somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিকল আবরণ।

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নিমজ্জিত অদ্ভুত রঙে- আলো আলো, ধোঁয়া ধোঁয়া। আলো ও আঁধারের মাঝখানে কীসের অবস্থান ? আদৌ কী কেউ ব্যাখ্যা করেছে ? অথচ ওতে বসবাস ! তবে একাকি একজন বন্দি তার হৃদয়ে অকপটে সম্পূর্ণরূপে অনুভব করে এর সুদৃঢ় ব্যাখ্যা, সে অনুভব করে এই আলো এবং আঁধারের ভয়ংকর ধাঁধাঁ । শিকলগুলো আলতোভাবে কেঁপে উঠলো, মৃদু রিনিঝিনি শব্দগুলো যেন শিকলদের স্পষ্ট কথোপকথন । এলোমেলোভাবে ঝুলে থাকা শিকলগুলোর গাঁয়ে ছোট্ট ছোট্ট কাঁটা আছে, কাঁটাগুলোর সম্মুখভাগ চিকচিক করছে যেন তারা আড় চোখে তাকিয়ে আছে একে অপরের দিকে । কেউ একজন আসছে এদিকে, শিকল পরা হাত নিয়ে, স্থির চোখ নিয়ে । তার হাতের শিকলগুলো মেঝে কাঁপিয়ে আসছে, মাঝে মাঝে শিকলের ভারে সে নুয়ে পড়ছে, আবার উঠছে । সে যেন দৃঢ প্রতিজ্ঞ, এদিকে আসবেই । তার চোয়াল দেখে মনে হচ্ছে সে মানুষখেকো, আসছে হয়তো আমাকেই খেতে । এ কথা ভাবতেই আমার দেহ শিরশির করে উঠলো। শেকলে বাঁধা দেহ নিয়ে আমি ছটফট করছি, যেকোন ভাবে বাঁচতে, অন্তত আমার মত কেউ আমাকে খাবলে খাবলে খেয়ে ফেলুক তা আমি চাই না ।

আমি জানি না আমার ইতিহাস কী, কীভাবে এসেছি এই অজ্ঞাত সঙ্কুল কক্ষে? কোথায় ছিলাম আমি ? কারা আমার মায়ার একান্ত শৃঙ্খল ? অন্তত এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে । এগিয়ে আসা এই মানবরূপী শিকলবন্দি জন্তুটা হয়তো আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে । সে ধীরলয়ে এগিয়ে আসছে ডুবন্ত সূর্যের মত, যেন প্রতি পদক্ষেপে তার মৃত্যু সম্ভাব্য । আমিও খুব করে কামনা করছি তার মৃত্যু, এটুকু পথ আসার আগেই সে মৃত্যুশয্যায় পতিত হোক, প্রয়োজন হলে আমিই তার সমাধির পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করবো! আচ্ছা, লোকটার হাত তো শিকল দিয়ে বাঁধা, সে আমাকে ভক্ষণ করবে কীভাবে ? এ ব্যাপারটা ভেবে আমি পুলকিত অনুভব করছি ।, কিন্তু পরক্ষণে মনে পড়লো সে তো আমাকে খাবে, তবে তার হাতের কী দরকার, আমার হাত তো খোলা নেই যে তাকে আমি বাঁধা দেব ! সে দাঁত বসিয়ে বসিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে আমার মাংস খুলে নেবে, তৃষ্ণা মেটানোর জন্য রক্তগুলোকে চুষে নেবে। এভাবে আমি কল্পনা করছি আমার মলিন ভবিষ্যত, সেখানে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ঝুলে থাকা পরিচ্ছন্ন কঙ্কাল !

আমি মনের ভেতর তীব্র কামনায় ছটফট করছি- কেউ আসুক আমার ত্রাণকর্তা হয়ে, শিকলগুলো ভেঙ্গেচুরে নিয়ে যাক আমাকে। কিন্তু ততক্ষণে লোকটা আমার চোখ বরাবর তার চোখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । আমি চোখ মেলতেই চমকে উঠি তার এই ভয়ানক স্থির চোখ দেখে । সে তাকিয়ে আছে আমার চোখের গভীরে, আমি তার চোখের অন্ধকার স্পষ্ট দেখতে পারছি । হঠাৎ আমার চোখেও এক অন্ধকার ক্যানভাস ভেসে উঠলো । আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি তার চোখগুলোর দিকে, এ যেন তীব্র কোন নেশা আমার হৃদয়কে গ্রাস করে নিয়েছে। ধীরে ধীরে আমার চোখও স্থির হতে লাগলো । সে হঠাৎ চোখ ফিরিয়ে আমার পেছন দিকে পাশ কেটে চলে যাচ্ছে যেন আমার চোখের গহীনে সে কিছু একটা সম্পন্ন করে ফেলেছে । কিছুক্ষণের জন্য যেন আমি সেই ভয়ংকর মৃত্যু কামনা থেকে রেহাই পেলাম । কিন্তু সামনে তাকিয়ে দেখি তার মত আরো একজন আসছে, সেও আমাকে পাশ কেটে পেছনের দিকে চলে গেল । এভাবে আরো অনেকজন চলে গেল ।

অজস্র কৌতুহল নিয়ে মাথা ঘুরিয়ে আমি পেঁছনের দিকে তাকালাম । আমি দেখতে পেলাম সেদিকে এক বিশাল পৃথিবী আছে যার জমিন মাড়িয়ে ব্যাখ্যাতীত সংখ্যায় এভাবে শিকল নিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে সারি সারি লোক , শিকলের ভারে তারা নুয়ে পড়ছে, আবার উঠছে । এমন বিরহী অদ্ভুত দৃশ্যে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর আমি অনুভব করলাম আমার শিকল খুলে গেছে । তবে হাত থেকে নয় উপর থেকে, যেখানে শিকলটা আটকে ছিলো, যেন উপরে কোথাও থেকে আমি এখানে পড়েছি কিন্তু পড়ার মুহূর্তে আটকে গেছি । এখন আমিও শিকলের ভারে নুয়ে পড়ছি, আবার উঠছি, হাঁটছি... এভাবে এগিয়ে যাচ্ছি তাদের একজন হয়ে তাদের পিঁছু পিঁছু....



ছবি কৃতজ্ঞতা - নেট ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১:২৮
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×