somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাবেয়া রাহীম
কস্তুরী খুঁজে ফিরে তার সুবাস..হায় মৃগ, যদি জানত গন্ধ কার! পাখিও খুঁজে ফিরে শিস--হায়, যদি সে জানত! সুর থাকে ভেতরে, অন্তরে.। চুপটি করে এই তো এখনো ডাকে, ব্যকুল হয়ে - ডাকে আর ডাকে ।।

নৈঃশব্দ্যের নোনাজল (তৃতীয় ও শেষ পর্ব)

২৯ শে মে, ২০১৬ সকাল ৭:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


"আমি চলে যাচ্ছি আজই----কিছু কথা ছিল বলার---
শোনার সময় হবে কি-- থমথমে জীবনের বাঁকে জমা আছে অনেক স্মৃতি তাঁর কিছু
হৃদয়ের পাতায় লেখা হয়ে গেছে----পড়বে কি?
যদি দেখা হয়,
যদি হৃদয়ে সমুদ্র নিয়ে আসি— ফিরিয়ে দেবে?"

ভয়েস ম্যাসেজ থেকে ভেসে এলো চিরচেনা আকুল করা খুব আপন কন্ঠ তোমার ;
মুহূর্তেই দিন তারিখ মিলাতে যেয়ে বুঝতে পারি আমি দেরি করে ফেলেছি !!
কম্পিত--দ্বিধান্বিত আমি অজানা আনন্দ আর ভাললাগায় ভেঙ্গে হই চুর চুর
প্রতীক্ষিত চোখ দুটো একসাথে আবেগকে বড্ড বেশী আন্দোলিত করছে এই মুহূর্তে;
সমস্ত শরীর ভেঙে নৈঃশব্দ্যের নিঃসীম ঘরে আমার নিথর দেহ পড়ে আছে যেন।


তোমাকে দেখার পর কেমন আছি বুঝতেই পারিনা
তোমার হাত গলে পড়ে যাওয়া সেই চিরকুট--বুকে আগলে রেখে
রাতের অন্ধকারে এক বুক বাউল হাহাকারে জেগে থাকি
আজকাল নির্জনতাকে খুব আপন মনে হয়---কারন তো একটাই--
-খুব নিঃশব্দতায় আমি যে তোমায় খুঁজে পাই--অনিকেত!

হাডসন নদীর তীর ঘেঁষা ঠিক পশ্চিম ধারেই আমার বাড়ী
বাড়িটির পাশ দিয়ে সুনসান নীরব রাস্তাটি চলে গেছে চেরী বাগানে
গোলাপি বর্ণের চেরীফুল গুলো মন মাতিয়ে রাখে আমার উদাসী একাকী সারাবেলা
মৌমাছিগুলোও খেলে বেড়ায় নিজস্ব উচ্ছ্বাসে
না বলা অনেক চাপা স্মৃতি মস্তিষ্কে খোচা দিতে থাকে
এতোটা বিষাদ কেন আমূল আমোদে !
পৃথিবীটাকে মনে হয় বিশাল শ্মশান--কখনো আমি দিচ্ছি আগুন তোমার চিতায়;
আবার কখনো আমার কবর দিচ্ছো তুমি খুঁড়ে!
হৃদ স্পন্দন অনুভব করা যায়---এতটা কাছে কি এসেছিলাম---কখনো ?
খুব বেশি স্তব্ধ হবার জন্যই এতবছর অস্থির ছিলাম বোধহয়,
মায়াবী নিবিড় এই বিকেল কেবলই তোমাকে ভাবায়
তুমি টের পাও কি---অনি ?

কথা দিয়েছিলাম থাকব ভালো, কথা নিয়েছিলে থাকবে ভালো,
জানিনা পারলাম কতটা !
মনে পড়ে---যে রাতে প্রথম ছুঁয়ে ছিলে আমায়!
প্রতি রাতেই চোখ বন্ধ করে আমি ঠিক পৌঁছে যাই সেই সময়ে ,
নির্বাক সময় কথা বলেছিলো তোমার চঞ্চল হাতের ছোঁয়ায়
ভালোলাগায় শ্বাস ভারি হয়েছিল---ভিজেছিল চোখের পাতা
তোমার গায়ের গন্ধ মেখেছিলাম আমার অস্তিত্বের প্রতিটি কণায় ।
সে রাতে বলেছিলে তুমি---আমাদের প্রেম চিরশাশ্বত
তোমারও কি পড়ে মনে--অনি?

কবিতার খাতা ক্রমশঃ ভারি হতে রয় তোমায় না পাওয়ায়
একাকীত্বের নির্মম বেদনা জানাতে চাইনা তোমায়
শুধু জেনে রেখো অনেক মানুষের ভীড়ে
হঠাত একা হয়ে যাই তুমি পাশে নেই বলে
ভালবাসি কিনা জানিনা, কাছে এসে হাতে রাখো হাত
বুঝে যাবে বুকের স্পন্দনে,
আমার অশ্রুজল কত রাত জাগার সাক্ষী তোমারি প্রতিক্ষায় !
তোমার প্রতি জমে থাকা অভিমান, অভিযোগ,
বিক্ষিপ্ত ভাবনাগুলো, সারাক্ষণ কেমন নেশাগ্রস্থ করে রাখে
এটাই কি ভালোবাসা, তোমার আমার?

তোমাকে না বলা কথা গুলো লিখে যাই শব্দ আকারে
কোথাও কেউ নেই, শব্দহীনতা--আর দুরত্ব নিয়ে
চোখ মুদে কল্পনায় ভাসি তোমায় জড়িয়ে,
ঘরময় পদচারণার শব্দ, ঘুমন্ত নিঃশ্বাস,
ঠোঁটের ছোঁয়া লাগা খালি চায়ের মগ নিয়ে আছে টেবিলের দখল
উজ্জল সোনালি আলোয় উদ্ভাসিত তোমার মুখাবয়ব!
না থেকেও তুমি আছো আমার সকল শুন্যতা জুড়ে
তোমার অনুপস্থিতিই তোমার অস্তিত্বের বেদনাসিক্ত প্রমান।।

বিবাগী ধ্যানমগ্ন তুমি তোমার ধ্যান ভাঙানোর পণ নিয়ে সাধনার অতলে হারাতে চাই---
একসাথে দগ্ধ হওয়ার ইচ্ছেতে--তোমার বুকের চিতায় ঝাঁপিয়ে নিজেকে পোড়াতে চাই,
কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষায়--তোমার জোড়া ভুরুর মাঝখানে
এঁকে দিতে চাই তপ্ত অধরের গভীর ছোঁয়া !!

কবিতার বুনো ঘ্রাণে, শব্দ, ছন্দ,পংতিগুলোতে
মিশে আছো তুমি বুকের স্পন্দনে,…অনিকেত!
আমার নৈঃশব্দের অভিমানে প্রতিনিয়ত আমি আছি--
তোমার অপেক্ষায় .
"সমর্পণ " কথাটি বুঝেছি তোমায় ভালোবেসে
ভালোবেসে আমাদের ভালোবাসা এখনো জীবন্ত করে রেখেছি
ফিরতেই হবে যে তোমাকে
এ জন্মে না হলেও পরজন্মে ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০০
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×