
মৃত্যু কী ? যার কোন ব্যাখ্যা নেই, মৃত্তিকার সাথে মৃত্তিকার নৃশংস মিলন ! বেলা-অবেলা, সূর্য ওঠে-সূর্য ডুবে, রাত আসে-জ্যোৎস্না ফোটে, গভীর হয়-প্রভাত হাসে; চেতনে-অবচেতনে টিক টিক করে ছুটে চলা 'সময়' এর কোন প্রস্তুত পাহারাদার নেই । কারণে-অকারণে, যে কোন ক্ষণে ডাকাতি হয়ে যেতে পারে ঝুলিয়ে দেয়া সময়ের গতি, নিয়ন্ত্রণে অপারগ দেহ চেয়ে থাকবে অপলক । তুলনাহীন স্বপ্নের নাম- বেঁচে থাকা; যেখানে ওঁৎ পেতে থাকা 'মৃত্যু' কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করে নি । বরঞ্চ বলেছে- আমি অতি নিকটে, অতি ক্ষুদ্র সেকেন্ডের কাঠগড়ায় আমার দূরত্ব বাঁধা! কী নিয়ে তুমি চিন্তা করো- ন্যায়, অন্যায় ? হা হা, এটুকু তুমি চিন্তা করো যে সময়ে সে সময়ে হয়তো তোমার হৃদপিণ্ডের রক্তনলে আমি হামাগুড়ি খাই, তোমার নিঃশ্বাসে ধূম্র হয়ে খেলা করি, তোমার প্রতিটি লোমকূপে অব্যক্ত শিহরণ জাগাই !
আমায় আত্মা নামেও সম্বোধন করতে পারো, আমি বের হয়ে গেলেই তুমি পচে যাবে, গন্ধ ছড়াবে, মিশে যাবে । বড়াই তো আমার করার কথা থাকে যেখানে তুমি করো, আর আমি থাকি নীরব, নিষ্প্রভ । নিষ্পাপ থাকার কথা বলবো না, শুধু এখানে আমি হেরে যাই তোমার নিকট, প্রতিনিয়ত । আমায় নিয়ে খেলো তুমি রং তামাশা- হৃদয় বিরুদ্ধ । সময়ের মূল্য তুমি দাও অবহেলার পাত্রে, যেখানে আমাকেও ছুড়ে ফেলে দাও । কিন্তু আমি আবার ফিরে আসি- ওয়াদা রক্ষার নিয়ম মেনে, বড়ই অসহায় এই সময়টুকুই আমি । তোমাকে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি- প্রতিটি সেকেন্ড । হাতের তালুতে তোমার রেখা গুনি- সেই ক্ষণের, তোমার তাচ্ছিল্যভরা দেহ ছুড়ে ফেলে দিয়ে তোমায় আপন করে নিয়ে মিলিয়ে যাবো ।
আমি আপন হবো, আমি আপন হবো তোমার অজান্তে, খুব গোপনে, সংগোপনে । তখন আমার বুকে চড়ে তুমি দেখবে- তোমার অতি যতনের দেহ বড়ই অযত্নে পড়ে আছে, তোমার দেহকে যাচ্ছেতাই করছে, কেউ কেউ পুতে ফেলার দুঃখে বুক ভাসাচ্ছে, যাদের তুমি আপন বলো । চেয়ে দেখবে, তাদের সামনে আমি তাদের উদাহরণ তোমাকে দিয়ে দেখাই, অথচ তারা বেমালুম ভুলে যাবে আমাকে- পার্থিব সকল স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকার আমরণ চেষ্টা । কিন্তু আমিই তো তাদের সবচেয়ে ভয়ংকর স্বপ্ন অবধারিত ভাবে পূরণ হবো বলে অপেক্ষা করছি। হা হা ।
সকল ষড়যন্ত্র, ন্যায়- অন্যায়ের অবসান হবে আমাকে দিয়ে, সে সময়ে বুঝবে তুমি কতটা আমার প্রতি মগ্ন ছিলে, আমায় কতটুকু উপলব্ধি করতে । বেহায়া ইতিহাস তো বারংবার তোমাদের সবকিছু খুলে বলে দেয়, আমি উদাহরণ দেই সরাসরি, আর সে লিপিবদ্ধ করে চলে । আজ আমি যাদের যন্ত্রণার কারণ আগামীকাল তাদের আপন করে অন্যের যন্ত্রণার কারণ হবো সুনিশ্চিত । এভাবে সবকিছু নিঃশেষ করে দেবো একে একে, যতকাল জীবন আছে ঠিক ততকালই আমি থাকবো, বলতে পারো- জীবনের জন্যই আমার সৃষ্টি ।
একটি সেকেন্ড চলে গেলে তোমাদের আফসোস হয় না, তোমরা 'আগামী'কে খুব বেশি ভালবাসো । অথচ তার নিশ্চয়তা তোমাদের হাতে এক ফোঁটাও নেই, সবকিছুতেই তোমাদের খামখেয়ালি আচরণ । কতভাবে কতজনের কাছে নিত্যি কত ওয়াদা করে চলো, কখনো কী আমার কাছে ঋণী হও ? বলো কী কখনো 'যদি না মৃত্যু আমাকে আপন করে' ? এভাবে হররোজ অবহেলা করো আমাকে । যাকে আজ আঙ্গুল তুলে, কলার উঁচিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দাও, সে হয়তো তোমার শেষ বিদায়ের কীর্তিতে অংশগ্রহণ করবে, বলবে তোমার আত্মা শান্তি পাক । এভাবেই তুমি নিজেকে দেখিয়ে চলো, নিজের গন্ধ নিজে শুঁক ।
আঁধিয়ার, অগোচরকে অতি আপন ভেবে তোমার চরিত্রের নিম্নতা দেখাও, তখনো আমি তোমার বাঁচার কারণ হয়ে থাকি । কখনো কী আমাকে বুঝেছো ? তোমার একটি আশীর্বচনের জন্য আমি কতটুকু ক্ষুধার্ত ? এভাবে প্রতিনিয়ত তীরবিদ্ধ করে চলো আমাকে । এতো কিছু তোয়াক্কা করেও তোমাকে সুখ উপভোগ করার জন্য নিজেকে উদার করে চলেছি । তোমার নির্দিষ্ট জীবনাবরণে কোন সময় মনে হলে আমায়, একটু নিষ্পাপ নিঃশ্বাস দিও, কথা দিলাম- বৃথা যেতে দেবো না । আর তার পূর্বেই যদি 'সময়' আমার হয়ে যায়, সেই পাপে তোমায় গলিয়ে দিতে এক পলকও আমি অপেক্ষা করবো না । তখন কোথাও আর কোন নিষ্পাপ নিঃশ্বাস খুঁজে পাবে না। এই কাজে আমি খুব অহংকারী ।
ছবি কৃতজ্ঞতা- নেট ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



