somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু থেকে কি আমাদের পরিত্রাণ নেই??

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজকে প্রথম আলোতে দু'টো খবর দেখলাম। ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে ২৬৫ জনের মৃত্যু আর বাড়ির ভেতর বাস ঢুকে কেড়ে নিল ঘুমন্ত স্বামী–স্ত্রীর প্রাণ! নিহত দম্পতির ছোট ছোট তিন ছেলে মা-বাবাকে হারিয়ে পথের ধারে বসে কাদছে! :(

আমাদের যোগাযোগ মন্ত্রীও সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, পাখির মত, মাছির মত সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মরছে! মহাসড়কে (যদিও বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে কোন মহাসড়ক নেই, আছে মৃত্যু ফাদ!) নামলেতো এখন শুধু আল্লাহ আল্লাহ করি, যাতে জান নিয়ে ঘরে ফিরতে পারি। তা এই পরিস্থিতি থেকে কি আমাদের মুক্তি নেই?

একটা দুঃখজনক সত্য কথা, যেটা আমরা আসলে চিন্তাই করি না, গাড়ী দুর্ঘটনা হলেই আমরা চালককে দোষ দিয়ে আমাদের মনের ঝাল মিটিয়ে নেই (আমাকে ভুল বুঝবেন না, চালকের ভুল হতেই পারে), কিন্তু এর পরে আমরা আমাদের মাথা আর খাটাই না! অনেকগুলো সমস্যা আছে যেগুলোর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আমাদের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়- ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

১। দুনিয়ার আর কোন দেশে মহা সড়কের ঠিক পাশেই ঘর বাড়ি আছে কি না সন্দেহ! এটা সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব।
২। মহাসড়কের ডিজাইন হতে হবে বিপজ্জনক বাক মুক্ত। বিপজ্জনক বাক পাহাড়ী এলাকায় থাকতে পারে, সমতলে নয়।
৩। মহাসড়ক হতে হবে ২ থেকে ৩ লেইন প্রতি পাশে, মাঝখানে ডিভাইডার থাকতে হবে। পাশে সার্ভিস এরিয়া থাকতে হবে যেখানে গাড়ী নষ্ট হলে বা কোন জরুরী প্রয়োজনে পার্ক করা যাবে।
৪। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে (শহরের কাছাকাছি এলাকগুলোতে বিশেষ করে) সড়ক বাতি থাকতে হবে।
৫। মহাসড়কে নির্ধারিত গতি উল্লেখ থাকতে হবে, স্পিড ক্যামেরা থাকতে হবে যার মাধ্যমে উচ্চ গতির গাড়ীকে জরিমানা করা হবে।
৬। সিট বেল্ট পড়া বাধ্যতামূলক করতে হবে, মহাসড়কে একটু পর পর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকতে হবে।
৭। মহাসড়কে সুস্পষ্ট রোড সাইন থাকতে হবে।
৮। দ্বিমুখী চলাচলের মহাসড়কে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকার সুস্পষ্ট রোড মার্কিং থাকতে হবে।
৯। চালকদের যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে যাতে তারা ট্রাফিক সাইন বোঝে এবং সেটা মেনে চলার যোগ্যতা রাখে। শুধু গরু ছাগল চিনলে হবে না।
১০। মহাসড়কে পথচারীরা শুধু মাত্র ফুট ওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হবেন। শহরের মধ্যে পথচারী ফুট ওভার ব্রিজ ছাড়া নির্ধারিত জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হতে পারেন।
১১।পথচারীর মধ্যে এই সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, হঠাৎ করে লাফ দিয়ে রাস্তা পারাপার নয়। নির্ধারিত ফুট ওভার ব্রিজ/জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হতে হবে। দ্রুত গতির একটি গাড়ীকে হঠাৎ ব্রেক করা সম্ভব হয় না। এজন্য প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
১২। চালককে বোঝাতে হবে, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে যখন কেউ রাস্তা পার হতে চাইবে, তখন চালককে গাড়ীর গতি কমাতে হবে বা ব্রেক করে থামাতে হবে। এজন্য প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।


এরপরেও চালকের ভুলেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, কারণ তারা রোবট নয়, মানুষ। কিন্তু উপরে আমি যা উল্লেখ করেছি, সেটাই হল মহাসড়কের নূন্যতম স্ট্যান্ডার্ড যেটা আমাদের দেশে কোথাও নেই। আর সেকারণে দুর্ঘটনা ঘটলে তার ইমপ্যাক্টটা হয় বেশী। আমি ওপরে যা বলেছি সেটা যদি কার্যত আমাদের দেশে থাকত, তাহলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেক অনেক কম হত। এছাড়া বাস কোম্পানির মালিকরা তাদের চালকদের কিভাবে ব্যবহার করছেন, সেটাও বিবেচ্য বিষয়। তারা কি তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিচ্ছেন কিনা সেই সচেতনতা বাস মালিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের সংস্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অডিট টিম থাকতে হবে, যারা এই ব্যাপারগুলো পরীক্ষা নিরিক্ষা করবে মাঝে মাঝে।

আমি বিশ্বাস করি না, মহাসড়ক নির্মানের সামর্থ্য আমাদের নেই। যেটা আছে সেটা হল আমাদের কর্তাব্যাক্তিদের সদিচ্ছার অভাব। তারা নিজেরা দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়ান, কিন্তু নিজের দেশকে উন্নত করার ইচ্ছে তাদের অধিকাংশেরই নেই, দুঃখজনক হলেও সত্য।

আমি ওপরে যা উল্লেখ্য করলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন না করে আমরা যতই গলা ফাটাই, এই পরিস্থিতির উন্নতি কখনোই হবে না। আমরা শুধু কেদেই যাব, পত্রিকা/ব্লগ ভরে ফেলব আলোচনা সমালোচনায়, কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হবে না... :|
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×