার বুকে চড়ে তুমি দেখবে- তোমার অতি যতনের দেহ বড়ই অযত্নে পড়ে আছে, তোমার দেহকে যাচ্ছেতাই করছে, কেউ কেউ পুতে ফেলার দুঃখে বুক ভাসাচ্ছে, যাদের তুমি আপন বলো । চেয়ে দেখবে, তাদের সামনে আমি তাদের উদাহরণ তোমাকে দিয়ে দেখাই, অথচ তারা বেমালুম ভুলে যাবে আমাকে- পার্থিব সকল স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকার আমরণ চেষ্টা । কিন্তু আমিই তো তাদের সবচেয়ে ভয়ংকর স্বপ্ন অবধারিত ভাবে পূরণ হবো বলে অপেক্ষা করছি। হা হা ।

সকল ষড়যন্ত্র, ন্যায়- অন্যায়ের অবসান হবে আমাকে দিয়ে, সে সময়ে বুঝবে তুমি কতটা আমার প্রতি মগ্ন ছিলে, আমায় কতটুকু উপলব্ধি করতে । বেহায়া ইতিহাস তো বারংবার তোমাদের সবকিছু খুলে বলে দেয়, আমি উদাহরণ দেই সরাসরি, আর সে লিপিবদ্ধ করে চলে । আজ আমি যাদের যন্ত্রণার কারণ আগামীকাল তাদের আপন করে অন্যের যন্ত্রণার কারণ হবো সুনিশ্চিত । এভাবে সবকিছু নিঃশেষ করে দেবো একে একে, যতকাল জীবন আছে ঠিক ততকালই আমি থাকবো, বলতে পারো- জীবনের জন্যই আমার সৃষ্টি ।

একটি সেকেন্ড চলে গেলে তোমাদের আফসোস হয় না, তোমরা 'আগামী'কে খুব বেশি ভালবাসো । অথচ তার নিশ্চয়তা তোমাদের হাতে এক ফোঁটাও নেই, সবকিছুতেই তোমাদের খামখেয়ালি আচরণ । কতভাবে কতজনের কাছে নিত্যি কত ওয়াদা করে চলো, কখনো কী আমার কাছে ঋণী হও ? বলো কী কখনো 'যদি না মৃত্যু আমাকে আপন করে' ? এভাবে হররোজ অবহেলা করো আমাকে । যাকে আজ আঙ্গুল তুলে, কলার উঁচিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দাও, সে হয়তো তোমার শেষ বিদায়ের কীর্তিতে অংশগ্রহণ করবে, বলবে তোমার আত্মা শান্তি পাক । এভাবেই তুমি নিজেকে দেখিয়ে চলো, নিজের গন্ধ নিজে শুঁক ।

আঁধিয়ার, অগোচরকে অতি আপন ভেবে তোমার চরিত্রের নিম্নতা দেখাও, তখনো আমি তোমার বাঁচার কারণ হয়ে থাকি । কখনো কী আমাকে বুঝেছো ? তোমার একটি আশীর্বচনের জন্য আমি কতটুকু ক্ষুধার্ত ? এভাবে প্রতিনিয়ত তীরবিদ্ধ করে চলো আমাকে । এতো কিছু তোয়াক্কা করেও তোমাকে সুখ উপভোগ করার জন্য নিজেকে উদার করে চলেছি । তোমার নির্দিষ্ট জীবনাবরণে কোন সময় মনে হলে আমায়, একটু নিষ্পাপ নিঃশ্বাস দিও, কথা দিলাম- বৃথা যেতে দেবো না । আর তার পূর্বেই যদি 'সময়' আমার হয়ে যায়, সেই পাপে তোমায় গলিয়ে দিতে এক পলকও আমি অপেক্ষা করবো না । তখন কোথাও আর কোন নিষ্পাপ নিঃশ্বাস খুঁজে পাবে না। এই কাজে আমি খুব অহংকারী ।


ছবি কৃতজ্ঞতা- নেট ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৩৯
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

বিল গেটস এর নামে একটা কথা প্রচলতি আছে; জানি না কথাটা বিল বলেছে কি না, তবে আমার কাছে মাঝে মাঝে কথাটা সত্য মনে হয়। কথাটা এমনঃ আমি কোন কাজ করবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×