লোকে বলে বসন্ত, বসন্ত বলে কী বোঝাতে চায় সে আমি আজো জানি না। তবে বসন্ত যে সুর-ঘ্রাণ-হাওয়া নিয়ে আসে সেটা সত্যিই বেশ সুমধুর। হ্যাঁ খানিকটা কাব্যিক ঢঙ্গে বলা যায় ২৮টি বসন্ত পার করে দিলাম। জীবনের এই প্রথম খন্ডে অনেক চড়াই উৎরাই ছিল। আনন্দ-বেদনার কাব্য ছিল। চলার পথের বাঁধাগুলো ডিঙ্গাতে পেরেছি বলেই তো আজ এখানে এসে পৌঁছে গেছি। তবে তাতে আমার একার কৃতিত্ব নেই। সর্বপ্রথম যাঁর প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন তিনি মহান আল্লাহ, তাঁর অশেষ অনুগ্রহ ছাড়া এতটা পথ চলার কোন শক্তি পাওয়া যেত না। বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রতিবেশি সকলেই যেরকম আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন, সেটা আমি কী করে ভুলি। অর্জনের পাল্লাটা বেশ হালকা হলেও যা পেয়েছি তাতে আমি ধন্য। ধন্য মানুষের স্নেহে-সহমর্মিতায়-সহযোগিতায়।
সবকিছুরই শেষ থাকে, আমি-ও একদিন বিদায় নেব নশ্বর এই সৃষ্টিজগত থেকে। মানুষের অনেক সাধ থাকে, সব তো পূরণ হবার নয় জানি। তবে বাকি জীবনটুকু হাসি-আনন্দে সকলের সাথে মিলে মিশে কাটিয়ে দিতে পারলেই খানিকটা স্বার্থক হবে বলে মনে হয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সংগ্রামে একাত্ম হওয়া, সমাজ থেকে বিভেদের দেয়াল তুলে দিয়ে সাম্যের আর সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলা, এসবই লক্ষ্য। জানি লক্ষ্যগুলো কঠিন, ঐক্য সেসবকে সহজ করে দিতে পারে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ইত্যাদি জনমনে ব্যাপক শান্তি এনে দিতে পারে, এসবের জন্য যদি সামান্য কিছু করতে পারি, সেটা হবে পরম অর্জন।
সত্যের আলোক সন্ধানে পার হোক জীবন, সেই আলো দূর করে দিক মনের সকল আঁধার। সৃষ্টিকর্তা আর তাঁর সৃষ্টির কাছাকাছি থেকে জীবনের প্রকৃতি উপলব্ধি হোক। এই প্রত্যাশা।
আগামীর জন্যে সকলের কাছে দুয়া চাইছি।
ডিসেম্বার ৮, ২০১২।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


