
একজন লেখকের সম্পদ কী ? এমন প্রশ্ন যদি কোন লেখককে করা হয়, তিনি হয়তো বলবেন 'আমার লেখাগুলো' । তবে আমার কাছে মনে হয় একজন লেখকের সম্পদ হচ্ছে তাঁর লেখার সক্ষমতাটুকু । লেখার সক্ষমতা বলতে বোঝানো হয়েছে সাবলীল, ব্যতিক্রমী, প্রভাবক এবং অর্থ বিকিরণযোগ্য লেখা লিখতে পারা কে ।মৃত্যুর পর কেউ কোন পার্থিব সম্পদের মালিক থাকতে পারে না । লেখকের ক্ষেত্রেও তাই । যে লেখাগুলো তিনি লিখে যান সেগুলো তাঁর মৃত্যুর পর পৃথিবীর সম্পদ হয়ে যায়।যদিও বেঁচে থাকাকালীন তিনি হয়তো তাঁর লেখাগুলোর সুফল ভোগ করেন, এ ক্ষেত্রে তিনি লেখাগুলোকে তার সম্পত্তি বলতে পারেন।কিন্তু কখনো তা সম্পদ হতে পারে না । সম্পদ মানে তার মূল্য নিরূপণযোগ্য নয়, সে মূল্যের উর্ধে । তাই একজন লেখকের মস্তিষ্ক এবং মননে যতদিন আলো জ্বলবে এবং আলো ছড়াবে সেই অমূল্য বাল্বটাই তাঁর সম্পদ।
লেখা চুরি প্রসংগে :
যারা লেখা চুরি করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাদেরকে বলবো, অন্যের সম্পত্তি চুরি না করে নিজের মধ্যে একটি সম্পদ রোপণ করুন, লেখার সক্ষমতা অর্জন করুন দেখবেন আপনিও অনেক সম্পত্তি গড়তে পারবেন । চেষ্টা, শ্রম, চর্চা এবং গভীর চিন্তাশীলতা দিয়ে খুবই সম্ভব অনেকগুলো সম্পত্তি জন্মদানকারী একটা সম্পদ নিজের মধ্যে গড়ে তোলা।আপনার মধ্যে কী লুকিয়ে আছে তা পৃথিবীর কেউ জানে না, হয়তো আপনিও পুরোপুরি জানেন না । তাই সেসব অজানাগুলোকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন, নিজের মৌলকতা প্রতিষ্ঠা করুন । পরগাছা হয়ে শুধু আপনি বৃক্ষের গায়ে লেগে থাকতে পারবেন কিন্তু একটা পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষ কখনোই হতে পারবেন না । পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষ হওয়ার জন্য মৃত্তিকার সান্নিধ্যে যেতেই হবে, আর সেই মৃত্তিকা হলো আপনার চিন্তাশীলতা । চিন্তাশীলতার বুকে আপনি নিজেকে যত সমর্পণ করবেন তত আপনি বিস্তৃত হবেন, প্রশস্থ শাখা প্রশাখা নিয়ে আপনি বিশাল বৃক্ষ হয়ে উঠবেন। আর পরগাছা হয়ে বেঁচে থাকতে চাইলে কোন একসময় উপড়ে যেতে হবে । বৃক্ষ কাঠ হয়ে পৃথিবীর শৌভা বর্ধন করবে, আর আপনি নর্দমায় কীটের সাথে পড়ে থাকবেন, কোন একসময় আপনিও কীট হয়ে যাবেন।
সবার জন্য শুভ কামনা । শুভ ব্লগিং।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



