মিশরের "টুইটার রেভিউলিশন" এর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে আপনাদের? রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ার এর সেই আন্দোলন, যেখান থেকে হোসনে মোবারকের পতনের উপাখ্যান রচিত হয়েছিল? কিংবা তিউনিসিয়া থেকে শুরু হওয়া সেই "আরব বসন্ত" (Arab Spring)? কিংবা বাংলাদেশের শাহবাগ চত্বরের আন্দোলন? বাই দ্য ওয়ে, কিছু স্বার্থান্বেষী আর লোভী ইমম্যাচিউরড ঠুনকো দেশপ্রেমিকদের কল্যানে শাহবাগের আন্দোলন যদিও পরবর্তীতে একটি ভিন্ন ডাইমেনশনে হাঁটতে শুরু করে, তদুপরি নিশ্চয়ই অনেকেই একমত হবেন যে সরকার, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ অনেককেই তা নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছিল।
বিষয়গুলো কেন বললাম, একটু খোলাসা করে নেই। অনেকেই আমাদের বলে থাকেন, "আপনারা শুধু ফেসবুকে ফাল পারেন, সাহস থাকলে রাস্তায় আসেন! মানুষের জন্য কিছু করে দেখান।" ফেসবুক/টুইটারে ফাল পারলেও যে শাসকের ভিত নড়িয়ে দেয়া যায় এবং শাসিতের রক্তে আন্দোলনের দোলা প্রবাহিত করা যায়, উপরের ঘটনাগুলি তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথাই ধরুন না। শুধু যারা অস্ত্র হাতে সশস্ত্র জুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তারাই কি একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা? স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যারা গানে -কবিতায়-চরমপত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছিলেন তারা কি মুক্তিযোদ্ধা নন?
রাজন হত্যার পর, এত তাড়াতাড়ি সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে খুনী কামরুলকে সৌদি আরবে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল, কেন জানেন? সরকারের উপর এই চাপ কেন এবং কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল? বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই যে ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, কিসের মাধ্যমে এই দাবীকে একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়েছে, আশাকরি সবাই আঁচ করতে পারেন। এসবের পেছনে আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
সামাজিক অবস্থান, চারপাশের প্রেক্ষাপট আরও অনেক অনেক সীমাবদ্ধতা যার সবকিছু হয়ত গুছিয়ে বলাও সম্ভব নয়, যেগুলোর কারনে সবসময় আমরা রাজপথে নামতে পারিনা। সাধ থাকলেও তা সবসময় সাধ্যে পরিণত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর তাই, ফেসবুক-টুইটার-ব্লগই আমাদের কাছে রাজপথ। কথা দিচ্ছি এই রাজপথ উত্তাল থাকবে সবসময়ই, সকল দুঃশাসন আর অনাচারের বিরুদ্ধেই।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



