somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টয়লেট কাহিনী

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা টয়লেটে অতিবাহিত সময় বিষয়ক কোন পোষ্ট নয়। :)
জ্ঞানী ব্যাক্তিরা বলে গেছেন '' ভাবিয়া করিও কাজ......''
টয়লেটে গোলাগুলি করে এখন বিচারের মুখোমুখি একজন সেলিব্রিটি।অবশ্য তিনি ফাসির দড়ি থেকে ফিরে এসেছেন ।
পূর্বকথা
কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরী নকল পা নিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তির হেটে বেড়ানো থেকে অনেক উপরে স্থান নিয়ে ফেলেছিলেন লড়াকু মানসিকতার একজন ক্রীড়াবিদ।প্যারা অলিম্পিকে তার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বিস্ময়ের সাথে দেখেছি আমরা , তার আগে বিশ্ব ক্রীড়া সংস্থা থেকে অনেক ধস্তাধস্তি করে সনদ জোগাড় করে নেয়া দেখেছি । তার ডাক নাম ছিল ব্লেড রানার ।
হ্যা , আমি অস্কার পিস্টোরিয়াস এর কথাই বলছি

oscar-pistorius-in-60-seconds

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা এই অ্যাথলেট ১১ মাস ব্য়সে রোগে পা হারান । অদম্য মানসিকতার কাছে হার মেনেছিল পংগুত্ব আর অসহায়তা। জীবনকে জীবনের মত কীভাবে বাঁচতে হ্য় দেখিয়ে দিয়েছিলেন ।
আসলেই একজন হিরোর মত তিনি একের পর এক অর্জন করেছিলেন আর বৃদ্ধাংগুলী দেখিয়ে গেছেন অক্ষমতাকে।

তার সেই অবিস্মরণীয় মোকদ্দমা ''The Court of Arbitration for Sport'' এর বিরুদ্ধে তাকে দিয়েছিল সেই সম্মান যার জন্য আজীবন সাধনা থাকে অনেক অ্যাথলেটের। হাতে উঠেনি সেই পরম আরাধ্য অলিম্পিক স্বর্ণপদক। কিন্তু প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন দেশের, পতাকা হাতে দূত হয়েছিলেন।

এরপরই এল সেই কালো অধ্যায় যার ফয়সালা আজকে হবে ।
এই বিচার নিয়ে আমার নিজস্ব কিছু মুল্যায়ণ আছে, যা আমি ব্যাখ্যা করছি
বিচার এর প্রতিপাদ্য ছিল মুলত কে/কেন খুন করেছে এ নিয়ে।
১৪ই ফেব্রুয়ারীতে ঐদিন অস্কারের বাড়িতে ভোর রাতে গুলির শব্দ শোনা যায়, এর আগে নারী ও পুরুষের ঝগড়ার শব্দ শোনা যায় বলে প্রতিবেশীরা জানান। তার বেডরুমের সাথে যুক্ত বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে লক করা ছিল,সেখান থেকে বান্ধবী লাশ পাওয়া যায়।

অস্কারের দাবী তিনি অনুপ্রবেশকারী ভেবে চারটি গুলি করেন পরে দেখেন ভুল হয়ে গেছে।

তাহলে আমরা যা পাচ্ছি:
১। তিনি ও তার বান্ধবী ছাড়া বাড়ীতে আর কেউ ছিলেন না।
২। তার বেডরুমের সাথে যুক্ত বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে লক করা ছিল এবং বাইরে থেকে গুলি চালানো হয়।
৩। বাইরে থেকে গুলি চালিয়ে কাউকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য প্রতীয়মান হয়।
৪।নারী ও পুরুষের ঝগড়ার শব্দ শোনা যায় গুলির আগে ।
৫।সাক্ষী দের দুর্বল বলে রায় দেন জজ ।

এবার কিছু প্রশ্ন/ কিছু সম্ভাব্যতা :

১।অনুপ্রবেশকারী কে চারটি গুলি কেন করা হল-মৃত্যু নিশ্চিত করা জন্য ?
২।অনুপ্রবেশকারী কে আটকে রেখে তিনি পুলিশে কল করতে পারতেন।
৩।প্রতিবেশীরা চিৎকার শোনার কোন সন্তোষজনক জবাব অস্কার দিতে পারেননি কেন?
৪।১৪ই ফেব্রুয়ারী ভালাবাসা দিবসে অত্যন্ত দু:খজনক দৃষ্টান্ত হিসেবে বান্ধবীকে শত্রু মনে করে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া ।

জেরা করার সময় একেক বার একেক রকম কথা বলেন অস্কার।
প্রথমে বলেন অনুপ্রবেশকারী ভেবে গুলি চালান , পরে বলেন অনিচ্ছাকৃত ভাবে গুলি বেরিয়ে যায় ।
আদালতে অস্কার স্বাভাবিক ছিলেন কিন্তু যখন ফাইনাল ভার্ডিক্ট দেয়া শুরু হয় তখন তার চেহারা দেখার মত হয়।
বোঝাই যায় অস্কার তার নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ।

এবার কিছু সম্ভাবনা/সম্ভাব্য ঘটনা:
১।রাতে বান্ধবীর সাথে ঝগড়ার/বাকবিতন্ডার পরে খুনটি করা হয়।
২।অস্কার বন্দুকবাজ ছিলেন তাই রাগের মাথায় এ ধরণের ঘটনা ঘটাতে পারে
৩।অস্কারের বান্ধবী অন্য কোন সম্পর্কে জড়িয়েছিল।(তিনি উঠতি মডেল ছিলেন)
৪।বান্ধবীকে খুন করে বাথরুমের ভেতর আত্মহত্যা সাজানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা ছিল।

তার এভাবে খালাস পাওয়ার কারণ হিসেবে বলা যায় পুলিশ এর প্রমাণ সংগ্রহে গাফেলতি (এর আগে একটি Platinum খনি শ্রমিক ধর্মঘটে ৪৫ জন কে গুলি করে হত্যা ও কয়েক জন বন্দী কে গাড়ীর পেছনে বেধে টানা-হ্যাচড়া করা হয় ঐ ঘটনায় কোন উল্লেখযোগ্য শাস্তি হয়নি )।
পর্যাপ্ত প্রমাণ এর অভাবে খালাস পেয়ে যান তিনি।
এছাড়া জজ সহানুভুতিশীল ছিলেন বলে মনে করা যায় ।

কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সুপ্রীম কোর্ট এর একজন অবসর প্রাপ্ত বিচারক বিবিসিকে বলেছিলেন এ ধরনের প্রমানের অভাবের ঘটনায় এরকম রায় সেদেশে স্বাভাবিক।
আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় একজন দোষী রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।
মজার ব্যপার হচ্ছে অস্কার খুব ভাল ভাবে আটকে গেছেন ট্রাফিক পুলিশএর গতিসীমা লংঘন এর পৃথক একটি অভিযোগে ।

হয়তো লঘু সাজা দেয়া হবে এবং মুক্ত হবেন কিন্তু পারবেন কি অস্কার নিজেকে ক্ষমা করতে ?

হয়তো একদিন সত্য বেরিয়ে আসবে , এ প্রত্যাশা করছি ।

১২/৯/২০১৪

অস্কার পিস্টোরিয়াস এর নিজস্ব সাইট


সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×