somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মিয় সংঘর্ষ - পুরোটা পড়ে দেখবার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

১২ ই জুন, ২০১৩ সকাল ১১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্মে ধর্মে বিরোধ অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। এক ধর্মের মানুষের সাথে অন্য ধর্মের মানুষের সংঘর্ষ হচ্ছে। সবাই যে যার ধর্মের প্রশংসা করে অন্য ধর্মের নামে নিন্দা করে বেড়াচ্ছে। সমাজের এক শ্রেনীর মানুষেরা তো সারাদিন এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। মুসলিমপ্রধান দেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে আবার হিন্দুপ্রধান দেশে মুসলিমদের। আসলে এসব কেনো হচ্ছে আমি বুঝি না। এখনতো অনেক ধর্মই লোভ/ভয় বা জোর করে বিধর্মীদেরকে তাদের নিজ নিজ ধর্ম গ্রহন করাতে বাধ্য করতেছে। আমি এটাও বুঝি না যে এখানে সার্থকতা কোথায়। আপনি হয়ত বলতে পারেন যে ওরা ভূল পথের অনুসারি হচ্ছে তাই আমি ওদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দিচ্ছি। এটাই আমার সার্থকতা।
তার মানে কি এই দাড়ায় যে আপনার ধর্ম পালন করলেই সে সঠিক পথের অনুসারি হয়ে গেলো??
এই যদি হয় তবে আপনার ধারনা সম্পূর্ন ভূল। কারন আপনি কোন ধর্মে পেয়েছেন যে সেটি আপনাকে ভূল পথে নিয়ে যাচ্ছে??
কোন ধমগ্রন্থে কি লেখা আছে খুন করো/ ডাকাতি করো/ ধর্ষন করো? না নেই। কিন্তু তবুও কি ইসলাম ধর্মের অনেক মানুষ খুন করছে না??
হিন্দু ধর্মের অনেক মানুষ ডাকাতি করছে না??
খ্রিস্টান ধর্মের অনেক মানুষ ধর্ষন করছে না?? করছে। অনেকেই তো করছে। আবার এসব ধর্মে কি ভাল মানুষ নেই। আছে। অনেক ভাল মানুষও রয়েছে এসব ধর্মের মধ্যে। তাহলে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে হিন্দু/মুসলিম/খ্রিস্টান/বৌধ্য এসব ধর্মের তুলনায় মানুষের মনুষ্যত্ব অনেক উপরে।
ধর্ম আপনি কোনটা গ্রহন করলেন সেটা আসলে যতটা না দেখার বিষয়, আপনি মানুষ হিসেবে কতটা ভাল সেটাই হল মূল বিবেচ্য বিষয়। আর ভাল মানুষ হতে হলে নির্দিষ্ট কোন ধর্ম আপনাকে ভাল করে দিতে পারবেনা। ধর্মগুলো শুধু আপনাকে ভাল হওয়ার দিক নির্দেশনা দিবে মাত্র। এক্ষেত্রে আপনি যেকোন ধর্ম সঠিকভাবে পালন করলেই একজন ভাল মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারবেন। এখানে একটা উদাহরন দেওঅয়া যেতে পারে-
ধরুন রহিম এবং করিম দুজনেই খুব ভাল ছাত্র। দুজনেরই ইচ্ছা ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ার। সময় আসলো ভর্তির জন্য কোচিং করার। সমস্যা হলো কোচিং সেন্টার আবার দুইটা। একটার নাম UCC তো আরেকটার নাম UNIAID. দুটোই বলছে তাদেরটাই সেরা। তো রহিমের কাছে UCC ভাল লাগলো তাই রহিম UCC তে ভর্তি হইলো, আর করিমের কাছে UNIAID ভাল লাগলো তাই করিম UNIAID এ ভর্তি হইলো। রহিম UCC এর গাইডলাইন ভালভাবে অনুসরন করে ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেল আবার করিম UNIAID এর গাইডলাইন ভালভাবে অনুসরন করে ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেল।
এখানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি কিন্তু বলেনি তোমরা UCC/UNIAID এ কোচিং করো। আপনি কোথায় কোচিং করবেন সেটা আপনার একান্তই মনের ব্যাপার। কিন্তু যেখানেই কোচিং করেন না কেন, তাদের গাইডলাইন ভালভাবে অনুসরন করলে আপনি নিশ্চিতভাবে আপনার কাংখিত সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। উপরের উদাহরনটিতে পড়াকে তুলনা করা হয়েছে মনুষ্যত্বের সাথে, কোচিং সেন্টার গুলোকে ধর্মের সাথে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সৃষ্টিকর্তার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
উদাহরনটির মূল বক্তব্য হলো, সৃষ্টিকর্তা তার কাছে পৌছানোর জন্য বেশ কয়েকটি ধর্ম এবং ধর্মগ্রন্থের সৃষ্টি করেছেন। এক্ষেত্রে আপনি যেকোন একটি ধর্ম ভালভাবে অনুসরন করতে পারলেই সৃষ্টিকর্তার নিকট পৌছাতে পারবেন। অন্য ধর্মের মানুষেরা আপনাকে যতই ভয় দেখাক না কেন, আপনার ভয় পাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

আর এই যে ভাই আপনাকে বলছি-
কি দরকার ভাই এসব করে? কি দরকার বিধর্মীদেরকে নিজ ধর্মে নিয়ে এসে। ধর্মগুলো তো কোন রাজনৈতিক দল নয়, যে দল ভারী করলেই আপনার দল সেরা হয়ে যাবে। মনে রাখবেন এসব করে আপনার কোনদিনো ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×